Beta
বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
Beta
বুধবার, ২২ মে, ২০২৪

দুই হাজার বিচারকের কাঁধে ৪০ লাখ মামলা: প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে আইন বিষয়ক একটি উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে প্রধান বিচারপতি। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে আইন বিষয়ক একটি উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে প্রধান বিচারপতি। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
Picture of সিরাজুম মুনিরা

সিরাজুম মুনিরা

দেশের আদালতগুলোয় ৪০ লাখেরও বেশি মামলা অপেক্ষমান উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, এসব মামলা নিষ্পত্তির দায়িত্ব মাত্র দুই হাজার বিচারকের কাঁধে।

তিনি বলেন, “এই কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন বিচারকরা। তবুও মামলাজট থেকে আমরা পরিত্রাণ পাচ্ছি না। অনেক ক্ষেত্রেই একটি মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে পারি না। অনেক ক্ষেত্রেই একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে ১০-১২ বছর লেগে যায়।”

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আইন বিষয়ক একটি উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।  ‘প্রমাণিত : অপ্রমাণিত-আইনের সহজ পাঠ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান প্রযোজনা করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

দেশের বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “একথা সত্যি, আদালতে এমন অনেক বিষয় নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা হয়, যা হয়ত মামলা পর্যন্ত গড়াতই না। আবার হয়ত অনেক বিচারপ্রার্থী মামলার খরচ চালাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন। এ সবই আমাদের দেশের বাস্তবতা।”

তিনি বলেন, সরকার গত এক দশকে বিচার কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর করার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আইনের আশ্রয় পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার আরও সহজ হয়েছে।

‘প্রমাণিত : অপ্রমাণিত-আইনের সহজ পাঠ’ অনুষ্ঠানটি বিচার প্রার্থী মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষেরা কী করলে ন্যায় বিচার পাবেন, সেটি তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হবে।

লিগ্যাল এইডের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছেন আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেওয়া বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “আইন সহজ একটি বিষয়, কোনও বিচারেই এমনটি দাবি করা যাবে না। এমনকি আমরা যারা আইন জগতের মানুষ, সারাজীবন আইনের বইপত্র-সাময়িকী কিংবা মামলার নথিতেই যাদের জীবন কেটে যাচ্ছে, তাদের কাছেও আইন প্রায়শই দুর্বোধ্য হয়ে ধরা দেয়। দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের বিভিন্ন দিক সহজবোধ্য করে তুলে ধরার কঠিন কাজটি যিনি নিজের কাধে তুলে নিয়েছেন, আজকের এই সৃষ্টিশীল কর্মের যিনি মূল রূপকার, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”

আপাতদৃষ্টিতে প্রমাণিত ও অপ্রমাণিত শব্দ দুটো সাধারণ মনে হলেও আইনের জগতে এই শব্দ দু’টি নানা মাত্রায় ধরা দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “আমাদের দেশে আদালতে কোনও কিছু প্রমাণ ও অপ্রমাণের যে যাত্রা তা অনেক ক্ষেত্রেই সুদীর্ঘ। এই যাত্রাপথে কত মানুষের দীর্ঘশ্বাস, হাহাকার জড়িয়ে রয়েছে তা আমরা অনেকেই হয়ত হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারি না।”

উন্নত রাষ্ট্রে বিভিন্ন জনপ্রিয় লিগ্যাল টিভি শো উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বে এমন অনেক রিয়েলিটি শো রয়েছে যার মাধ্যমে বিভিন্ন আইনগত সমস্যা বা বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আইনগত সচেতনতা তৈরি করা হয়।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, “বর্তমান সরকার সকল নাগরিকের আইনের সমান আশ্রয় ও ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিনা খরচে আইনি সেবা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

“বিটিভিতে যে অনুষ্ঠানটি শুরু হতে যাচ্ছে, তার ফলে ভুক্তভোগী মানুষ আইনের প্রয়োগিক, মৌলিক চাহিদা জানার মাধ্যমে সঠিক সময়ে অপরাধের প্রতিকার চাইতে পারবেন।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নাইমা হায়দার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত