Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

ইরান-ইসরায়েল : সমর শক্তিতে কে এগিয়ে

প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

ছায়াযুদ্ধ শেষ; বলা যায় যে এখন সরাসরি যুদ্ধেই নেমেছে ইরান ও ইসরায়েল। তাদের সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে করে তুলেছে অস্থির।

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের মধ্যে সিরিয়ার দামেস্কে সম্প্রতি ইরানি কনস্যুলেটে হামলা হয়। তার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে শনিবার দেশটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোটায় ইরান।

মাঝে ইরাক, জর্ডানের এপার থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের এমন হামলা এবারই প্রথম; যদিও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধযুদ্ধভাব চলছে বহু দিন ধরে।

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান প্রায় ৩০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েল দাবি করছে, এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ৯৯ শতাংশই তার দেশে পৌঁছনোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। জর্ডানও কিছু ড্রোন নিষ্ক্রিয় করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এই আলোর ঝলকানি ইসরায়েলকে তাক করে ইরানের ড্রোন হামলার কারণে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসলে ইসরায়েলই চেয়েছিল যে ইরান সরাসরি হামলা করুক। তাহলে তারা ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না করার অজুহাত হিসেবে এটাকে ব্যবহার করতে পারবে।

ইরানের হামলার পর পাল্টা হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা বৈঠকেও বসেছিল। তবে কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায় যোগ দেবে না।

দেশ দুটির মধ্যে সরাসরি কোনও সীমান্ত না থাকলেও উত্তেজনা বাড়লে তাদের একে অন্যের মারাত্মক ক্ষতি করার সক্ষমতা রয়েছে। উভয়েরই রয়েছে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ ও নৌ যুদ্ধ সরঞ্জাম। বলা যায়, সামরিক দিক থেকে দুই দেশই শক্তিশালী।

দুটি দেশই বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তিধর ২০টি দেশের মধ্যে রয়েছে বলে বিবিসির পর্যবেক্ষণ। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের পরিসংখ্যানে সামরিক সক্ষমতায় ইরান ইসরায়েলের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়ে আছে। সামরিক শক্তিতে বিশ্বে ইরানের অবস্থান চতুর্দশ, ইসরায়েলের অবস্থান সপ্তদশ।

চোখ বোলানো যাক ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক শক্তির তুলনায়-

সৈন্য সংখ্যা

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে অনুমান করে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মোট নিয়মিত সেনা সংখ্যা ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০। আর রিজার্ভ সেনা সংখ্যা ৪ লাখ ৬৫ হাজার, যাদের বেশিরভাগকে ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ডাকা হয়েছে। গাজা সীমান্তে বর্তমানে ৩ লাখ সেনা মোতায়েন রয়েছে।

ইসরায়েলের স্থল বাহিনীতে নিয়মিত সেনা প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার, রিজার্ভ সেনা প্রায় ৪ লাখ। বিমান বাহিনীতে নিয়মিত সেনা ৩৪ হাজার আর রিজার্ভ সেনা ৫৫ হাজার। নৌবাহিনীর নিয়মিত সেনা ৯ হাজার ৫০০ আর রিজার্ভ সেনা ১০ হাজার।

ইসরায়েলের নিয়মিত সামরিক বাহিনীতে দেড় লাখের বেশি সৈন্য রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার নিয়মিত সৈন্য রয়েছে। এর মধ্যে, সেনাবাহিনীতে আছে ৩ লাখ ৫০ হাজার, বিমানবাহিনীতে ৩৭ হাজার, নৌবাহিনীতে ১৮ হাজার, আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ১৫ হাজার।

এছাড়া ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সেনা সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার। আইআরজিসির স্থল বাহিনীতে ১ লাখ ৫০ হাজার, আধাসামরিক বাহিনীতে ৪০ হাজার, নৌবাহিনীতে ২০ হাজার এবং বিমান বাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ১৫ হাজার সেনা রয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আলাদা আলাদা স্থল, বিমান ও নৌ বাহিনী রয়েছে। আইআরজিসি মূলত ইরানের সীমান্ত নিরাপত্তার দেখভাল করে।

আইআরজিসির অধীনে কুদস ফোর্স নামের একটি বিশেষ বাহিনীও রয়েছে। কুদস ফোর্স মূলত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের সশস্ত্রকরণ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার দায়িত্বে থাকা একটি বিশেষায়িত ইউনিট। ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের মধ্যে রয়েছে, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, সিরিয়া ও ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী এবং গাজার হামাস ও ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ।

এসব ছাড়াও সংকটের সময় ডাকার জন্য ইরানের অন্তত ৩ লাখ ৫০ হাজার প্রশিক্ষিত রিজার্ভ সেনা রয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার নিয়মিত সৈন্য।

তবে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের হিসাব মতে, ইরানের সব বাহিনী মিলিয়ে মোট সেনা আছে ১১ লাখ ৮০ হাজার। আর ইসরায়েলের মোট সেনা সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজার।

ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনীগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হিসাবে গণ্য না হলেও তারা ইরানের আঞ্চলিক মিত্রবাহিনী হিসেবে বিবেচিত হয়। যুদ্ধের জন্য সদা প্রস্তুত এই সশস্ত্র বাহিনীগুলো আদর্শিকভাবে ইরানের অনুগত এবং যুদ্ধ লাগলে দেশটির সাহায্যে এগিয়ে আসবে।

বার্লিনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ইরানের সামরিক শক্তি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হিনজ বলেন, “ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তার প্রতি অনুগত সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যে ধরনের সহায়তা ও সিস্টেম সরবরাহ করেছে তা সত্যিই নজিরবিহীন।

“তাই তাদেরকেও ইরানের সামরিক সক্ষমতার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে, যার ইরানের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।”

সামরিক বাজেট

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাব মতে, ২০২২ সালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল প্রায় ২৩.৪ বিলিয়ন বা ২৩৪০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বছরে ৩.১৮ বিলিয়ন বা ৩১৮ কোটি ডলার দেয়।

অন্যদিকে, সে বছর ইরানের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন বা ৬৮০ কোটি ডলারের।

ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান।

তবে বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেট হলো ২৪৪০ কোটি ডলারের। অন্যদিকে ইরানের বাজেট ৯৯৫ কোটি ডলারের। সামরিক ব্যয়ের দিক দিয়ে ইরান বিশ্বে ৩৩তম অবস্থানে আর ইসরায়েল ১৯ নম্বরে।

সমরাস্ত্র

উভয় দেশেরই নিজস্ব বড় প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে। ছোট অস্ত্র ও ট্যাঙ্ক থেকে শুরু করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সব কিছুই তৈরি করতে পারে তারা। ইসরায়েল তার প্রতিরক্ষা খাত গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায়। অন্যদিকে, কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান প্রধানত তার প্রতিরক্ষা চাহিদার বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণভাবেই মিটিয়েছে।

ইসরায়েলের একটি ‘ট্রাম্প কার্ড’ হলো পারমাণবিক অস্ত্র। ইসরায়েল তাদের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনওটাই করে না। তারা এ বিষয়ে ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতা বজায় রাখে। তবে ধারণা করা হয়, ইসরায়েলের কাছে ৮০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে, যেগুলো দিয়ে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হামলা চালানো সম্ভব।

ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা না থাকলেও তার তুরুপের তাস হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয়। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে পশ্চিমাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।

এই সব ড্রোনই ইসরায়েলের দিকে ছুড়েছে ইরান।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ইরানের সামরিক কৌশল হলো প্রতিরক্ষামূলক। তারা নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষার বিকাশের ওপর জোর দেয়। দেশটি স্পিডবোট ও ছোট ছোট ডুবোজাহাজের একটি বড় বহর তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তারা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে সক্ষম।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের কাছেই সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও দেশটির কাছে রয়েছে। এসবের মাধ্যমে ইসরায়েল সহ মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে ইরান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান রাডারকে ফাঁকি দিয়ে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ মাইল পর্যন্ত উড়ে গিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোনের বিশাল ভাণ্ডার তৈরি করেছে। দেশটি তাদের শক্তিশালী ড্রোনের একটি বড় রপ্তানি ব্যবসাও গড়ে তুলেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের ড্রোন ব্যবহার করছে এবং সুদানের সংঘাতেও তাদের তৈরি ড্রোন সামনে এসেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্রাগারগুলো দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলো মাটির গভীরে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা দ্বারা সুরক্ষিত, ফলে বিমান হামলার মাধ্যমে ধ্বংস করাও কঠিন।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের মোট সামরিক বিমানের সংখ্যা ৫৫১টি আর ইসরায়েলের আছে ৬১২টি। এর মধ্যে ইরানের কাছে যুদ্ধ বিমান আছে ১৮৬টি আর ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান আছে ২৪১টি। ইরানের অ্যাটাকিং বিমান সংখ্যা ২৩টি যেখানে ইসরায়েলের আছে ৩৯টি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার বড় অস্ত্র আয়রন ডোম, যে ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

ইরানের হেলিকপ্টার আছে ১২৯টি আর ইসরায়েলের ১৪৬টি। ৪৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার নিয়ে ইরানের চেয়ে শক্তিশালী ইসরায়েল। ইরানের অ্যাটাক হেলিকপ্টারের সংখ্যা ১৩টি।
ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের দিক থেকে ইসরায়েলের চাইতে এগিয়ে আছে ইরান। ইসরায়েলের ট্যাংক আছে ১৩৭০টি, আর ইরানের ১৯৯৬টি।

তবে আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের ট্যাংক সংখ্যা ২ হাজার ২০০টিরও বেশি। সাঁজোয়া যান আছে ইরানের ৬৫ হাজার ৭৬৫টি আর ইসরায়েলের আছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারে তথ্য বলছে, নৌশক্তির দিক থেকে এগিয়ে আছে ইরান। দেশটির ১০১টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে যেখানে ৭টি ফ্রিগেট এবং ২১টি টহল জাহাজ আর ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজ সংখ্যা ৬৭টি।

এর মধ্যে টহল জাহাজ আছে ৪৫টি এবং ইসরায়েলের কোনও ফ্রিগেট নেই। সাবমেরিনের দিক থেকেও ইরান শক্তিশালী। দেশটির সাবমেরিন আছে ১৯টি, যেখানে ইসরায়েলের সাবমেরিন আছে ৫টি।

ইরানের দুর্বলতা

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবদনে বলা হয়েছে, ইরানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তার বিমানবাহিনী। দেশটির বেশিরভাগ যুদ্ধবিমান শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির যুগের, যিনি ১৯৪১ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ইরানের শাসক ছিলেন। এর মধ্যে অনেকগুলো বিমান খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে। দেশটি ১৯৯০-র দশকে রাশিয়া থেকে একটি ছোট নৌবহরও কিনেছিল।

এছাড়া ইরানের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যানগুলো পুরনো এবং দেশটিতে মাত্র কয়েকটি বড় নৌযান রয়েছে। আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছেন, লোহিত সাগরে মোতায়েন দুটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী জাহাজ সাভিজ ও বেহশাদ হামলার জন্য ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজ শনাক্ত করতে হুতিদের সহায়তা করেছে।

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা

১৯৪৮ সাল থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধ ও বিদ্রোহের সঙ্গে লড়াই করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী হিসাবে বিবেচিত।

বলা হচ্ছে, ইরানের ট্যাঙ্কগুলো পুরনো হয়ে পড়েছে।

ইরানেরও যথেষ্ট যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পরপরই ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় ইরান। প্রায় ১০ বছর ধরে চলা ওই যুদ্ধে ৬ লাখ ইরানি ও ৫ লাখ ইরাকি সৈন্য নিহত হয়। এছাড়া ১ লাখ এর বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল।

এরপর গত কয়েক দশকে ইরানের সামরিক বাহিনী একাধিক সংঘাতে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহকে দেওয়া আইআরজিসির পরামর্শ সহায়তা রয়েছে। ২০১০-এর দশকে আন্তর্জাতিক সুন্নি জিহাদিদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় সিরিয়া ও ইরাকের সরকারকেও পরামর্শ সহায়তা দিয়েছে ইরান।

কার মিত্র কে

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তাদের পরাশক্তি মিত্রদের একেবারে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সম্ভাবনা কম। ইসরায়েলের বড় মিত্র ও পৃষ্ঠপোষক হল যুক্তরাষ্ট্র, যাদের পারস্য উপসাগরীয় ও আরব অঞ্চলে আধা ডজনেরও বেশি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং ইরাক, জর্ডান, সিরিয়া ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ছোট ঘাঁটি রয়েছে।

এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী পঞ্চম নৌবহরও মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গত দুই দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও আফগানিস্তানে যুদ্ধের জন্য পঞ্চম নৌবহরকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।

ইসরায়েলের সাবমেরিন।

অন্যদিকে, ইরানের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মিলিশিয়া বাহিনীসহ রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তারা সরাসরি শত্রুতায় অংশ না নিলেও জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক ফোরামে এবং ব্রিকস ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের মতো আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক স্তরে ইরানের পাশে দাঁড়াবে। তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংঘাতের সমাধান এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকসহ অন্যান্য উপায় ব্যবহার করে ইরানের শত্রুদের শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ইরানের প্রতিপক্ষ তথা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর সরাসরি হামলা এড়িয়ে গেছে। কারণ তারা তেহরানের জটিল সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়াতে চায় না।

তবে ইসরায়েল ও ইরান আকাশ, সমুদ্র, স্থল ও সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে দীর্ঘ ছায়া যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। ইসরায়েল গোপনে ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং ইরানি সেনা কমান্ডার ও বিজ্ঞানীদের হত্যা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল পোস্টগ্রাজুয়েট স্কুলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক ও ইরানের সামরিক শক্তি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আফশোন অস্তোভার বলেন, “ইরানে আঘাত না করার আরও একটি কারণ রয়েছে। এমন নয় যে, ইরানের প্রতিপক্ষরা ইরানকে ভয় পায়। তবে তারা বোঝে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও যুদ্ধই খুব ভয়ানক।”

তথ্যসূত্র: স্পুৎনিক, আল জাজিরা, নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত