Beta
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

টিকেট কালোবাজারিতে কর্মী গ্রেপ্তার : সহজের ব্যাখ্যা

মিজান
টিকেট কালোবাজারির দায়ে সহজ ডটকমের চার কর্মীসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব

নিরাপদ বাহন হিসেবে এখনও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পছন্দ ট্রেন। স্বাভাবিকভাবেই ঈদ এলে বাড়ে ট্রেনের টিকেটের চাহিদা। একইসঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ে টিকেট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য।

গত দুই দশকে বাংলাদেশে রেলওয়ের টিকেট বিক্রির পদ্ধতি ও অপারেটর বদলেছে কয়েকবার, কিন্তু কালোবাজারি বন্ধ হয়নি। বরং টিকেট বিক্রির পদ্ধতি যতই আধুনিক হয়েছে, তার সঙ্গে আধুনিক হয়েছে কালোবাজারিরাও।

সবশেষ বৃহস্পতিবার কালোবাজারি চক্রের নয়জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন টিকেট বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি সহজ ডটকমের কর্মী।

এরা হলেন- অফিস সহকারী মিজান ঢালী, সোহেল ঢালী, স্টেশন রিপ্রেজেন্টেটিভ সবুর হাওলাদার ও কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্ভার রুমের অপারেটর নিউটন বিশ্বাস। এছাড়া আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

খোদ টিকেট বিক্রির প্রতিষ্ঠান থেকে কালোবাজারি চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। উঠেছে না সমালোচনাও।

এ বিষয়ে শনিবার নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে সহজ ডটকম। সেখানে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত যে কোনও অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাত্ম থাকবে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েকজন অসাধু কর্মীর কাজের দায়ে পুরো প্রতিষ্ঠানকে না মাপতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সহজ ডটকম বলেছে, দেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন টিকেট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গ্রাহকসেবায় সহজ গত ১০ বছরের শুদ্ধতা ও স্বচ্ছতার ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।

সেখানে বলা হয়, “টিকেট কালোবাজারি নিয়ে র‌্যাবের সাম্প্রতিক তদন্ত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা সাপেক্ষে সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন (যৌথ উদ্যোগ) নৈতিক ব্যাবসায়িক নীতির অনুশীলনের উপর উপর্যুপরি গুরুত্বারোপ করেছে।”

মুষ্টিমেয় অসাধু ব্যক্তির অপরাধমূলক কার্যকলাপের প্রতিফলন হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখারও আহ্বানও জানায় সহজ।

সহজ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা কাদির বলেন, “সহজ সিনেসিস-ভিনসেন (যৌথ উদ্যোগ) কোনোভাবেই রেল টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমরা র‌্যাবের তদন্ত প্রক্রিয়ায় শতভাগ সহযোগিতা করেছি। আমরা কেবল টিকেটিং ব্যবস্থা প্রদানকারী, প্রণয়নকারী নই। বাংলাদেশ রেলওয়ে আমাদের টিকেটিং ব্যবস্থা ব্যাবহার করে। এর আগে আমাদের টিকেটিং ব্যবস্থা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্তৃক পরিক্ষিত ও পর্যবেক্ষিত হয়েছে। সেসব অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি।

“র‌্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ের সঙ্গে আমরাও একমত পোষণ করে বলতে চাই, এটি একটি স্বতন্ত্র ঘটনা এবং কোনোভাবেই এর সঙ্গে আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।”

রেল টিকেট কালোবাজারি রোধে র‌্যাব, এনএসআইসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকায় সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “শুধু তদন্ত প্রক্রিয়াই নয়, বরং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যাবস্থা নিতেও প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তারা আরও জানান যে সকল পরিস্থিতিতে সর্বোত্তম গ্রাহক সেবা ও গ্রাহকের আস্থা অটুট রাখতে সহজ বদ্ধ পরিকর।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist