Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বিদেশি শিক্ষার্থীর দুয়ার কেন আটকাচ্ছে কানাডা

দুই বছর বিদেশি শিক্ষার্থী নেবে না কানাডা।

কানাডায় প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে যায়। এদের মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও আছেন। অন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। কিন্তু তারপরও বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কানাডার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশিদের ওপর পড়বে।

কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্য নতুন করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের গ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এবার তাদেরই ধারাবাহিকতায় কানাডা সরকার আগামী দুই বছরের জন্য তাদের দেশে বিদেশি শিক্ষার্থী প্রবেশ সীমিত করার ঘোষণা দিল।

কানাডা সরকার বলছে, সাম্প্রতিক বছরে তাদের দেশে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে আবাসন সংকট।

সরকারি পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছর কানাডা সরকার ১০ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীকে ভিসা দিয়েছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই কানাডার অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ভিসা কড়াকড়ির পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার তারা এই পদক্ষেপের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানায়।

নতুন পদক্ষেপ কী বলছে? 

কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী মার্ক মিলার বলেন, “জাস্টিন ট্রুডো সরকার অস্থায়ীভাবে দুই বছরের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া সীমিত করছে।

এতে ২০২৪ সালে প্রায় ৩ লাখ ৬৪ হাজার ভিসার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।

কানাডা সরকারের নতুন এই পদক্ষেপ থেকে বাদ যাননি দেশটিতে পড়াশোনা করা পোস্ট গ্র্যাজুয়েটরাও। আগামীতে তাদের কাজ করার অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) সীমিত করা হবে।

কাজের অনুপতিপত্র থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া সহজ হয়। তারা এখন কাজের অনুপতিপত্র থেকে বঞ্চিত হলে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে আসতে চাইবেন। কানাডায় মাস্টার্স বা পোস্ট ডক্টরেট কোর্সের বিদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত তিন বছর কাজের অনুমতি পান।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীরাও কানাডা সরকারের নতুন কড়াকড়ির মধ্যে পড়েছেন।

মিলার বলেন, “আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, কলেজসহ বিভিন্ন কোর্সে পড়ুয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীরা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আর যোগ্য বিবেচিত হবেন না। ২০২৫ সালের জন্য যারা কানাডায় পড়তে আবেদন করেছেন, তাদের সেসব আবেদন এ বছরের শেষে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।”

কঠোর নীতি কেন?

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় গন্তব্য কানাডা। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে সহজে কাজের অনুমতি মেলে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কেন উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডাকে বেছে নিচ্ছে, তার তিনটি কারণ বের করেছে কানাডিয়ান ব্যুরো ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন। তাদের মতে, প্রথম কারণ নিরাপদ ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে কানাডার সুনাম। দ্বিতীয়, দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নত। তৃতীয়ত, দেশটির সমাজ মোটের ওপর সহনশীল, বৈষম্যমূলক নয়। 

এসব কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ঢল নামে। একপর্যায়ে তারা আবাসন সংকটে পড়েন। বাড়ে বাড়ি ভাড়া।

কানাডার সরকারি সংস্থা স্ট্যাটিসটিক্স কানাডা বলছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে বাড়ি ভাড়া আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি। এর সুযোগ নিচ্ছেন বিরোধীরা। আগামী বছর কানাডায় নির্বাচন। সম্প্রতি এক মতামত জরিপে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তায় ট্রুডোর থেকে এগিয়ে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভর।            

রয়টার্স বলছে, আবাসন সংকট ছাড়াও কানাডা সরকার তার দেশের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন।

কাদের ওপর প্রভাব পড়বে? 

কানাডার সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য অন্টারিও। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখানে ভিড় করে বেশি। তাদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বিগ্ন অঙ্গরাজ্যটির ব্যবসায়ীরা। এদের কারও রেস্তোরাঁ আছে। কারও আছে খুচরা ব্যবসা। তাদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কানাডায় প্রবেশ বন্ধ করা হলে অস্থায়ী শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দেবে।           

গত সপ্তাহে একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ রয়টার্সকে জানায়, কানাডাজুড়ে রেস্তোরাঁগুলোতে শ্রমিক ঘাটতি রয়েছে। এসব রেস্তোরাঁয় প্রায় ১ লাখ পদ খালি। ২০২৩ সালে খাদ্য পরিষেবা শিল্পে ১১ লাখ শ্রমিকের মধ্যে ৪ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বিদেশি শিক্ষার্থী। 

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে লাভবান হয় কানাডার ব্যাংকগুলো। কারণ কানাডায় পড়তে গেলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলারের বেশি গ্যারান্টেড ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটসের (জিআইসি) দরকার পড়ে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা দুই বছর কানাডায় যেতে না পারলে দেশটির ব্যাংক খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে।

কানাডার সরকারি তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দেশটিতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ছিল ভারতীয়। তাদের পরে আছে চীনারা, ১২ শতাংশ। সে বছর কানাডায় যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের হার ছিল ২ শতাংশ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist