Beta
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ‍জাপা মহাসচিবের

ঝুঁকিপূর্ণ
ধানমণ্ডির এই বহুতল ভবনটির সামনে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ লেখা ব্যানার। ছবি : জীবন আমীর

ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমোদনহীন ভবন উচ্ছেদের অভিযানে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ‍তুলেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু। সমন্বয়ের মাধ্যমে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে মুজিবুল হক এসব কথা বলেন। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য তারানা হালিমও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ওপর জোর দেন।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “এক ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে দোকান ভাঙছেন। আরেকজন গিয়ে বলছেন, স্টপ করেন। ভবিষ্যতে যাতে এটা না হয় তার জন্য দায়িত্বশীলদের সমন্বিতভাবে ধীরস্থিরভাবে অতিঝুকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে সময়ন্বহীনতার অভাবে আবারো সমস্যা হবে।”

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে আগুনের প্রসঙ্গ টেনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, “এ  ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিনা। কিন্তু দেখলাম বিভিন্ন দপ্তর তড়িৎগতিতে কাজ শুরু করেছে। রাজউক একদিকে যায়, গিয়ে একটি হোটেল বন্ধ করে। আবার দক্ষিণের সিটি করপোরেশন তারা যাচ্ছে এক জায়গায়, ফায়ার ব্রিগেড যাচ্ছে।

“একটা প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়ে গেছে। কে গিয়ে কোনটা ভাঙবে, কোনটা আটকাবে। কোনটা ধরবে। মনে হচ্ছে একটা সমন্বয়হনতার মধ্যে চলছে।”

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো রাজউক আগেই চিহ্নিত করেছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, “কোন কোনগুলোয় আগুন লাগার আশঙ্কা রয়েছে, কোন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তা আগেই চিহ্নিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যদি সমন্বয় করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে একটি একটি করে ধরে কাজ করে তাহলে ভালো হবে।

“তিন-চারটি বিভাগ এখন তড়িৎ অ্যাকশন নিচ্ছে। তারপর কয়েকদিন পরে দেখা যাবে আর কেউ নেই। একদম নীরব নিস্তব্ধ হয়ে যাবে।”

ঢাকা শহরে ১০ হাজার ১০৬টি প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ, এর মধ্যে আটটি মার্কেট অতিঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এসব ভবনের মালিক ও নির্মাতাদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা হলে যেকোনো সময়ে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গাউছিয়া মার্কেটে আমি গিয়েছি। ঈদের সময় হাঁটা যায় না। অটোমেটিক চলে যেতে হয়। সেখানে একটি ঘটনা ঘটলে মারাত্মক অবস্থা হয়ে যাবে।”

সময়ন্বহীনতার অভাবে বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন চুন্নু।

অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য তারানা হালিম বলেন, “পুরোনো ঢাকায় এ ধরনের একটি অগ্নিকাণ্ডের পর কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিগুলো সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর করতে গিয়ে দেখা যায় বাসিন্দারা সহায়তা করেন না।

“বাসিন্দারাদেরও চিন্তা করতে হবে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তারাই। কাজেই এই কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।”

যত্রতত্র গড়ে ওঠা ভবন এবং বাসাবাড়ি হিসেবে তৈরি করা ভবন বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে সেগুলোয় ফায়ার এক্সিট থাকে না উল্লেখ করে তারানা হালিম বলেন, সে কারণেই এই সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়।

“এজন্য আমিও অনুরোধ করতে চাই সমস্ত সরকারি যে ডিপার্টমেন্টগুলো রয়েছে তারা সমন্বিতভাবে এ কাজগুলো করবে এবং জনগণ তাতে সহায়তা করবেন। এতে তাদেরই জীবন রক্ষা পাবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist