Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

অস্কার স্পটলাইট : একটি কুকুর, জন সিনা ও এআই

সেরা কসটিউম ডিজাইনারের নাম ঘোষণা করতে উদোম গায়ে অস্কার মঞ্চে জন সিনা
সেরা কসটিউম ডিজাইনারের নাম ঘোষণা করতে উদোম গায়ে অস্কার মঞ্চে জন সিনা
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

অস্কার আসর মানে গ্ল্যামারের ঝলক।   

তারকাদের লাল গালিচার পোশাক অস্কার শেষেও থাকবে আলাপে। কিন্তু কোনো তারকা যদি পোশাক ছাড়াই মঞ্চে উঠে পড়েন, তাহলে কী বলবেন? কিংবা নিজের নামে বরাদ্দ এক আসনে বসে থাকে যদি একটি কুকুর? অথবা এআই চলে আসার পর বাস্তবের অভিনয় শিল্পীদের এরপর অস্কার পাওয়ার কোনও সুযোগ রইল কি?  

সেরা সিনেমা, সেরা অভিনয়শিল্পী আর সেরা পরিচালকের অস্কার অবয়ব যাদের হাতে উঠেছে সেসব নিয়ে আলাপ চলতেই থাকবে। তবে অস্কারের ৯৬তম আসরে তিনটি বিষয় নজর কেড়েছে সকাল সন্ধ্যার।

‘অ্যানাটমি অব আ ফল’ সিনেমার তারকা কুকুর

‘অ্যানাটমি অব আ ফল’ সিনেমায় একটি সাদা-কালো কুকুর নজর কেড়েছিল সবার। স্নুপ চরিত্রে অভিনয় করা সেই কুকুরটি এখন তারকা।

গলায় কালো বো-টাই পরে বসে অস্কার অনুষ্ঠান উপভোগ করেছে মেসি

বর্ডার কলি জাতের কুকুরটির বয়স সাত বছর আর নাম হলো মেসি। অনেকেই বলছিল, অস্কারে জায়গা হবে না মেসির। এসব কানাকানি উড়িয়ে দিয়ে উল্টো তারকাদের মাঝে নিজের জন্য আসন পেয়েছে ভালো আচরণের প্রশিক্ষিত মেসি। লাল রঙের মখমলি আসনে গলায় কালো বো-টাই পরে বসে অস্কার অনুষ্ঠান উপভোগ করেছে মেসি। মাঝে মাঝে ঘাড় ফিরিয়ে হাসি দিয়ে ফটোগ্রাফারদের ছবি তোলার সুযোগও দিয়েছে।  

অনুষ্ঠান চলাকালে ক্যামেরা কিছুক্ষণের জন্য স্থির ছিল মেসির দিকে। তখন সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার নিচ্ছিলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। আর ক্যামেরা বলছিল, ওই সময় মেসির দুই পা এমন এভাবে তোলা ছিল যেন সে তালি বাজিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে।

মেসির প্রশিক্ষক লরা মার্টিন দ্য হলিউড রিপোর্টারকে বলেন, “ফ্রান্সে কিছু সাক্ষাৎকার হয়েছিল; কিন্তু আমেরিকায় তার থেকেও বেশি কিছু হলো। কুকুরটি আর তার অভিনয় যেভাবে নজরে এসেছে, এসব তো আমাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল। ”

গত মে মাসে কানস ফিল্ম ফেস্টিভালে পাম ডগ অ্যাওয়ার্ড জিতেছিল মেসি। এবার অস্কারে অবশ্য পুরস্কার বাগাতে পারেনি এই কুকুর। তবে তার অভিনীত অ্যানাটমি অব আ ফল সিনেমা পাঁচটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। এরমধ্যে বেস্ট অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে জিতে নিয়েছে এই সিনেমা।  

মঞ্চে উদোম জন সিনা

মঞ্চে তখন সেরা প্রডাকশন নকশা, সেরা মেকআপ, সেরা কেশবিন্যাস এবং সেরা কসটিউম ডিজাইনারের নাম ঘোষণা পর্ব শুরু হবে বলে জানালেন সঞ্চালক জিমি কিমেল।

আর তা করতে গিয়ে শুরু হলো এক নাটক; পুনরাবৃত্তি হলো ১৯৭৪ সালে অস্কার মঞ্চের একটি ঘটনা। ওই সালে বসেছিল অস্কারের ৪৬তম আসর। অনুষ্ঠান চলাকালে আলোকচিত্রী রবার্ট ওপেল কোনো পোশাক ছাড়াই মঞ্চের একদিক থেকে আরেকদিকে হেঁটে যান।

ওই ঘটনার ৫০ বছর পূর্তিতে এবার বিবস্ত্র হয়ে সামনে এলেন অভিনেতা ও কুস্তিগীর জন সিনা।

অবশ্য জিমি কিমেল তাকে মঞ্চে ডাকার পর মঞ্চের একটি দেওয়ালের পেছনে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন তিনি। তারপর সঞ্চালককে বলেন,  “আমি এভাবে খালি গায়ে মঞ্চে যাবো না।”

জিমি কিমেল জোরাজুরি করলে জন সিনার পাল্টা জবাব ছিল, “পুরুষের শরীর হাসির বিষয় না।”

শেষ পর্যন্ত অবশ্য আড়াল থেকে বার হয়ে আসেন জন সিনা। গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। শুধু লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য সামনে একটি চারকোনা কাগজের টুকরা ধরে রেখেছিলেন; তাতে লেখা ছিল কসটিউম ডিজাইন।

বিজয়ীর নাম ঘোষণা করার মাইকে জন সিনা মাইকে বলেন, “কসটিউম আসলে খুব জরুরি।”

জন সিনা অবশ্য এরপর খুব বেশিক্ষণ উদোম ছিলেন না। লম্বা চাদরের মতো কাপড় দিয়ে তার শরীরের নিচের অংশ পেঁচিয়ে দেওয়া হয়; কাঁধ ও বুকের একদিকে ঢেকে দেওয়া হয়।

এসব কাণ্ডের মধ্যেই ‘পুওর থিংস সিনেমা’র জন্য সেরা কস্টিউম ডিজাইনারের পুরস্কার ঝুলিতে পুরে ফেলেন হলি ওয়েডিংটন।

এআই চুক্তিতে স্বস্তি অস্কারে

গত বছর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এক ঐতিহাসিক চুক্তির পরই ধর্মঘট থেকে সরে আসে হলিউড তারকারা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ এআই প্রযুক্তির ক্ষতি মুখে পড়া অভিনয়শিল্পী এবং লেখক-চিত্রনাট্যকারদের অধিকার নিয়ে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে আন্দোলনে নামেন তারা। চুক্তিতে বলা ছিল, অভিনয়শিল্পীদের ডিজিটাল নকল করতে হবে অনুমতি নিতে হবে এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।  

অস্কারের ৯৬তম আসরে ডলবি থিয়েটারে চতুর্থবারের মতো উপস্থাপনা করতে গিয়ে ওই চুক্তির কথা মনে করেন জিমি কিমেল।

মঞ্চে তিনি বলেন, “এআই থাকায় অভিনয়শিল্পীদের কাজ থেকে বাদ পড়ার শংকার মেঘ কেটে গেলো এই চুক্তির কারণে।”

“বয়স্ক শিল্পীরা এখন সুদর্শন তরুণ তারকাদের কারণে কাজ হারানোর পুরনো ভয় নিয়ে কপালে ভাঁজ ফেলার দিনে ফিরে যেতে পারেন।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত