Beta
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

এবার বেসিককে নিচ্ছে সিটি

SS-City-Basic-Bank-Merger-080424
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

লোকসানে লোকসানে দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক এবার বেসরকারি খাতের সবল সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে। সোমবার (৮ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ তথ্য জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র বলছে, সেই বৈঠকে ন্যাশনাল ব্যাংক একীভূতকরণের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।  তবে সিটি ব্যাংক পছন্দ করে নেয় বেসিক ব্যাংক।  

একীভূতকরণের বিষয়ে বৈঠকে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন।

এর আগে গত ১৯ মার্চ সিটি ব্যাংকের পর্ষদকে বেসিক ব্যাংককে একীভূত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের বিষযে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলতে রাজি হননি।

সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “স্বতঃপ্রণোদিত একত্রীকরণ নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নীতি সহায়তা বাধ্যতামূলক একত্রীকরণ থেকে অনেক বেশি। একারণে সবল ব্যাংক হিসেবে কোন দুর্বল ব্যাংককে সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা যায়, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

“সিটি নিজেই ২০০৭ সালে একটা প্রবলেম ব্যাংক ছিল। আজ আমরা দেশ সেরা স্থানীয় ব্যাংক। আমরা ব্যাংক পুনর্গঠনে অভিজ্ঞ। ব্যালান্স শিট একত্রীকরণে তিন বছর সময় পাওয়া যাবে। এই তিনটা বছর ভালোভাবে কাটলে আমি আশাবাদী, সময় আরও বাড়বে।”

“আমরা যেন আরও সবল ও বড় ব্যাংক হয়ে উঠি এবং আর্থিক খাতের সংকটেও পাশে দাঁড়াতে পারি, এমন অবস্থান থেকেই ব্যাংক পুনর্গঠনে দক্ষ হিসেবে দুর্বল ব্যাংকগুলো নিয়ে আমাদের বিশ্লেষণ চলছে,” বলেন মাসরুর।

বেসিক ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেও তারা একীভূতকরণের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভায় বেসিক ব্যাংকের কেউ ছিলেন না। একীভূত হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে শুনেছেন তারা।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, সরকারি ব্যাংক ও বেসকারি ব্যাংক একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা নেই। 

তিনি বলেন, “বেসিক শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক। ব্যাংকটি যে ব্যাংকের সঙ্গেই একীভূত হোক না কেন দায়-দেনা পরিশোধের পর শেয়ার গ্রহীতাদের অংশ ফেরত দিয়ে দিলে তাদের আর কোনও দাবি থাকার কথা নয়। সেভাবেই সমঝোতা চুক্তি করা হবে।”  

একীভূত করা নিয়ে অনেক ব্যাংকের বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে এক্সিম ও পদ্মা ছাড়া এখনো কোনও ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংক মুখপাত্র।

তবে চূড়ান্ত না হলেও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) একীভূত হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।   

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও সোনালী ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে কথা শুরু হয়েছে, তবে তাও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বেসিক ব্যাংকের হাল

বেসিক ব্যাংক লিমিটেড (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র শিল্প ও বাণিজ্য ব্যাংক লিমিটেড) কোম্পানি আইন ১৯১৩ এর অধীনে ১৯৮৮ সালের ২ আগস্ট নিবন্ধিত হয়। কার্যক্রম শুরু করে ১৯৮৯ সালের ২১ জানুয়ারি। 

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালে বেসিক ব্যাংকের নিট লোকসানের পরিমাণ ৩৬৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর আগের বছর ২০১৯ সালে ব্যাংকটির নিট লোকসানের পরিমাণ ছিল ৩২৬ কোটি টাকা। গত বছরের শেষ দিকে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। যা ছিল বিতরণ করা ঋণের ৫১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসিক ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পুনরুদ্ধার, নতুন ঋণ বিতরণ এবং কম খরচে আমানত পাওয়ার পদক্ষেপ না নিলে পরিচালন ব্যয় মেটাতে পারবে না।

প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের গড় অনুপাত ৮ দশমিক ২ শতাংশ হলেও ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

নীতিমালায় যা আছে

গত ৪ এপ্রিল ব্যাংক একীভূত করার নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালায় স্বতপ্রণোদিত হয়ে ও বাধ্যতামূলক একীভূতকরণে কী কী নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

এই নীতিমালার আওতায় কোনও এক বা একাধিক ব্যাংক অন্য কোনও ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে পারবে। ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও অন্য কোনও ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে পারবে।

তবে নীতিমালায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক একীভূত হলে ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, দায়-দেনা কীভাবে মিটবে ও আমানতসহ অন্যান্য বিষয়েও বিস্তর ধারণা পাওয়া যায়নি।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিলুপ্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে একীভূত ব্যাংকের কোনও পদে রাখা যাবে না। একীভূত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ওই বিলুপ্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের কোনও কর্মকর্তাকে যদি উপযুক্ত মনে করে তাহলে নতুন করে চুক্তির ভিত্তিতে উপযুক্ত কোনও পদে নিয়োগ দিতে পারবে।

তবে হস্তান্তরকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে সরকার তার অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সমপদে বহাল বা বদলি করতে পারবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত