Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জামাল মাঠে নয়, ভার্চুয়াল জগতে খেলছেন বেশি

বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ছবি: ফেসবুক

এক কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক ডেনমার্ক থেকে বাংলাদেশে এসে ফুটবল নিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এই প্রবাসী মাঠে খেলেছেন। মাঠে তো বটেই, তার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বরং হাওয়াটা বড় বেশি। অর্থাৎ জামাল ভূঁইয়ার খেলার চেয়ে হাওয়া বেশি! 

২০১৩ সালে জামাল ডেনমার্ক থেকে বাংলাদেশে আসেন ফুটবল খেলতে। এখানকার উষ্ণ আবহাওয়ায় ট্রায়ালে হাঁপিয়ে যাচ্ছেন তিনি, দেশি ফুটবলারদের সঙ্গে দৌড়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না এই প্রবাসী। সময় গেলে মানিয়ে নিতে পারবেন, এই আশায় ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২০১৩ সাফ ফুটবলের বাংলাদেশ দলে। নেপালে অমন কোনও নজর কাড়া পারফরমেন্স করতে পারেননি, দলেরও হয়েছিল ব্যাপক ভরাডুবি। সেই থেকে তিনি এখন অবধি জাতীয় দলে, অর্থাৎ লাল-সবুজ জার্সিতে জামালের ১০ বছর পূর্তি হয়ে গেছে।

জামাল কেমন ফুটবলার 

তিনি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতেন। তখন ওই পজিশনের জন্য তিনি খুব ফিট ছিলেন। সঙ্গে ছিল তার টার্গেট ম্যানের কাছে নিখুঁত ডেলিভারি দেওয়ার ক্ষমতা। বাংলাদেশ দলে তার অবস্থানটাকে খুব ভালো ব্যাখ্যা করেছেন রাশেদুল ইসলাম। এই সাবেক ফুটবলার ও ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের ম্যানেজার মনে করেন, “সে একটা ট্রানজিশন পিরিয়ডে আমাদের জাতীয় দলে ঢুকেছে। যখন মামুন-জাহিদ-এমিলি ভাইয়েরা বিদায় নিচ্ছেন তখন জামাল মাঝমাঠের হাল ধরেছিল। এরপর এখনও খেলছে, মোটামুটি একটা মানে খেলে যাচ্ছে। তার পারফরমেন্স মূল্যায়নের ভার দলের কোচিং স্টাফের।”

ওই ট্রানজিশন পিরিয়ডে সত্যি দেশে খেলোয়াড় সংকট ছিল। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলির বিশ্লেষণ, “জামাল ভালো খেলোয়াড়। অনেকদিন ধরে খেলছে, তবে তার মানের অনেক খেলোয়াড় এ দেশে আছে। বর্তমান জাতীয় দলে তার জায়গা আমি দেখি না। তার চেয়ে ভালো মানের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এখন বেঞ্চে বসে থাকে।”

জামাল কখনও মাঝমাঠের সৃষ্টিশীল ফুটবলার মামুনুল ইসলামের মানের নয়। আসলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের খেলা সাধারণত মানুষের চোখেও পড়ে না। সেটা বোঝেন কেবল কোচরা। তাদেরই একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “সে যখন ২০১৫ সালে শেখ জামালে খেলে, তখন তার ডিফেন্সিভ কোয়ালিটি ভালো ছিল। এখন সেটাও আর নেই। সে কখনও জনপ্রিয় দলগুলোর চাপ নেয়নি ক্লাব ফুটবলে। সত্যি বললে, তাকে এখন ৫০-৬০ মিনিট খেলানো যায়।”

বাংলাদেশ দলে পারফরমেন্স

বাংলাদেশ দলের হয়ে আসলে ম্যাচ ঘোরানো কোনও পারফরমেন্স নেই ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলারের । ৭৮ ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ১ গোল। অ্যাসিস্ট চারটি। এরপরও সবসময় তিনি জাতীয় দলের বিদেশি কোচের প্রিয়পাত্র হয়ে যান। অনেকে মনে করেন, তার ইংরেজি বলা এবং কোচের কৌশল বুঝতে পারাটাই জামালকে এগিয়ে রাখে। স্থানীয় ক্লাব ফুটবলে আবাহনী, মোহামেডানের মতো জনপ্রিয় এবং বসুন্ধরা কিংসের মতো চ্যাম্পিয়ন দলে খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশ অধিনায়কের। এখন দেশের প্রিমিয়ার ডিভিশনের ক্লাব বাদ দিয়ে চলে গেছেন আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের দল সোল দে মায়ো ক্লাবে।

তবে খেলছেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে 

বাংলাদেশ দলের সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি তার ফুটবল ক্যারিয়ারটা দেখতে গিয়ে বলছেন, “জামালের মাঠের খেলার সঙ্গে তার সোশ্যাল মিডিয়ার পারফরমেন্সের তুলনা হয় না। ভার্চুয়াল জগতে তার বাংলাদেশ ফুটবলের মহানায়কের মতো উপস্থিতি।” 

ফেসবুক পেজে তার ফলোয়ার ২৫ লাখ। ইনস্টাগ্রামে তার সরব উপস্থিতি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম তার সাবেক সতীর্থকে নিয়ে বলছেন, “আমরা তাকে বেশিরভাগ সময় দেখি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। ফুটবল তো আসলে মাঠের খেলা, তাকে মাঠেই খেলতে হবে।”

তিনি ডেনমার্কে ছিলেন একজন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক। পাশাপাশি খেলতেন অ্যামেচার ফুটবল। সেখান থেকে বাংলাদেশে এসে তিনি হয়ে গেলেন রীতিমতো ফুটবল “হিরো”। এর পেছনে কারণ হিসেবে এমিলি বলেছেন সংবাদ মাধ্যমের কথা, “এটা হয়েছে আমাদের মিডিয়ার কল্যাণে। কী রহস্যময় কারণে যেন তার প্রচার হয় অনেক। এটা বরং তার খেলাকে আরও নষ্ট করেছে।” খেলা নষ্ট হলেও নেট দুনিয়ায় তার খ্যাতি বিস্তর। এজন্য আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা তাকেই বেছে নেয় পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য। এই অঞ্চলে লা লিগা মার্কেট ধরতে ব্যবহার করছে তাকেই। আসলে ভার্চুয়ালি দারুণ খেলে যাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। 

জাতীয় দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন 

কোচ হাভিয়ের কাবরেরা দেশে থেকে খেলোয়াড়দের ক্লাব পারফরমেন্স দেখে দল নির্বাচন করেন। কিন্তু আর্জন্টিনায় তৃতীয় বিভাগের ক্লাব সোল দ্য মায়োতে তার খেলা নিয়ে কারও কোনও ধারনা নেই। গত বছর ১৮ আগস্ট এই ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর ৯ ম্যাচের মধ্যে খেলেছেন ৪টি। গোল করেছেন ২টি। মামুনুল এজন্য জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে আহ্বান জানাচ্ছেন, “ব্যবস্থাপনা কমিটির উচিত আর্জেন্টিনার ওই লিগের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের তুল্যমূল্য বিচার করা এবং জামালের খেলা দেখা।” এ ব্যাপারে কোচ কাবরেরার মন্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও ফোনে কোনো জবাব দেননি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist