Beta
বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
Beta
বুধবার, ২২ মে, ২০২৪

আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় ১৫০ জনের মৃত্যু

Afganistan_Flood
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ বাঘলানে অতিবৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি, আর নিখোঁজ রয়েছে কয়েক ডজন মানুষ।

গত কয়েকদিন ধরে বাঘলান প্রদেশের পাঁচটি জেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে এই বন্যা হয়। শুক্রবার রাতে ওই অঞ্চলজুড়ে আরও ঝড়-বৃষ্টির পরে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে তীব্র পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। এতে বেশ কিছু বাড়িঘরও ভেসে গেছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে অস্বাভাবিকভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে বন্যায় বহু মানুষ মারা গেছে।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি বিবিসিকে বলেছেন, বাঘলান প্রদেশে অন্তত ১৩১ জন এবং তাখারে ২০ জন মারা গেছেন।

যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই বাঘলানের বোরকা জেলার বাসিন্দা, যেখানে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছেন।

ওই কর্মকর্তা এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, আটকে পড়াদের উদ্ধারে বাঘলানে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে রাতে আলোর অভাবে অপারেশন সফল নাও হতে পারে।

এদিকে স্থানীয় কর্মকর্তা হেদায়তুল্লাহ হামদর্দ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, সেনাবাহিনীসহ জরুরি কর্মীরা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধান করছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘরবাড়ি হারানো কিছু পরিবারকে তাঁবু, কম্বল এবং খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

কাবুলের সঙ্গে উত্তর আফগানিস্তানের যোগাযোগ স্থাপনকারী প্রধান সড়কটি বন্ধ রয়েছে।

গত মাসে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বন্যায় কয়েক ডজন মানুষ মারা যাওয়ার পরে এই বন্যা হল। সে সময় হাজার হাজার মানুষের মানবিক সহায়তারও প্রয়োজন হয়।

প্রায় ২ হাজার ঘরবাড়ি, তিনটি মসজিদ এবং চারটি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অত্যাধিক বৃষ্টিপাত হলে স্বাভাবিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা পানির ঢল সামলাতে পারে না, ফলে আকস্মিক বন্যা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত শীতকালটি বেশি শুষ্ক থাকায় দেশটির মাটিও বৃষ্টির পানি শোষণ করতে পারছে না।

আফগানিস্তানে প্রতি বছর মুষলধারে বৃষ্টি এবং বন্যায় অনেক মানুষ মারা যায়। দেশটির বিচ্ছিন্ন গ্রামীণ এলাকায় দুর্বলভাবে নির্মিত ঘরগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফগানিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি।

বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ আফগানিস্তান গত কয়েক দশক ধরে যুদ্ধে বিধ্বস্ত। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তালেবানরা পুনরায় দেশটির ক্ষমতা দখল করে।

বন্যার পেছনে বিভিন্ন ধরনের কারণ থাকে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে চরম বৃষ্টিপাত সেই সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

তথ্যসূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত