Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

রাখাইনের গুরুত্বপূর্ণ শহর আরাকান আর্মির দখলে

আরাকান আর্মির সদস্যরা।
আরাকান আর্মির সদস্যরা।

মিয়ানমারের রাখাইনে চীনের একটি বন্দর প্রকল্পের পাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করেছে আরাকান আর্মি (এএ)।

রাখাইনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী বলেছে, প্রায় তিন মাস যুদ্ধের পর রাজ্যের দক্ষিণ উপকূলে চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) কাছের দ্বীপ শহর রামরি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।

রামরি শহরটি কিয়াকফিউ শহরের সঙ্গে একই দ্বীপে অবস্থিত। কিয়াকফিউতে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করেছে কিয়াকফিউ এসইজেড ডিপ সি পোর্ট কোম্পানি লিমিটেড। এটি চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন গ্রুপের মিয়ানমার পোর্ট ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে দেশটির সামরিক-সরকার সমর্থিত কিয়াকফিউ এসইজেড ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পটি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ১৭০০ কিলোমিটারের চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের মূল প্রকল্পগুলোর একটি। এই অর্থনৈতিক করিডোর আবার বিশ্বব্যাপী চীনের বৃহত্তর বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভেরও অংশ।

জান্তা গত কয়েক মাস ধরে কিয়াউকফিউ শহরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। আকাশ পথে প্রচুর সেনা পাঠিয়েছে। এরপর টানা গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলার পরও জান্তা সরকার আরাকান আর্মিকে হটাতে পারেনি। সোমবার আরাকান আর্মির যোদ্ধারা শহরটি দখল করে নেয়।

রামরীতে সংঘর্ষ শুরু হয় গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। কয়েক মাসের যুদ্ধে শহরটির সরকারি হাসপাতাল, বাজার, স্কুল ও ধর্মীয় ভবনগুলো সব ধ্বংস হয়ে গেছে।

আরাকান আর্মি বলেছে, তারা শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া জান্তা সৈন্যদের তাড়া করে আটকও করছে।

তারা শহরটির বাসিন্দাদের ফিরে আসতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলেছে। কারণ জান্তা সৈন্যরা গত তিন মাস ধরে শহরটির আশেপাশে অসংখ্য মাইন ও বোমা স্থাপন করেছে। সেগুলো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত শহরটির বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ি ফিরতে অপেক্ষা করতে হবে।

আরাকান আর্মি জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য রাথেডং শহরের জান্তা ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর।

রবিবার ও সোমবার মংডু শহরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আরাকান আর্মির সৈন্যরা ফাঁড়ি ছেড়ে পিছু হটা জান্তা বাহিনীকে অবরুদ্ধ করলে ওই সংঘর্ষ হয়।

এই সংঘর্ষ চলাকালে সম্প্রতি আরাকান আর্মির হাত থেকে বাঁচতে জান্তা বাহিনীর অন্তত ১৭৭ জন সেনা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ১৮০টি জান্তা দুর্গ এবং নয়টি শহর দখল করে নিয়েছে। পাশের চিন রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর পালেতোয়াও দখল করে নিয়েছে তারা।

কাচিনে আরও ২০টি ঘাঁটি হারিয়েছে জান্তা সরকার

পিপলস ডিফেন্স ফোর্স ও কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) গত সপ্তাহে কাচিন রাজ্যের চীন সীমান্তবর্তী একটি প্রধান সড়ক বরাবর জান্তার ঘাঁটিগুলোতে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করেছে।

কেআইএ মুখপাত্র বলেছেন, এরপর থেকে তারা ২০টিরও বেশি সামরিক ফাঁড়ি ও ঘাঁটি দখল করেছেন।

কেআইএ তথ্য কর্মকর্তা কর্নেল নাউ বু সোমবার সংবাদ মাধ্যম ইরাবতীকে বলেছেন, “৭ মার্চ থেকে আমরা সামরিক জান্তার কাছ থেকে ২০টিরও বেশি ঘাঁটি দখল করেছি। এর মধ্যে প্রায় ১০টি ঘাঁটি আমাদের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাকিগুলো হল ফাঁড়ি যা মূল ঘাঁটিগুলোর সহায়ক হিসেবে কাজ করে।”

কেআইএ ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের জোটবাহিনী গত বৃহস্পতিবার সকালে ১২০ মাইল-লম্বা মাইটকিনা-ভামো রোড বরাবর জান্তার সামরিক ফাঁড়ি ও ঘাঁটিগুলোতে একযোগে আক্রমণ শুরু করে। এরপর তারা রবিবারের মধ্যে লাইজা শহরে জান্তার সদর দফতরের কাছের দুটি বড় জান্তা ঘাঁটি দখল করে নেয়। ঘাঁটি দুটি হলো কাসেন কাউং ও হাকায়া বাম।

কর্নেল নাও বু বলেন, কাসেন কাউং দখল করা হয় শনিবার। আর হাকায়া বাম দখল করা হয় রবিবার সন্ধ্যায়। কাসেন কাউং ঘাঁটি লাইজা থেকে প্রায় পাঁচ মাইল পশ্চিমে এবং সেখানে প্রায় ৫০ জন জান্তা সেনা মোতায়েন ছিল।

কাসেন কাউং কেআইএর জন্য সামরিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি কারণ এটি লাইজার জন্য হুমকি। জান্তা সৈন্যরা ঘাঁটিটি থেকে শহর ও এর আশেপাশের এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছিল।

কর্নেল নাও বু আরও বলেন, কেআইএ ও মিত্র বাহিনী ভামো, মোমাউক ও ওয়াইংমাও নামের আরও তিনটি শহরে জান্তা সরকারের ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। মিটকিনা-ভামো রোড এই তিনটি শহরের মধ্য দিয়েও গিয়েছে।

জান্তা সরকারের বিমানগুলো প্রতিরোধ বাহিনীর আক্রমণের মুখে থাকা ঘাঁটিগুলোর চারপাশে ও পাশের গ্রামগুলোতে বোমাবর্ষণ করছে।

ওয়াংমাও শহরের পাশের কো মাইল (নাইন মাইল) গ্রামের প্রায় ৯০০ বাসিন্দা গ্রামটিতে আটকা পড়েছেন। গ্রামটি জান্তা বাহিনীর সৈন্যরা ঘিরে রেখেছে এবং বাসিন্দাদের পালিয়ে যেতে দিচ্ছে না।

গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন জান্তা সরকারের যুদ্ধ বিমানগুলো গ্রামে হামলা চালায় বলে গ্রামের বাসিন্দারা হাতে খোঁড়া মাটির নিচের বম্ব শেল্টারগুলোতে লুকিয়ে আছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার গ্রামে বোমা ফেলায় তিন নারী নিহত এবং ৪, ১২ ও ১৩ বছর বয়সী তিন শিশু আহত হয়।

ওই বাসিন্দা আরও বলেন, “আমাদের গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ অঞ্চলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। জান্তা সৈন্যরা আমাদের গ্রামে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অথচ খাওয়ার জন্য আমাদের কাছে শুধু ভাত আর লবণ ছাড়া আর কিছু নেই।”

তথ্য সূত্র : ইরাবতী নিউজ

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist