Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

বিমানবন্দর দিয়ে অর্থ পাচার : ব্যাংকারসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

শাহজালাল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি : সংগৃহীত

অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রা কেনা-বেচা ও পাচারের অভিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ উপপরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম চারটি ব্যাংক ও দুটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের এসব কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন সাংবাদিকদের মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানান।

মামলার আসামিরা হলেন- রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও বুথ ইনচার্জ আনোয়ার পারভেজ, প্রিন্সিপাল অফিসার শামীম আহমেদ, মো. আশিকুজ্জামান, সিনিয়র অফিসার মো. সুরুজ জামাল, অমিত চন্দ্র দে, মো. মানিক মিয়া, সাদিক ইকবাল, মো. সুজন আলী ও মো. হুমায়ুন কবির; সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম ভূইয়া (ক্যাশ), মো. কামরুল ইসলাম (ক্যাশ), সিনিয়র অফিসার মো. সোহরাব উদ্দিন খান, খান আশিকুর রহমান, এবিএম সাজ্জাদ হায়দার (ক্যাশ), সামিউল ইসলাম খান।

এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক, বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অফিসার মো. আবু তারেক প্রধান, ব্যাংকটির সাপোর্টিং স্টাফ মো. মোশাররফ হোসেন, এভিয়া মানি এক্সচেঞ্জারের কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার মো. আসাদুল হোসেন ও ইম্পিরিয়াল মানিএক্সচেঞ্জের পরিচালক কে এম কবির আহমেদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এই ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধভাবে কেনা ডলার, ইউরো, রিয়াল, রিঙ্গিত, পাউন্ড, দিনারসহ অন্যান্য বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করে প্রতিমাসে কয়েক শত কোটি টাকার বেশি বিদেশি মুদ্রা অবৈধভাবে চোরাকারবারি ও কার্ব মার্কেটে ছেড়ে দিতেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচারকারী দুর্নীতিবাজদের অবৈধভাবে সরবরাহ করতেন।

এভাবে দেশের বিপুল পরিমাণ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হয়ে দেশের রিজার্ভ ঘাটতি তৈরি করে অর্থনৈতিক কাঠামোকে ভঙ্গুর করছে। রিজার্ভ সংকট তৈরির ফলে সরকার বিদেশ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ জরুরি পণ্যসামগ্রী আমদানি করার জন্য এলসি খুলতে না পারায় দেশের বাজারে প্রতিনিয়ত অস্থিরতা বিরাজ করছে।

সাংবাদিকদের দুদক সচিব বলেন, “বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় ও মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের অবৈধভাবে মুদ্রা সরবরাহ করছেন।”

অবৈধভাবে ডলার কেনাবেচার কারণে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে উল্লেখ করে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, “ অবৈধ এসব অর্থ দেশের বাইরে পাচারও হতে পারে। দুদক এখন থেকে এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করবে।”

জাল ভাউচারে যাত্রীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে পরে তা খোলা বাজারে ছাড়া হচ্ছিল বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও নিবন্ধিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হয়েও এরা বেআইনিভাবে বিদেশি মুদ্রা কিনে ব্যক্তিগত লাভের জন্য খোলা বাজারে বিক্রি করেছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist