Beta
শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪
Beta
শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

শোবিজ ছেড়ে ধর্ম-কর্মে যারা

cover 5 heroines
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

চলচ্চিত্রের নায়িকা থেকে হুট করে সব ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে বা স্বেচ্ছা নির্বাসনে। পরে বেছে নিয়েছেন আধ্যাত্মিক জীবন। এমন ঘটনা নেহায়েত কম নয়। ঢাকাই চলচ্চিত্রে তো বটেই, এমন ঘটনা ঘটেছে বলিউড-হলিউডেও। 

এমন কয়েকজন অভিনেত্রী নিয়েই এই লেখাটি।

কে পার্কার

যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া কে পার্কার বেড়ে ওঠেন এক রক্ষণশীল পরিবারে। ২১ বছর বয়সে পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। শুরু করেন স্থায়ী বসবাস। ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ ভালোই করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মাথায় ঢুকলো অভিনয়ের পোকা। ভর্তি হলেন ড্রামা স্কুলে। কিন্তু কি-যে হলো! মূলধারার অভিনয়ে না গিয়ে গেলেন ‘অ্যাডাল্ট ফিল্ম’ ইন্ডাস্ট্রিতে।

ট্যাবু সিনেমায় অভিনয় করার মধ্য দিয়ে এ জগতে হয়ে গেলেন রাতারাতি স্টার। আরেক অ্যাডাল্ট ফিল্ম অভিনেতা জন লেসলির হাত ধরে এ জগতে নাম লেখিয়েছিলেন তিনি। অবশ্য ৮০ এর দশকের মাঝামাঝিতেই বিদায় জানান অ্যাডাল্ট ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে। ধীরে ধীরে পরিণত হন একজন লাইসেন্সধারী আধ্যাত্মিক মনোবিশেষজ্ঞে, যে পেশায় ছিলেন ২০২২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

সোফিয়া হায়াত

ব্রিটিশ বংশদ্ভূত সোফিয়া হায়াত জন্মেছিলেন কেন্টের এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে। শৈশব থেকেই পরিবারের সাথে দ্বন্দ্ব নিয়ে বেড়ে উঠছিলেন। বহু চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে তিনি শো-বিজে পা রাখেন। কারণ বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল তার পরিবার। নিজের জীবন নিয়ে লেখা ‘ডিজঅনার্ড: হাউ আই এসকেপড অ্যান অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ অ্যান্ড অনার কিলিং টু বিকাম আ স্টার’ বইয়ে তিনি লিখেছেন সেই সংগ্রামের কথা।

পড়াশোনা করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটনের পারফর্মিং আর্ট বিভাগে। ২০১৫ সালে বলিউড পরিচালক করন জোহরকে প্রকাশ্যে ‘গে’ বলে আলোচনায় আসেন এই অভিনেত্রী। ২০১২ সালে এই অভিনেত্রীকে ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ ইটালিয়া’ এই অভিনেত্রীকে ‘কার্ভি আইকন’ হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু ২০১৬ সালে এলো আচমকা ঘোষণা। মিডিয়া ছেড়ে দিচ্ছেন সোফিয়া। ছেড়ে গেলেন কোথায়?

জানা গেল, আধ্যাত্মিক জগতের খোঁজে যাত্রা শুরু করছেন সোফিয়া। বেছে নিচ্ছেন সন্ন্যাসীর (নান) জীবন। এরপর থেকে তিনি ‘গায়া মাদার সোফিয়া’ হিসেবেই নিজেকে চিনিয়ে আসছেন।

সানা খান

অভিনয় করছিলেন একাধারে হিন্দি, তামিল এবং তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে। ‘ইয়ে হ্যায় হাই সোসাইটি’ নামের হিন্দি অ্যাডাল্ট সিনেমা দিয়ে তার অভিনয়ের যাত্রা শুরু। এরপর ধীরে ধীরে তাকে দেখা যেতে থাকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে। ব্যবসা সফল তামিল সিনেমা ‘সিলামবাত্তাম’ এ অন্যত মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন । ২০১২ সালে ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি টিভি শো ‘বিগ বস’ এ সানা খান অংশ নিয়েছিলেন।  

বলিউড স্টার অক্ষয় কুমার অভিনীত এবং শ্রী নারায়ন শিং পরিচালিত সিনেমা ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’ তে তার ছিল স্বল্প সময়ের উপস্থিতি। 

কিন্তু ২০২০ সালে সানা জানান, ‘ইসলামের শিক্ষা’ তাকে আলোকিত করেছে। মিডিয়া ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। বেছে নিচ্ছেন ‘সহী’ ইসলামী জীবন আর এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন কোভিড মহামারীর লকডাউনের সময়ে। গণমাধ্যমে শোবিজ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে ‘জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন’ বলে উল্লেখ করেন। 

জানা যায়, সুরাটের ব্যবসায়ী এবং ইসলামি স্কলার মাওলানা আনাস সাঈদ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে হয়েছেন প্রাক্তন এই বলিউড অভিনেত্রী। তারপর থেকেই এ পরিবর্তন।

মন্দাকিনি

সুপার হিট হিন্দি সিনেমা ‘রাম তেরি গঙ্গা ম্যায়লি’ এর কথা মনে আছে? বলিউডের পুরোনো দর্শক যারা, তারা এ সিনেমার কথা না জেনে যাবেন কই! 

মন্দাকিনি যার নাম আসলে ইয়াসমিন জোসেফ, এই সিনেমায় ‘গঙ্গা’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া ‘আগ অউর শোলা’, ‘জাল’ এবং ‘দুশমন’ এর মতো সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। 

তবে ৯০ দশকের শেষদিক থেকে পালটে যেতে থাকে দৃশ্যপট। কানাঘুষা শুরু হয়, মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহীমের সাথে মন্দাকিনির চলছে গোপন প্রেম। 

যদিও এগুলোকে তিনি ‘গুঞ্জন’ বলেই উড়িয়ে দিতে থাকেন। কিন্তু এ সময় ধীরে ধীরে তিনি জনসমক্ষে আসাও কমিয়ে দেন। এক সময় বলিউডের কোন পার্টি কিংবা অনুষ্ঠান কোথাও তাকে আর দেখা যেত না।বহুদিন পর জানা যায়, সাবেক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ড. কাগিয়োর রিপোঁচে ঠাকুরকে তিনি বিয়ে করেছেন এবং বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা নিয়ে পরিচালনা করছেন একটি ইয়োগা সেন্টার। স্বামী কাগিয়োর সাথে যুক্ত আছেন একটি তিব্বতী হার্বাল সেন্টারের সাথেও, যার স্বত্বাধিকারীও এই দম্পতি। এই হার্বাল সেন্টারটি তিব্বতী মেডিসিন সেন্টার হিসেবেও পরিচিত। দালাই লামার অনুসারী মন্দাকিনি বর্তমানে একজন ইয়োগা ট্রেইনার হিসেবেই সুপরিচিত। 

শাবানা

বাংলা সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তী শাবানা। যার প্রকৃত নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। চিত্রপরিচালক এহতেশাম ছিলেন তার চাচা। তিনিই তার ‘চকোরি’ সিনেমায় রত্নার নাম পালটে রাখেন শাবানা । আর শাবানা মানেই আমরা বুঝি বাংলা সিনেমার অগুনতি সুপার হিট সিনেমা। যার নামের সাথে আছে ‘সখি তুমি কার?’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘ভাত দে’, ‘শেষ উত্তর’ এবং  ‘ছুটির ঘণ্টার’ র মতো সিনেমাও। 

২৯৯টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাবানা! কিন্তু এই শাবানা ১৯৯৭ সালে হুট করেই নিজেকে সিনেমা থেকে গুটিয়ে নেন। 

ধর্ম-কর্মে মন দিতেই নাকি আর সিনেমায় ফিরতে চাননা শাবানা।

জানা যায় ১৯৯৭ সালে তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কন্যা সুমী ইকবালকে একবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন নাকি তিনি নিয়ত করেন সিনেমা ছেড়ে ধর্মচর্চায় মনোযোগী হবেন।

অবশ্য মেয়েকে ফিরে পেয়ে তিনি ছেড়েছেন অভিনয়, দেশ এবং চলচ্চিত্র।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত