Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

ভারতের নির্বাচনে এআই মিম যুদ্ধ

মোদীকে নিয়ে মিম।
মোদীকে নিয়ে মিম।

চলছে ভোটের বছর। এ বছর বিশ্বে যতগুলো নির্বাচন হচ্ছে, এর মধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন। আর কয়েকদিন পরেই ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

এনিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চলছে জম্পেস প্রচার। জাতীয় পার্টিগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলোও পিছিয়ে নেই প্রচারে। অনেক ক্ষেত্রে একই কৌশল নিতে দেখা যাচ্ছে দলগুলোকে।

প্রচার কৌশলে এবার বিশ্বের অন্য জায়গার মতো ভারতেও গুরুত্ব পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। দলটি তাদের অফিসিয়াল ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্যারোডি করে তৈরি করা একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ওই ভিডিওটি প্রায় ১৬ লাখের বেশি মানুষ দেখে।

‘চোর’ নামের একটি নতুন হিন্দি গানের অ্যালবামের একটি ছোট ক্লিপে গায়কের চেহারার জায়গায় মোদীর চেহারা বসানো হয়েছে।

গানটির মূল কথা হাস্যকরভাবে পরিবর্তন করা হয়। দেখা যায়, মোদী গানে গানে দেশের একজন ব্যবসায়ী ধনকুবেরের চুরির চেষ্টা এবং সরকারের কয়লা খনি, বন্দর, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির কথা বলছেন।

এই ভিডিওটি কিন্তু বাস্তব নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা একটি মিম ভিডিও। এতে মোদীর কণ্ঠস্বর ও মুখের আদল ব্যবহার করে ভারতীয় ব্যবসায়ী ধনকুবেরদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত করা হয়েছে।

একই দিন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিসিয়াল হ্যান্ডেল ইনস্টাগ্রামে মোদীর একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ।

মোদী রাস্তার উপর গাড়িতে চড়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তার আশপাশ ভর্তি সুবিধাভোগীর দলে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে কিংবদন্তী গায়ক মাহেন্দ্র কাপুরের গাওয়া একটি গান। কাপুর কিন্তু ২০০৮ সালেই মারা গেছেন। কিন্তু এআই দিয়ে তাকে ফের জীবিত করে তোলা হয়েছে।

গানের কথায় মোদীর গত নয় বছরের অর্জন তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষকদের সাহায্য করা এবং ভারতীয় বিজ্ঞানীদের চাঁদে রোভার অবতরণ করানোর মতো ঘটনা। অডিও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, অডিও ক্লিপটি এআই দিয়ে তৈরি।

গত বছর ধরেই এআই দিয়ে তৈরি করা মিম যুদ্ধ চলছে। কিন্তু এবারই প্রথমবারের মতো বিজেপি ও কংগ্রেস স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করেই তাদের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে এআই দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক কনটেন্ট শেয়ার করছে।

ভারতীয় রাজনীতিকরা।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জয়োজিত পাল বলেন, “ভিজ্যুয়াল রাজনীতি সম্পূর্ণ নতুন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক প্রচারে মাল্টিমিডিয়ার যে ব্যবহার আমরা দেখে আসছি, তার চেয়ে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে সবকিছু।”

গত ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ থেকে কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়েই যে তাদের ইন্সটাগ্রাম হ্যান্ডেলে এআই নির্মিত ভিডিও আপলোড করছে, এমন তিনটি উদাহরণ নিয়ে কাজ করেছে আল জাজিরা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক দলগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে উপহাস ও নিজেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করছে। এতে সোশাল মিডিয়াগুলো ভর্তি হচ্ছে নীতিবহির্ভূত অনেক কনটেন্টে।

অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক রাজনৈতিক কনটেন্টগুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে নীতিমালাগত সীমাবদ্ধতায় পড়েছে সোশাল মিডিয়াগুলো। ইন্সটাগ্রামের বাইরে ইউটিউব ও ফেইসবুকেও কিন্তু এসব কনটেন্ট পোস্ট করা হচ্ছে।

মেটার বর্তমান নীতি অনুসারে, বিজ্ঞাপনদাতাদের এআই সম্পাদিত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেখানোর সময় তা প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু এই নিয়ম রাজনৈতিক পেইজ ও অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর নীতিমালার এই ফাঁকফোকর দিয়েই দেদারসে এআই কনটেন্ট প্রকাশ করে যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।

মানবাধিকার রক্ষায় ডিপফেকের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করা অলাভজনক সংস্থা উইটনেসের নির্বাহী পরিচালক স্যাম গ্রেগরি।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “প্ল্যাটফর্মগুলো যখন রাজনৈতিক পেইজ ও অ্যাকাউন্টে নিজেদের লেবেল ছাড়া এআই নির্মিত কনটেন্ট ব্যবহার দেখতে পায়, তখন এই বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে আলাপ তোলার প্রয়োজনীয়তা থেকে রেহাই পাবার কোনও কারণ থাকে না।”

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ইন্টারনেটে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এআই ব্যবহারে স্বচ্ছতা থাকা উচিৎ। কারণ এআই ব্যবহার শনাক্তের ক্ষেত্রে অনেক ফাঁক রয়েছে। এতে প্রতারণার ঝুঁকিও বেশি।

বিষয়টি নিয়ে মেটার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ব্যর্থ হয় আল জাজিরা।

স্বাধীন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওভারসাইট বোর্ড’ এ বছরের শুরুতেই মেটার কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার সমালোচনা করেছে। বোর্ড মনে করে, মেটার নীতির পরিধি আরও প্রসারিত করে ভুয়া অডিওর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর পোস্টে লেবেল যুক্ত করার পরামর্শও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এর জবাবে মেটা এক ব্লগ পোস্টে জানায়, তারা নিজস্ব এআই টুল দিয়ে তৈরি ছবিগুলোতে লেবেল যুক্ত করবে। এছাড়াও, তারা অন্য কোম্পানির টুল ব্যবহার করে তৈরি এআই অডিও ও ভিডিও শনাক্ত এবং লেবেল যুক্ত করার কৌশলগত মান নির্ধারণে অংশীদারদের সঙ্গেও কাজ করছে।

ইউটিউব বিতর্কিত এআই ভিডিওগুলোর বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করেনি। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে ইমেইলে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, “আমরা ড্রিম স্ক্রিনের মতো ইউটিউব জেনারেটেড এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে লেবেল দেখানো শুরু করেছি। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অবশ্যই এআই কনটেন্ট তৈরি করলে তা প্রকাশ করতে হবে।”

নরেন্দ্র মোদীর মুখচ্ছবির আদলে এআই দিয়ে তৈরি করা মডেল।

গোপন এআই মিম যোগাযোগ

কংগ্রেসের ইন্সটাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করা মোদীর ‘চোর’ ভিডিওতে ডিপফেকের প্রমাণ স্পষ্ট। ঠোটের সঙ্গে কণ্ঠস্বরের অসামঞ্জস্য ও মোদীর মুখমণ্ডলের ত্রুটি এর প্রমাণ।

তবে ভিডিওটি অনলাইনে হাসির ঝড় তুলেছে বললে ভুল বলা হবে না। কারণ এটি ১৬ লাখের বেশি মানুষ দেখেছে এবং মন্তব্যও করেছে। ইতিহাসবিদ ইশান শর্মা এক মন্তব্যে বলেন, “২০২৪ সালের খবর জানি না, তবে আপনারা মিম উৎসবে জিতে গেছেন।”

২০২৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বে আছেন বৈভব ওয়ালিয়া।

তিনি আল জাজিরাকে জানান, সোশাল মিডিয়ায় দলের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মিমভিত্তিক যোগাযোগ বেশি কার্যকর।

তার মতে, ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ও সোশাল মিডিয়ার চলতি প্রবণতাগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রেই এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।

ওয়ালিয়া আরও বলেন, “যোগাযোগ যখন মিম ও ব্যাঙ্গাত্মক উপায়ে হয়, তখন চাইলেও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা যায় না। ভারতে রাজনৈতিক দলগুলোর অফিসিয়াল চ্যানেলগুলো এমন এক দিকে যাচ্ছে যেখানে দিন দিন পরিস্থিতি বাজে হচ্ছে। কংগ্রেসের মধ্যে অনেক তরুণ আছেন, যারা বিজিপকে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ নোংরাই হচ্ছেন।”

এআই কনটেন্টে লেবেল দিয়ে চিহ্নিত করা নিয়ে ওয়ালিয়া কোনও মন্তব্য করেননি।

বিজেপির অফিসিয়াল ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা দুইটি ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কিনা তা বোঝা বেশ কঠিন ছিল।

আল জাজিরা ভিডিও ক্লিপ দুইটি দুইজন স্বাধীন ডিপফেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে শেয়ার করে যাচাইয়ের জন্য যে, এগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কিনা।

তারা ভিডিও দুইটির দ্বিতীয়টির ব্যাপারে দ্বিধান্বিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের একজন মনে করেন, দ্বিতীয় ভিডিওর কণ্ঠস্বরটি এক রাজনীতিকের অনুকরণে তৈরি করা হতে পারে। তবে তারা দুজনেই জানিয়েছেন যে, প্রথম ভিডিওর গানের কণ্ঠস্বর এআই দিয়ে তৈরি।

ইউবি মিডিয়া ফরেনসিক ল্যাবের পরিচালক সুয়েই লুই আল জাজিরাকে জানান, তারা ভিডিউ দুইটির নমুনা বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক এআই কণ্ঠস্বর শনাক্তকরণ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছেন। এতে জানা গেছে, নমুনাগুলোর ৬০ থেকে ৯৯ শতাংশ কণ্ঠস্বরই এআই দিয়ে তৈরি।

বিষয়টি নিয়ে বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়ার সঙ্গে আল জাজিরা কথা বলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।

গায়ক মাহেন্দ্র কাপুরের ১৯৭০ সালে গাওয়া হিন্দি গানটি যে ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি এআই নির্মিত বলে নিশ্চিত করেছেন দুই বিশেষজ্ঞ।

ইন্ডিয়া ভয়েস এআই স্টার্টআপ ডুবভার্স.এআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভার্শুল গুপ্ত বলেন, “নির্মাতারা কাপুরের কণ্ঠস্বরকে কৃত্রিমভাবে রূপান্তর করতে পুনরুদ্ধার-ভিত্তিক ভয়েস রূপান্তর (আরভিসি) মডেল ব্যবহার করেছেন।”

এআই মডেল।

কাপুরের জনপ্রিয় গানগুলো সত্তুরের দশকের শুরুতে রেকর্ড করা হয়েছিল। তখন অ্যানালগ মিক্সিং ফরম্যাট ব্যবহৃত হতো। আধুনিক আরভিসি মডেলগুলো এই ফরম্যাটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গুপ্তা বলেন, কাপুরের কণ্ঠস্বরের এআই সংস্করণ তৈরি করতে নির্মাতারা সম্ভবত উচ্চ মানের কণ্ঠস্বর ডেটা সংগ্রহ করেছেন। এআই মডেল প্রশিক্ষণের আগে অডিও থেকে পুরোনো ত্রুটিগুলি দূর করতে ‘ম্যানুয়ালি পরিষ্কার’ করেছেন।

দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যায়, মমতা ব্যানার্জি ও শশি থারুরের মতো বিরোধীদলীয় রাজনীতিকরা কবিতা পড়ছেন। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে ইন্ডিয়া নামে যে ২৮ দলীয় জোট হয়েছে, একে ব্যাঙ্গ করতেই ওই ভিডিওটি তৈরি করা হয়।

গবেষকদের মতে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাগর বিষ্ণোইয়ের মতো অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো এআই দিয়ে ভিডিও-অডিও তৈরি করছে। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা বিষয় যে, কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও দেখছে না।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়িয়ান প্রোগ্রেসিভ ফেডারেশন (এআইএডিএমকে) তাদের এক্স একাউন্টে এক মিনিট দীর্ঘ জয়ললিতার একটি অডিওবার্তা প্রকাশ করে। জনপ্রিয় এই নেত্রী ২০১৬ সালেই মারা যান। কিন্তু এখন তার কণ্ঠস্বরকে এআইয়ের সাহায্যে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর একাজ করছে দলটির ডিজিটাল মিডিয়া শাখা।

প্রয়োজন তথ্যের স্বচ্ছতা

রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সোশাল মিডিয়ার ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সম্প্রতি এআই ব্যবহার করে তৈরি করা মিম ও ভিডিওর মাধ্যমে জনগণের মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল বাড়ছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাল বলেন, “এটি প্রযুক্তি কোম্পানি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে যেভাবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে, সেই পদ্ধতি পরিবর্তন করাবে। কারণ ভবিষ্যতে দর্শকদের জন্য এটি জানা জরুরি হয়ে পড়বে যে, তারা যে তথ্য দেখছেন, তার উৎস ঠিক কোথায়। বর্তমানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এবিষয়ে ভালো কাজ করছে না।”

সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে এআই দিয়ে নির্মিত ছবি, ভিডিও ও অন্য কনটেন্ট শেয়ার করছে। এই প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক হ্যান্ডেলে এসব কনটেন্ট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা উচিত।

এআইয়ের ব্যবহার ও সাংঘর্ষিক বাস্তবতা

তামিলনাড়ুর পুলিশ গত জানুয়ারিতে এক্সে একটি ব্যঙ্গাত্মক এআই ভিডিও শেয়ারের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। ৮৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে স্থানীয় প্রভাবশালী কবি ভাইরামুথুর কণ্ঠে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর আর্থিক কেলেঙ্কারি ও পরিবারতন্ত্রের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।

পুলিশের কাছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, “রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ড. কলাইগনারকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যেই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। কবিতাটি এআই দিয়ে নির্মিত এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতেই করা হয়েছে।”

এখানে উল্লেখ্য যে, এই একই কাজ কিন্তু দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোও করছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এর আগে ২০২১ সালে গুজরাটের ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গায়ক টেইলর সুইফটের একটি গান রূপান্তরিত করে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist