Beta
সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪
জাপানকে চ্যালেঞ্জ কোরিয়া-সৌদির

তারার দ্যুতিতে উদ্ভাসিত এশিয়ান কাপ

লাতিনের ফুটবল হৃদয়কাড়া। ইউরোপিয়ানরা শৈল্পিক নয়, খেলে শক্তি আর মগজ দিয়ে। বিশ্বকাপের সব শিরোপাই ভাগাভাগি করেছে এই দুই মহাদেশ। তাদের তুলনায় যোজন যোজন পিছিয়ে এশিয়ান ফুটবল। বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলাই সর্বোচ্চ অর্জন এই মহাদেশের।

সময়ের পরিক্রমায় দিন অবশ্য বদলাচ্ছে। টাকার ঝনঝনানিতে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমার, করিম বেনজিমার মত তারকা এখন খেলছেন সৌদি ক্লাব ফুটবলে। গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে গ্রুপ পর্বে হারিয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। এশিয়ার এক ঝাঁক তারকা এখন মাতাচ্ছেন ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল।

 বিশ্বের নামি অনেক কোচও দায়িত্ব নিয়েছেন এশিয়ান দলগুলোর। আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে কাতারে শুরু হতে যাওয়া এবারের এফসি এশিয়ান কাপ তারার দ্যুতিতে উদ্ভাসিত রীতিমতো।

ফেভারিট জাপান

বিশ্বকাপে যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালির মত দলগুলো ফেভারিট থাকে সবসময়। তেমনি এশিয়া কাপে জাপান, সৌদি আরব, ইরান আর দক্ষিণ কোরিয়া। এবার হট ফেভারিটের মর্যাদা চারবারের চ্যাম্পিয়ন জাপানের। এশিয়ান দলগুলোর মধ্যে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে তারাই।

জাপানকে জোড় চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি সৌদি আরব ও দক্ষিণ কোরিয়া। সর্বশেষ ১৯৬০ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কোরিয়া। সেই খরাটা কাটাতেই এবার খেলবেন সন হিউং মিনরা। রোনালদো, নেইমারের মত তারকারা সৌদি আরবের ক্লাব ফুটবলে খেলেন বলে তাদের ওপরও নজর থাকবে আলাদা করে।

সময়ের অন্যতম সেরা তারকা

জাপানের কাওরু মিতোমা, তাকেফুসো কুবো, ওয়াতারু এন্দোরা মাতাচ্ছেন ইউরোপিয়ান ফুটবল। দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং মিন, লি কাং ইন, কিম মিন জা ও কিম জি সোদের মত পরিচিত নাম ইন্দোনেশিয়ার জাস্টিন হাবনার কিংবা ইরানের সামান ঘোদ্দোসরাও।

স্টুটগার্ট থেকে এসে লিভারপুলের মিডফিল্ডে দারুণ ভারসাম্য এনেছেন জাপানের ওয়াতারু এন্দো। এবারের মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের হয়ে ৩ গোল করার পাশাপাশি ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন লেফট উইঙ্গার কাউরো মিতোমা । ইনজুরির ধকল কাটিয়ে তার সেরাটার প্রত্যাশায় জাপান।

 গত বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারানো ম্যাচে অবদান ছিল জাপানের আর্সেনাল মিডফিল্ডার তাকেহেরি তুমিয়াসোর। রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে খেলা তাকেফুসো কুবো এই মৌসুমে ১৮ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল, ৩টি অ্যাসিস্ট।

দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড হোয়াং হি চান এবারের মৌসুমে উলেভসের হয়ে ২০ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। করেছেন তিনটি অ্যাসিস্টও। সন হিউং মিন তো টটেনহামের প্রাণ।  ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে এবারের মৌসুমে ১৫ ম্যাচ খেলেছেন ইরানের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সামান ঘোদোস।

অস্ট্রেলিয়ার মিচেল ডিউক, জ্যাকসন আরভিনদের সঙ্গে সৌদি আরবের আব্দুল্লাহ আল হামদান, সালমান আল ফারাজরাও আলো ছড়াতে তৈরি এশিয়ান কাপে।

ডাগআউটে আছেন ক্লিনসমান-মানচিনিরা

এশিয়ান কাপের ডাগআউটেও রীতিমতো তারার মেলা। রবার্তো মানচিনি, ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান,  হুয়ান পিজ্জি, হেক্টর কুপার, ফিলিপে ত্রোসিয়া,  পাওলো বেন্তোর মত কোচরা এখন এশিয়ান দলের দায়িত্বে।

ইতালিকে ইউরো জেতানো কোচ মানচিনি এখন সৌদি আরবের ডাগআউটে। ১৯৯০ বিশ্বকাপ জেতা জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান দক্ষিণ কোরিয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা আরব আমিরাতের কোচ পাওলো বেন্তো। গত জুলাইয়ে বাহরাইনের দায়িত্ব নিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ হুয়ান পিজ্জি। ডাগআউটের লড়াইটাও উপভোগ্য হবে তাই।

কার কত শিরোপা

জাপান ৪ : ১৯৯২, ২০০০,২০০৪, ২০১১

সৌদি আরব ৩ : ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৬

ইরান ৩ : ১৯৬৮, ১৯৭২, ১৯৭৬

দ.কোরিয়া ২ : ১৯৫৬, ১৯৬০

ইসরায়েল ১ : ১৯৬৪

কুয়েত ১ : ১৯৮০

অস্ট্রেলিয়া ১ : ২০১৫

ইরাক ১ : ২০০৭

কাতার ১ : ২০১৯

কোন গ্রুপে কারা

 গ্রুপ এ : কাতার, চীন, তাজিকিস্তান, লেবানন

গ্রুপ ‘বি’ : অস্ট্রেলিয়া, উজবেকিস্তান, ভারত, সিরিয়া

গ্রুপ ‘সি’ : ইরান, আরব আমিরাত, হংকং, ফিলিস্তিন

গ্রুপ ‘ডি’ : জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ভিয়েতনাম

গ্রুপ ‘ই’ : দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, জর্ডান, বাহরাইন

গ্রুপ ‘এফ’ : সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, কিরগিস্তান, ওমান

নকআউটের অঙ্ক

প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে শেষ ষোলতে। ছয় গ্রুপের সেরা চার তৃতীয় হওয়া দলও পাবে শেষ ষোলর টিকিট।

টুর্নামেন্টের সূচি

 কাতারের ৫ শহরে ৯টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। ১২ জানুয়ারি স্বাগতিক কাতার ও লেবানন ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন হবে এশিয়া কাপের। নকআউট শুরু ২৮ জানুয়ারি। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ২ ফেব্রুয়ারি আর প্রথম সেমিফাইনাল ৬ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল মাঠে গড়াবে লুসাইলে ১০ ফেব্রুয়ারি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist