Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

তাইওয়ানে ভূমিকম্পে ধসে পড়ল ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক

Taiwan_earthquake

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল। ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্প গত ২৫ বছরের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী। এতে অনেক ভবন ধসে পড়েছে, ভূমিধস শুরু হয়েছে। ভূমিকম্পে কমপক্ষে চারজন নিহত ও অন্তত ৫৭ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৭:৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর কয়েকটি শক্তিশালী পরাঘাতও অনুভূত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে বলেছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন শহরের ১৮ কিলোমিটার দূরে ভূগর্ভের ৩৪.৮ কিলোমিটার গভীরে।

তাইওয়ানের ন্যাশনাল ফায়ার এজেন্সি (এনএফএ) জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে দ্বীপজুড়ে ৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি কমান্ড সেন্টার জানায়, ভূমিকম্পে ৯১,০০০ এরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর প্রায় অর্ধেকই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি হুয়ালিয়েন কাউন্টিতে অবস্থিত।

হুয়ালিয়েন কাউন্টি ম্যাজিস্ট্রেট হু চেন-ওয়েই বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কাউন্টির চারটি ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।

তিনটি ভবন থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউরেনাস নামে নয় তলা একটি ভবনে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবনটির নিচতলা ধসে পড়ার পর সেটি ডানদিকে হেলে পড়েছে।

ন্যাশনাল ফায়ার এজেন্সি জানায়, ইউরেনাস ভবন থেকে আটকে পড়া ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজন বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা এখনও চলছে।

ভূমিকম্পের কারণে পাহাড় ধসে একটি প্রধান উপকূলীয় মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। মহাসড়কটির একাধিক টানেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর তাইওয়ান, দক্ষিণ জাপান ও ফিলিপাইনে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কিছু উপকূলে আধা মিটারেরও কম উচ্চতার ঢেউ দেখা গেছে। সব সুনামি সতর্কতা পরে প্রত্যাহার করা হয়।

সুনামির সতর্কতায় এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলোও ফ্লাইট স্থগিত করে। তবে পরে আবার বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

ভূমিকম্পের পরে বেশ কয়েকটি পরাঘাত হয়। রাজধানী তাইপেইসহ দ্বীপজুড়ে অনুভূত হওয়া পরাঘাতগুলোও ছিল শক্তিশালী।

তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখপাত্র সতর্ক করেছেন, এ সপ্তাহের শেষদিকে ৭ মাত্রার শক্তিশালী পরাঘাত আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অফ ফায়ার অঞ্চলে অবস্থানের কারণে তাইওয়ান নিয়মিতই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। রিং অফ ফায়ার ইন্দোনেশিয়া থেকে চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরি থেকে লাভার উদগিরণ ঘটে।

বুধবারের ভূমিকম্পটি ১৯৯৯ সালের পর তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী। সেই ভূমিকম্পটি ছিল ৭.৭ মাত্রার, যা তাইপে থেকে ৯৩ মাইল দক্ষিণে আঘাত হানে। তাতে ২৪০০ নিহত এবং ১০ হাজার জন আহত হয়।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, স্ট্রেইট টাইমস

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist