Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪
Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

বাংলাদেশের লজ্জার সিরিজ হার

USA
Picture of ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

হারের কারণটা ঠিক কি? ভাবলে অনেক কিছুই সামনে আসবে। গুনে গুণে তালিকা করে লিখাও যেতে পারে। কিন্তু সবার আগে যে প্রশ্ন চলে আসে তা হল – আমরা কি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও পিছিয়ে? উত্তরটা যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট দল যথাযথ ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে। ২-০ তে সিরিজ হারিয়ে দেখিয়েও দিয়েছে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ কতটা দুর্বল বা পিছিয়ে।

এমন দিনে হতাশা বাড়ানো রেকর্ড আছে নাজমুল হোসেন শান্তদের। বৃহস্পতিবার টি-টোয়েন্টিতে একশতম হারের মাইলফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটে একমাত্র বাংলাদেশেরই এই কীর্তি আছে। ৯৯ হার নিয়ে দ্বিতীয় উইন্ডিজ। ৯৮ হার নিয়ে তিনে শ্রীলঙ্কা।

-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সিরিজটি শুরু হয়েছিল ৫ উইকেটের হার দিয়ে। কন্ডিশন অচেনা থাকায় ওই হারকে অঘটন বলে চালিয়ে নেয়া গেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই সুযোগ ছিল না। টস ভাগ্য পক্ষে এসেছে। স্বাগতিকদের ৬ উইকেটে ১৪৪ রানে আটকেও রাখা গেছে। টি-টোয়েন্টিতে এখন এই রান অনায়াসে টপকে যাওয়া যায়।

তবুও পারেনি বাংলাদেশ। ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে হেরেছে ৬ রানে। জয়ের পরিকল্পনায় ছিল না প্রতিজ্ঞা, প্রবল ইচ্ছা বা তেজ। নয়তো অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ওভাবে উইকেট ছুঁড়ে আসেন কেন? সাকিব আল হাসান প্রথাগত শট না খেলে জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট চালাবেন কেন? জাকের আলি-মাহমুদউল্লাহরা আরেকটু দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলেন না কেন?

ভালো ইনিংসের শুরু করেও বড় করতে ব্যর্থ হন শান্ত। ছবি : ক্রিকইনফো

এমন অনেক কেনই প্রশ্ন আকারে তোলা যায়। এর উত্তর দিতে পারবেন ক্রিকেটাররাই। অবশ্য ম্যাচ শেষে, “আমরা ভালো খেলিনি, সামনের ম্যাচে ফিরে আসবো।” গৎবাঁধা এই কথাতেই আটকে থাকবেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু টি-টোয়েন্টির স্কিল, টেম্পারমেন্ট বাড়ানোর দিকে যে পিছিয়ে আছেন সে জায়গায় তাদের এগিয়ে আনবে কে?

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটাররা বিভিন্ন টেস্ট খেলুড়ে দেশের এক সময়ের যুব ক্রিকেটার ছিলেন। দেশে ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে নিজেদের এই দেশটির ক্রিকেটের জন্য তৈরি করেছেন। সেই পথে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মতো বিস্তর অর্থ বা সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত পাননি। তবুও তারা নিজেদের টি-টোয়েন্টি মেজাজের সঙ্গে মানিয়ে ফেলেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা পারেননি। তাই ব্যর্থতার ষোল কলা পূর্ণ করে লজ্জার ইতিহাসের সাক্ষী হতে হয় বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম কোন সহযোগী দেশের কাছে সিরিজ হারের লজ্জা মিলল বাংলাদেশের। আর প্রথম কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের গৌরব যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটারদের।

অথচ ম্যাচটা বাংলাদেশের হাতে ছিল পুরোপুরি। শুরুতে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম ফিরলেও ৪৮ রানের জুটিতে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসেন তাওহিদ হৃদয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ওই অবস্থা থেকে আত্মাহুতি। অনেকদিন পর ব্যাটে রান পাওয়া শান্ত ৩৪ বলে ৩৬ রানে থাকা অবস্থায় রান আউট হন। নন স্ট্রাইক থেকে রান হয় না এমন পরিস্থিতিতে স্ট্রাইক প্রান্তে দৌড় দিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন।

হৃদয় এবার ২৫ রানের বেশি এগোতে পারেননি। ৯২ রানে তার বিদায়ের পর সাকিব আল জাসান ও মাহমুদউল্লাহ জুটি বেঁধেছিলেন। দুজনের মিলিত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সংখ্যা ২৪৯টি। সব টি-টোয়েন্টির সংখ্যা ৭৫১টি। অথচ তারাই জুটি দাঁড় করাতে ব্যর্থ।

১৫তম ওভারে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর একটিও জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। চার বলের ব্যবধানে জাকের আলি, সাকিব আল হাসান ও তানজিম সাকিবকে হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে সাকিব ২৩ বলে ৩০ রানে বোল্ড হলে ম্যাচ জয়ের পথে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

ততক্ষণে উজ্জীবিত যুক্তরাষ্ট্রকে আর টেনে ধরে পারেনি বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেন ৫ বলে ২ চারে ৯ রানে করে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অপরপ্রান্তে সঙ্গীর অভাবে একটু বেশিই চাপে পড়ে যান। শেষ ওভারে দ্বিতীয় বলে চার মেরে আশা জাগান রিশাদ। জয়ের প্রয়োজনীয়তা ৪ বলে ৭ এ চলে আসা চাপও কিছুটা কমে। অথচ আরও চারটি বল খেলার চেষ্টা না করে পরের বলেই স্কুপ করতে গিয়ে আলি খানের বলে কিপারের হাতে ক্যাচ দেন এই তরুণ ।

তাতে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়া লজ্জার হার নিশ্চিত হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত