Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

নারীর যত্নে এইচপিভি টিকা কী ভূমিকা রাখবে

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে দেওয়া হচ্ছে এইচপিভি টিকা।
জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে দেওয়া হচ্ছে এইচপিভি টিকা।
Picture of আইরিন সুলতানা

আইরিন সুলতানা

কয়েক মাস আগে প্রথমবারের মতো জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা ক্যাম্পেইন চালু হয়েছে দেশে। ঢাকা বিভাগ শেষে সারাদেশে এক কোটিরও বেশি কিশোরীকে এই টিকার আওতায় আনতে চলেছে সরকার।

আর এর মধ্যে দিয়ে জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে নিরাপদ একটি প্রজন্ম বেড়ে ওঠার সাক্ষী হবে বাংলাদেশ।

এইচপিভি টিকা কী?

নারীর যত ধরনের ক্যান্সার ঝুঁকি আছে তার মধ্যে অন্যতম নীরবঘাতক হলো জরায়ুমুখ ক্যান্সার। এর অন্য নাম জরায়ুর ক্যান্সার বা সার্ভিক্যাল ক্যান্সার।

জরায়ুমুখ ক্যান্সারের জন্য ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। সংক্ষেপে এই ভাইরাসের নাম হলো এইচপিভি।   

ইউটেরাস বা জরায়ু হলো নারীর সন্তানধারণ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যোনি এবং জরায়ুর সংযোগ পথটি জরায়ুর নিচের দিকে থাকে। সরু এই পথকে জরায়ুর গ্রীবা বা নেক অব দ্য ইউটেরাস বলে। সহজ ভাষায় এর অন্য নাম জরায়ুমুখ বা সার্ভিক্স। জরায়ু অথবা গর্ভাশয়ের একেবারে নিচের এই অংশ থেকেই জরায়ুমুখ ক্যান্সারের বিস্তার ঘটে।

সাধারণত যৌনমিলন থেকে এই ভাইরাস নারীর শরীরে জায়গা করে নেয়। জরায়ুমুখের কোষগুলো যখন অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হতে শুরু করে, তখন তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। অনেক সময় ক্যান্সার সার্ভিক্স থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ফুসফুস, যকৃত, মূত্রথলি, যোনি, পায়ুপথেও ছড়িয়ে যেতে থাকে।

একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থেকে জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। তবে কম বয়সে বিয়ে, ঘন ঘন সন্তান ধারণ এবং অপুষ্টি থেকেও এই অসুখ দেখা দিতে পারে। 

জরায়ুমুখ ক্যান্সার কতটা প্রাণঘাতী?

নারীর ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকির তালিকায় চতুর্থ আতঙ্কের নাম হচ্ছে জরায়ুমুখ ক্যান্সার। প্রতি বছর বিশ্বে তিন লাখের বেশি মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে এই ক্যান্সার।   

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০১৮ সালে বিশ্বে ৫ লাখ ৭০ হাজার নারীর জরায়ুমুখ ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরমধ্যে মারা যায় ৩ লাখ ১১ হাজার জন।

২০২০ সালে ছয় লাখ চার হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে তিন লাখ ৪২ হাজার মারা যায়। মোট মৃত্যুর ৯০ শতাংশই  নিম্নআয় ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে দেখা গেছে বলে জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ভারতে নারীর ক্যান্সার ঝুঁকির তালিকায় দ্বিতীয় নামটি হলো জরায়ুমুখ ক্যান্সার। ২০২০ সালে এক লাখ ২৩ হাজার ৯০৭ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়। মারা যায় ৭৭ হাজার ৩৪৮ জন । ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পরিসংখ্যানেও ভারতে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে জরায়ুমুখ ক্যান্সার।   

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ধারণা করছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৩ হাজার ৮২০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হবে। এবং আক্রান্তদের মধ্যে এই বছর মারা যাবে ৪ হাজার ৩৬০ জন নারী।    

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যে কোনো বয়সী জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোগী নিয়ে জরিপ করে। এই ক্যান্সারের বিভিন্ন পর্যায় বা স্টেজে চিকিৎসা সেবার পর রোগীর টিকে থাকার সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে দেখা হয় জরিপে। 

  • স্টেজ ১: শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরুর পর প্রতি ১০০ জনে ৯৫ জন (প্রায় ৯৫ শতাংশ) ভুক্তভোগী পাঁচ বছর বা কিছু বেশি সময় সুস্থ থাকে
  • স্টেজ ২: শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরুর পর প্রতি ১০০ জনে ৭০ জন (প্রায় ৭০ শতাংশ) ভুক্তভোগী পাঁচ বছর বা কিছু বেশি সময় সুস্থ থাকে
  • স্টেজ ৩: শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরুর পর প্রতি ১০০ জনে ৪০ জনের বেশি (৪০ শতাংশের বেশি) ভুক্তভোগী পাঁচ বছর বা কিছু বেশি সময় সুস্থ থাকে
  • স্টেজ ৪: শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরুর পর প্রতি ১০০ জনে ১৫ জন (প্রায় ১৫ শতাংশ) ভুক্তভোগী পাঁচ বছর বা কিছু বেশি সময় সুস্থ থাকে

বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ক্যান্সার ঝুঁকি

২০২০ সালের গ্লোবোক্যান প্রতিবেদন অনুসারে, জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বছরে নতুন করে আক্রান্ত হন আট হাজার ২৬৮ জন এবং বছরে মারা যান চার হাজার ৯৭১ জন।

দ্য গার্ডিয়ানের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বলা ছিল, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৭ হাজার ৬৮৬ জন জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হয়। এতে মারা যায় ১০ হাজার ৩৬২ জন।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের (আইএআরসি) বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচ কোটির বেশি নারী ।  

দেশে স্তন ক্যান্সারের পর ক্যান্সারে মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ হলো জরায়ুমুখ ক্যান্সার। 

সাধারণত ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীরা জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

টিকা কাটাবে শঙ্কা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে সব দেশই জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে একমত হয়েছে।  এখন সবার লক্ষ্য হচ্ছে, জরায়মুখ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী সংখ্যা কমিয়ে আনা; প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে মোটে চার জন। ২০৩০ সালের মধ্যেই নারীস্বাস্থ্য খাতে এই উন্নতি দেখতে চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 

আর এজন্য বড় শর্ত হচ্ছে, ১৫ বছর বয়সী মেয়েদের ৯০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা।

এছাড়া ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী জনগোষ্ঠীর অন্তত ৭০ শতাংশ যেন জরায়মুখ ক্যানসার শনাক্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করে। আক্রান্ত রোগীর অন্তত ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ১১ থেকে ১২ বছর বয়সীদের এই টিকা দিতে হবে। তবে নয় বছর বয়সীদেরও এই টিকা দেওয়া যাবে। 

এরমধ্যে একশটির বেশি দেশ জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে টিকা দেওয়া শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যে ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীদের টিকা দেওয়া চলছে। এমনকি ২০১৯ সাল থেকে কিশোরদেরও এই টিকা দেওয়া হয় সেখানে। 

মেয়েদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হয় যুক্তরাজ্যে। ওই সময় টিকা পাওয়া কিশোরীদের বয়স এখন বিশের কোঠায়।

ল্যান্সেট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার বরাতে বিবিসির ২০২১ সালে প্রতিবেদন বলছে, টিকা পাওয়াদের ক্যান্সার পূর্ববর্তী ঝুঁকি কমেছে; সেই সঙ্গে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কমে গেছে ৮৭ শতাংশ।

গবেষকরা বলছে, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম।

গত বছরের অক্টোবরে সরকারি উদ্যোগে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা দেওয়া শুরু হয়।

দেশে কেমন চলছে পিভিসি টিকা কার্যক্রম?

দেশে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা (এইচপিভি) দেওয়া শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ বলছে, কিশোরীরা যে এক ডোজ এইচপিভি টিকা নেবে তাই পরে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

এইচপিভি টিকা পেতে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতায় নেই এমন ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীরাও এই সুবিধা পাবে।

Vaxepi অ্যাপ অথবা https://vaxepi.gov.bd/registration লিংকে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকা বিভাগের কিশোরীরা নিবন্ধন করতে পারবেন।

গ্ল্যাক্সোস্মিথ ক্লেইনের তৈরি টিকা বাংলাদেশে সরবরাহ করছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি)।

এ বছর ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে এক লাখ ২২ হাজার ৭৩১ জন কিশোরী টিকা নিয়েছে বলে সকাল সন্ধ্যার কাছে জানালেন এই করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

ঢাকা উত্তরের ৭৬ দশমিক ০১ শতাংশ কিশোরীকে এই টিকার আওতায় আনা গেছে।

চ্যালেঞ্জ হিসেবে ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন,  ‘বাসায় যারা কাজ করে’ এমন একটি অংশ এখনও টিকার আওতায় পুরোপুরি আসছে না।   

এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুসারে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সনদ নম্বর না থাকলে টিকা দিতে পারবে না।

“এই টিকা দিতে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সনদ এটা থাকতে হবে। কারণ এতে করে একটা ডেটাবেজ তৈরি হবে।”

টিকার মজুদে কোনো সংকট না থাকলেও জন্মনিবন্ধন ‘দেখাতে না পারার কারণে’ অনেকে বাদ পড়ে গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও।

এখন পর্যন্ত এই করপোরেশনের এক লাখ ২১ হাজার জন টিকা নিতে পেরেছে যা ৭৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বলে সকাল সন্ধ্যার কাছে জানালেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির।  

আর ‘পুরো ঢাকা বিভাগে ৮০ শতাংশ টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে’ বলে সকাল সন্ধ্যার কাছে হালনাগাদ তথ্য দিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এরমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ কিশোরীকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছে বলে সকাল সন্ধ্যার কাছে জানালেন  এই করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার নাফিয়া ইসলাম।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
টিকা মোট লক্ষ্যটিকা নিয়েছেশতকরা হার
১৬১৪৮৪ জন১২২৭৩১ জন৭৬.০১
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যটিকা নিয়েছেশতকরা হার
১৪৮৭০৯ জন১১৮১৯০ জন৭৯.৪৭
অন্যান্য লক্ষ্যটিকা নিয়েছেশতকরা হার
১২৭৭৫ জন৫৫৪১ জন৪৩
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
টিকা মোট লক্ষ্যটিকা নিয়েছেশতকরা হার
১৫৮০০০ জন১২১০০০ জন৭৬.৫৮
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যটিকা নিয়েছেশতকরা হার
৩০৬৮৬ জন২৮৬২২ জন৯৩
অন্যান্য লক্ষ্যটিকা নিয়েছেশতকরা হার
৩৮২২ জন৩২৮৭ জন৮৬

জরায়ুমুখ ক্যান্সার ঝুঁকি মুক্ত আগামী প্রজন্ম

নগরবাসীর জীবনে এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল সেতু এবং মেট্রোরেল যেমন স্বস্তি হয়ে এসেছে, তেমনি নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা কার্যক্রমের রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী আশীর্বাদ।

“বিনামূল্যে এই এক ডোজ টিকা এখন যে কিশোরীরা নিচ্ছে তারা আজীবন ঝুঁকিমুক্ত থাকবে,” বললেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার নাফিয়া ইসলাম।   

“যারা এখন ৩০ কি ৪০ বা ৫০ বছরে আছেন বা আগের জেনারেশন তারা এই টিকা সুবিধা পাননি। কিন্তু পরের প্রজন্ম যেন জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি মুক্ত থাকে সে কারণেই সরকারের এই উদ্যোগ।”

জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোধী এইচপিভি টিকা দেশে নারীর সুস্থতায় সরকারের পক্ষ থেকে ‘উপহার’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

“সারভাইকাল ক্যান্সার নীরব ঘাতক হয়ে আসে। এমনকি ১০ থেকে ১৫ বছর কোনো লক্ষণ দেখানো ছাড়াই শরীরে বাসা বেঁধে থাকে। আজকে যারা টিকা নিচ্ছে তারা আগামীতে সুস্থ থাকবে। আর যখন নারী সুস্থ থাকবে তখন পুরো জাতিই সুস্থ থাকবে। এই টিকা পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।”

বিশেষ এই টিকা কার্যক্রম সরকারের নেওয়া একটি ‘খুবই শুভ উদ্যোগ’ বলে মন্তব্য করলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবিরও। 

এই টিকার কারণে নারীর ব্যক্তি জীবনে ভারসাম্যের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক খাতে বড় রকমের ইতিবাচক প্রভাব দেখছেন   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ধরা যাক, আক্রান্ত হলে এক জনের পেছনে ৫০ লাখ টাকা খরচ হতো। এখন তো আমরা তো আশা করছি টিকার কারণে আগামী প্রজন্মে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী অনেক কমে যাবে।

“মানুষের কষ্ট, মৃত্যু সংখ্যা, হাসাপাতালে সেবা দিতে অনেক জনবল- এসব কমে আসবে। রাষ্ট্র অর্থনৈতিক ভাবে অনেক লাভবান হবে।”

এই টিকা নিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সবাইকে বারবার সচেতন করছে, বললেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

“আমরা ৩১ জানুয়ারির পরও টিকা কার্যক্রম চালু রাখব, যারা বাদ পড়ে গেছে বা মনস্থির করতে পারেনি আগে তারা যেন দিতে পারে সামনে।”

রুটিন ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এইচপিভি টিকাও যুক্ত হবে আগামীতে; সরকারি পর্যায়ে এমন চিন্তাভাবনার কথা সকাল সন্ধ্যাকে জানালেন নাফিয়া ইসলাম।

একই সম্ভাবনার কথা বললেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেনও।

“এপ্রিল থেকে অন্যান্য বিভাগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর প্রতি বছর যত সংখ্যক শিশু নয় থেকে ১০ বছর বয়সে পা রাখে তাদের এই টিকা দেওয়া হবে ইপিআই শিডিউলের মতো।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত