Beta
মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪
Beta
মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

ভোটে স্বতন্ত্রদের চমক, কী হবে ইমরানের

সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খান এবার কারাবন্দী হওয়ায় পিটিআইয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খান এবার কারাবন্দী হওয়ায় পিটিআইয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাবন্দী। তার প্রতিষ্ঠিত দল পিটিআইয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও কারাগারে। দলীয়ভাবে ভোট করতে পারেনি পিটিআই। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে পিটিআই নেতাদের। ভোটের মাঠেও তারা ছিলেন কঠোর চাপের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ষোড়শ জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের ভোট হয়। শুক্রবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘোষিত ফলে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই এগিয়ে ছিলেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এমন ফল চমকে দিয়েছে অনেককে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ দাবি করেছেন, তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে। জোট সরকার করার আলোচনা করার কথাও জানিয়েছেন নওয়াজ।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, স্বতন্ত্ররা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হলে ইমরান খানের কী হবে?

অনেক আসনের ভোটের ফলে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অন্যান্য রাজনৈতিক দল বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের দল পিএমএলএন থেকেও ভালো করেছে।

ভালো করেনি বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রার্থীরাও। এমনকি অন্য দলের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের চেয়েও ভোটের ফলে এগিয়ে পিটিআইয়ের স্বতন্ত্ররা।

পাকিস্তানের এবারের জাতীয় নির্বাচনে ২৬৫ আসনে ভোট হয়েছে।

ডন জানিয়েছে, এর মধ্যে ১৫৮ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ইমরানের সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৬২ আসনে জয়ী হয়েছে। আর নওয়াজের দল পিএমএল-এন ৪৩ আসনে এবং বিলওয়াল ভুট্টোর দল পিপিপি(পি) ৩৭ আসনে জয় পেয়েছে।

নির্বাচনে মোট প্রার্থী ৫ হাজার ১২১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৮০৬, নারী ৩১২ এবং ট্রান্সজেন্ডার ২ জন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ফল ঘোষণা শুরু হয়।

দেরিতে ঘোষণা শুরু হওয়ায় ফলে কারচুপির বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়, যা দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

তবে ফল ঘোষণার শুরুর দিকেও এগিয়ে ছিল পিটিআইয়ের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

পিটিআইয়ের প্রধান সংগঠক ওমর আইয়ুব খান একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তাদের দল সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সম্ভাব্যভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাকিস্তানে পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারে।

তবে নির্বাচন কমিশনের ‘ইন্টারনেট সমস্যা’য় ঘোষণার বিলম্ব, নির্বাচনে কারচুপির গুজব ও উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইমরান খানের জন্য কী অপেক্ষা করছে

সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খান এবার কারাবন্দী হওয়ায় পিটিআইয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সরকারি পদ আসীনে দশ বছরের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইমরান খানকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত রাজতৈনিকভাবে একরকম বিচ্ছিন্ন থাকতে হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে পিটিআইয়ে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। ইমরানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীরা হয় কারাগারে বা নয়তো পলাতক। ফলে দলের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, আদালতের রায়ে পিটিআইয়ের দলীয় নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট বাতিল করা এবং দলের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হয়ে ভোটে লড়তে বাধ্য হওয়ায়। পিটিআই এখন গহর আলী খান নামে এক স্বল্পপরিচিত আইনজীবীর নেতৃত্বে চলছে।

ভোটে পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কী হতে পারে

১. যদি ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জেতে, তবে তারা একটি ব্যানার বা মঞ্চের অধীনে গিয়ে সরকার গঠন করতে পারে।

২. পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অন্য যেকোনো দলের সঙ্গেও জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করতে পারে।

৩. নতুন সরকার ইমরান খানকে দেওয়া তিনটি কারাদণ্ড প্রত্যাহার করতে আদালতে যেতে পারে।

৪. ইমরান খানকে সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া বা তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য নতুন সরকার পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারে।

কী হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে

প্রচারে অপ্রতুল সুযোগের অভিযোগকে ছাপিয়ে গেছে ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ। এটি দেশটির নির্বাচনের প্রক্রিয়া কলঙ্কিত করেছে। ভোটের দিন নিরাপত্তার কথা বলে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া—ভোটে কারচুপি নিয়ে উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিভিন্ন কেন্দ্রের দলীয় এজেন্টদের তথ্যের ভিত্তিতে পিটিআইয়ের তথ্য সম্পাদক রুফ হাসান ভোটের ফল নিয়েও জালিয়াতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকশ করেছেন।

পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকে অপ্রত্যাশিতভাবে ভোটে ভালো করেছেন, তারা এরই মধ্যে কীভাবে সরকার গঠন হবে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। পিটিআইয়ের হয়ে ভোট করতে না পারায় তাদের জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনায় প্রবল হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, সেনা সমর্থনের কারণে পিএমএল-এন সবচেয়ে বেশি আসন পাবে।

তবে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর খবর ইঙ্গিত দিয়েছে ভোটে পিএমএল-এন খুবই খারাপ ফল করবে।

এমনকি পিএমএল-এনের প্রতিষ্ঠাতা নওয়াজ শরিফ দুটি আসনের মধ্যে একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কছে হেরেছেন। ২০২২ সালে নওয়াজের পদচ্যুতির পর তার ভাই শেহবাজ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তিনিও একটিতে হেরেছেন।

এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিতে যেকোনো দলের কাছে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত