Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

জন এফ কেনেডির যে ভাষণ ধরে আসে ভোক্তা অধিকার দিবস

জন এফ কেনেডি।
জন এফ কেনেডি।

১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে এক ভাষণ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। তার সেই ভাষণে ভোক্তাদের চারটি অধিকারের কথা বলেছিলেন তিনি। পরে জাতিসংঘ তার সঙ্গে আরও চারটি জোড়া দিয়ে ভোক্তাদের আটটি অধিকারের স্বীকৃতি দেয়। সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেয়, কেনেডির সেই ভাষণের দিনটি পালিত হবে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে। কী ছিল সেই ভাষণে?  

সংজ্ঞা অনুসারে আমরা সবাই ক্রেতা। অর্থনীতিতে এই ক্রেতারাই সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। প্রায় প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত তাদের প্রভাবিত করে ও তারাও সেই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়। অর্থনীতির মোট ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশই ভোক্তাদের মাধ্যমে হয়। কিন্তু তারা অর্থনীতির একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী, যারা কার্যকরভাবে সংগঠিত নয়। তাদের মতামত প্রায়ই অগ্রাহ্যই রয়ে যায়।

সরকার স্বাভাবিকভাবেই সব মানুষের সর্বোচ্চ মুখপাত্র হিসেবে গ্রাহকদের চাহিদা সম্পর্কে সজাগ থাকা ও তাদের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসতে বিশেষভাবে দায়বদ্ধ। ১৮৭২ সালে ইউএস পোস্ট ব্যবহার করে প্রতারণা থেকে গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে আইন প্রণয়ন হয়। এরপর থেকেই কংগ্রেস ও নির্বাহী শাখা আরও বেশি সচেতন হয়ে উঠেছে। আমাদের রাষ্ট্রের অর্থনীতি যেন ন্যায্য ও পর্যাপ্তরূপে গ্রাহকদের স্বার্থে সেবা করে সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

এই ব্যবস্থা আমাদের চমৎকার কাজে লেগেছে। প্রতিটি নতুন প্রজন্মের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আরও বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্য ও সেবার সুযোগ পেয়েছে। ফলে আমাদের জীবনযাত্রার মান বিশ্বে সর্বোচ্চ। আগামী ২০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি আরও অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া উচিৎ।

নিশ্চিতভাবেই আমরা সৌভাগ্যবান। কিন্তু ব্যবসা বা সরকারের অদক্ষতার মতোই আমরা অতিরিক্ত খরচ সামাল দিতে পারি না। গ্রাহকদের নিম্নমানের পণ্য দিলে, দাম আকাশচুম্বী হলে, ওষুধ যদি অকার্যকর বা ক্ষতিকারক হয়, গ্রাহক সঠিক তথ্য ছাড়া পছন্দ করতে না পারলে তাদের টাকা নষ্ট হয়। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিপদে পড়ে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে তাদের আয় বাড়ানোর সমান চেষ্টার চেয়ে, তাদের আয়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের প্রচেষ্টা অধিকাংশ পরিবারের কল্যাণে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে।

প্রযুক্তির অগ্রগতি – উদাহরণস্বরূপ আমাদের খাদ্য, ওষুধ ও বাড়িতে ব্যবহৃত নানান যন্ত্রপাতি –  গ্রাহকের সুযোগের পাশাপাশি তাদের সমস্যাও বাড়িয়েছে। এটি অনেক পুরনো আইন ও বিধিবিধানকে অপ্রচলিত করেছে। তেমনি নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনও সৃষ্টি করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে একটি সাধারণ সুপারমার্কেটে প্রায় দেড় হাজার পৃথক খাবারের পদ থাকত, যা যে কোনও মানদণ্ডে চমৎকার। কিন্তু আজ সেখানে ৬ হাজারের বেশি খাবারের আইটেম পাওয়া যায়।

আশির শতাংশ প্রেসক্রিপশনে এমন ওষুধ রয়েছে, যা ২০ বছর আগেও অজানা ছিল। বাড়িতে প্রতিদিন ব্যবহৃত অনেক নতুন পণ্যই অত্যন্ত জটিল। ফলে একজন গৃহিণীকে অপেশাদার ইলেক্ট্রিশিয়ান, মেকানিক, রসায়নবিদ, বিষ বিশারদ, পুষ্টিবিদ ও গণিতবিদ হতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে করতে তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুব কমই দেওয়া হয়।

বিপণনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। গ্রাহকদের পছন্দকে প্রভাবিত করতে কৌশল অবলম্বন করে ব্যাপক বিনোদনের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। সাধারণত গ্রাহকরা জানতে পারেন না যে, ্ওষুধের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সর্বনিম্ন মান পূরণ করে কি না? তারা সাধারণত জানেন না যে, তারা ক্রেডিট কার্ডের জন্য কত টাকা সুদ দিচ্ছেন। একটি প্রস্তুতকৃত খাবারের চেয়ে অন্যটির পুষ্টির মান বেশি কি না? পণ্যের কার্যকারিতা তাদের চাহিদা পূরণ করবে কি না? অথবা বড় সাশ্রয়ী প্যাক সত্যিকারে লাভজনক কি না?

এই প্রশাসনের দেওয়া প্রায় সব কর্মসূচি – যেমন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, চিকিৎসা সেবার উন্নতি, যাত্রী কর হ্রাস, গণপরিবহন শক্তিশালীকরণ, সংরক্ষণ ও বিনোদনের ক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন এবং কম খরচে বিদ্যুৎ- ভোক্তাদের কাছে এসবের সরাসরি গুরুত্ব রয়েছে। তবে ফেডারেল সরকার গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় তার দায়িত্ব পালন করতে চাইলে অতিরিক্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে এই অধিকার অন্তর্ভুক্ত

(১) নিরাপত্তার অধিকার – স্বাস্থ্য বা জীবনের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের বাজারজাতকরণ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার।

(২) তথ্য জানার অধিকার: গ্রাহকদের বিভ্রান্তিকর বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, লেবেলিং, বা অন্য চর্চা থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাদের পণ্য সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ তথ্য পেতে হবে যাতে তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

(৩) পছন্দের অধিকার: গ্রাহকরা যতটা সম্ভব বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মধ্যে নিজেদের পছন্দ মতো কেনাকাটা করতে পারবেন। প্রতিযোগিতা থাকলে, সাধারণত মূল্য কম থাকে এবং পণ্যের মান উন্নত হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ বা পানি সরবরাহের মতো ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের ন্যায্য মূল্যে সন্তোষজনক মানের সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

(৪) শোনার অধিকার: গ্রাহকদের সরকারি নীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। তাদের মতামত পূর্ণ ও সহানুভূতিশীল বিবেচনা করা হবে। এছাড়া প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে তাদের ন্যায্য ও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

এই ভোক্তা অধিকারগুলির পূর্ণ উপলব্ধির জন্য বিদ্যমান সরকারি কর্মসূচিগুলোকে শক্তিশালী করা, সেই সরকারি সংস্থাকে উন্নত করা ও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

১৯৬১ সাল থেকে দুই বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন জন এফ কেনেডি। ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।

বিদ্যমান কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ

এই প্রশাসন গ্রাহক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলিকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন নির্দিষ্ট পদক্ষেপে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৬৩ সালের বাজেটে প্রায় প্রতিটি প্রধান গ্রাহক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

(১) খাদ্য ও ওষুধ সুরক্ষা: বর্তমানে বাজারে হাজার হাজার সাধারণ গৃহস্থালি পণ্য রয়েছে যাতে সম্ভাব্য ক্ষতিকারক উপাদান থাকতে পারে। প্রতি বছর খাদ্যের সংযোজনীয় পদার্থ, খাদ্যের রং ও কীটনাশকের মতো পণ্যের কয়েকশ নতুন ব্যবহার আবিষ্কৃত হয়, যা নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আরও ভালো সুরক্ষা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিতের জন্য, কংগ্রেসে বিবেচনাধীন বর্তমান বাজেটে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের জন্য ২ শতাংশ কর্মী বাড়ানোর সুপারিশ করেছি। এটি এই সংস্থার ইতিহাসে কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ ঘটনা। এছাড়া কীটনাশক নিবন্ধন আরও কার্যকরে কৃষি বিভাগে একটি নতুন বিভাগ স্থাপন করা হয়েছে। কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং মাংস ও হাঁস-মুরগির পরিদর্শন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

(২) নিরাপদ পরিবহন: যেহেতু আমেরিকানরা অন্য যে কোনও জাতির চেয়ে হাইওয়ে ও বিমান পরিবহন ব্যবহার করে, তাই বর্ধিত গতি ও যানজট আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে।

– ফেডারেল এভিয়েশন এজেন্সি জাতির বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করেছে এবং ভবিষ্যতের বিমান ট্রাফিকের নিরাপত্তা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি উন্নত ব্যবস্থা তৈরি করছে।

– বাণিজ্যমন্ত্রী হাইওয়ে নিরাপত্তা দপ্তর খুলেছেন। ব্যুরো অফ পাবলিক রোডস হাইওয়ে নিরাপত্তা মানদণ্ডে জনসাধারণের সমর্থনকে উন্নীত করতে, হাইওয়ে নিরাপত্তা গবেষণার ফলাফলের সমন্বিত ব্যবহার এবং রাজ্য ও স্থানীয় সরকার, শিল্প এবং সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে উত্সাহিত করতে – -স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কল্যাণ বিভাগ একইভাবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কাজ শক্তিশালী করছে।

– এছাড়া আমি বাণিজ্য বিভাগ এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে মোটর শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এই পর্যালোচনার লক্ষ্য হলো সেসব গাড়ির নকশা ও যন্ত্রাংশের পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করা, যা রাস্তায় অযথা মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে এবং আমাদের শ্বাসযন্ত্রের বাতাসের দূষণ কমাতে সাহায্য করবে। গাড়ির নতুন মডেলে এমন পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করতে মোটর শিল্পের ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপের ফলে এখনই অতিরিক্ত আইনের প্রয়োজন নেই বলে মনে হচ্ছে।

(৩) আর্থিক সুরক্ষা: ভোক্তাদের ভবিষ্যতে দামি জিনিস কেনার জন্য, আর্থিক অসুবিধার সময়ে, সন্তানদের শিক্ষার জন্য বা অবসর সময়ের প্রয়োজন মেটাতে জমানো টাকার আরও যথার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

– গত বছর প্রণীত আইনের মাধ্যমে ফেডারেল সেভিংস অ্যান্ড লোন ইন্সুরেন্স কর্পোরেশনের বীমা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

– কংগ্রেসের অনুরোধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) শেয়ার বাজারের একটি ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতের আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভিত্তি স্থাপন করবে।

– পোস্টমাস্টার জেনারেল ও বিচার বিভাগ মেইল প্রতারণা সংক্রান্ত আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ শুরু করেছে। গত বছর মেইল প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে; এবং গত বছরের তুলনায় দোষী সাব্যস্তের সংখ্যা ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

(৪) আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ: স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও ভোক্তাদের জন্য সরাসরি সহায়ক কর্মসূচির উপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

– আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে পরিবারের জিনিসপত্র সরানোর জন্য অতিরিক্ত খরচ রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য কমিশন।

– বিমান ভ্রমণকারীদের অতিরিক্ত বুকিংয়ের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করতে সম্প্রতি পদক্ষেপ নিয়েছে সিভিল অ্যারোনটিকস বোর্ড।

– প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক পন্থা ও বিভিন্ন পণ্যের মিথ্যা বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ তীব্র করেছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটর, হাউস পেইন্ট, সেলাই মেশিন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, খাবারের মোড়ক ও কার্পেট।

– ফেডারেল পাওয়ার কমিশন ভোক্তাদের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের যুক্তিযুক্ত দাম ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি জোরালো কর্মসূচি শুরু করছে। এটি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের সব নিয়ন্ত্রক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দশকে আমাদের পুঁজি ও জ্বালানি সম্পদ সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর উপায় চিহ্নিত করতে একটি জাতীয় বিদ্যুৎ সমীক্ষা শুরু করছে। এছাড়া আমি সুপারিশ করছি যে, কংগ্রেস আইন জারি করে এবং কমিশন যাতে ৩৪ মিলিয়ন প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সরবরাহের জন্য তহবিল বরাদ্দ করে।

– ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের কর্মসূচি নির্বাচন প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে। শিক্ষামূলক টেলিভিশন স্টেশনগুলির সম্প্রসারিত উন্নয়নে উৎসাহিত করছে। এছাড়া জনগণের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেডিও ব্যবহার যেমন বিমান চলাচল সংকেত, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত জরুরি কল ইত্যাদিতে বাধা সৃষ্টি রোধে কার্যক্রম জোরদার করবে আগামী ১৯৬৩ সালের আর্থিক বছরে।

– সব প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য, আমি ১৯৬৩ সালে বর্ধিত বরাদ্দের সুপারিশ করছি যাতে ভোক্তা ও জনস্বার্থের আরও কার্যকর সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা যায়।

– গত বছর সরকারি সংস্থার কর্মপদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর মধ্যে, বিলম্ব দূরীকরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি বাড়াতে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বৃহৎ অংশ পুনর্গঠন পরিকল্পনা বা আইনের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। সংস্থা প্রধানরা এগুলো বাস্তবায়ন করছেন।

(৫) নিবাসের খরচ ও মান: মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ক্রয় সাধারণত নিজের বাড়িই হয়। গত বছরে গৃহায়নের অর্থায়নের খরচ কমানো ও বাড়ির মান উন্নত করার জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ফেডারেল কর্মসূচীর মাধ্যমে বন্ধক ঋণের সুদের হার ও অন্যান্য খরচ কমানো হয়েছে। ১৯৬১ সালের গৃহায়ন আইনের ক্ষমতাপ্রাপ্তির আওতায়, নিম্নলিখিত কাজে নতুন কর্মসূচী শুরু করা হয়েছে: (ক) কম খরচে উন্নতমানের গৃহ নির্মাণের সম্ভাবনাময় পরীক্ষামূলক নির্মাণ পদ্ধতিগুলিকে উৎসাহিত করা। (খ) বিদ্যমান গৃহায়নের সংস্কারের জন্য কম সুদের হার ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেওয়া। (গ) মাঝারি আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে কম খরচের ভাড়াটে থাকার ব্যবস্থা করা। (ঘ) দেশিয় খামার শ্রমিকদের জন্য গৃহায়ন সুবিধা দেওয়া। এই আইনটি নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য গৃহায়ন সুবিধা দেওয়ার আরও উন্নত পদ্ধতি উদ্ভাবনে ডেমোনস্ট্রেশন গ্রান্টেরও অনুমতি দেয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist