Beta
শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

প্রত্যক্ষদর্শী আমিনের চোখে আগুনের বর্ণনা

Amin

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজের আগুনের প্রত্যক্ষদর্শী মো. আমিন। বাঁচার তীব্র আকুতি থেকে ভবনটির তিনতলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন তিনি।

কোমরে আঘাত পেলেও বেঁচে গেছেন। বাঁচেনি তার সঙ্গে থাকা ক্যাম্পাসের বড় ভাই মিনহাজ।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আমিনের সঙ্গে কথা হয়েছে সকাল সন্ধ্যার।

তিনি বলেন, “মাত্র ৫-৬ মিনিটেই সব অন্ধকার হয়ে যায়। সিঁড়ি দিয়ে উঠে চারতলায় খাবার অর্ডার করি। এর দুই থেকে তিন মিনিটের মাথায় বিদ্যুৎ চলে যায়। তখনও সঙ্গেই ছিলেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বড় ভাই মিনহাজ। আমি বেঁচে ফিরলেও, ফেরাতে পারিনি তাকে।’

আগুন লাগার খবর কিভাবে পেলেন? এ প্রশ্নের উত্তরে আমিন বলেন, “হঠাৎ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। এরই মধ্যে চেঁচামেচি শুরু হয় ভবনের ফ্লোরে ফ্লোরে। তখনও মিনহাজ আর আমি একসঙ্গে ছিলাম। ধোঁয়া বেশি দেখে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করি। সিঁড়িতে দেখি সবাই তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হচ্ছে। সেজন্য আবার ওপরে উঠি। তখন আর মিনহাজ ভাই আমার সঙ্গে ছিলেন না। চোখের পলকেই সব শেষ হয়ে যায়।”

আমিনের বেঁচে ফেরা

আপনি কীভাবে বেঁচে গেলেন- জানতে চাইলে আমিন বলেন, “আমি তিনতলা থেকে লাফ দিয়ে পাশের খোলা মাঠে পড়ি। ভেবেছিলাম আমার কোমর ভেঙে গেছে। হামাগুড়ি দিয়ে মেইন রোডে আসি। তারপর ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা আমাকে তাদের গাড়িতে করে মেডিক‍্যালে নিয়ে যায়। এরপর এখন জানতে পারলাম মিনহাজ ভাই নেই।

“আমি, মিনহাজ, অরণ্য একসঙ্গেই উঠি। সঙ্গে মিনজাহ ভাইয়ের বন্ধু নাজমুল ছিল। তার সন্ধান এখনও মেলেনি।”

আগুনের সূত্রপাত নিচতলা থেকে হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

মৃত্যুর আধা ঘণ্টা আগে তোলা সেলফি। পেছনে ঘড়ি হাতে মিনহাজ, সামনে মো. আমিন।

কোমরে আঘাত পেয়ে আহত, তবুও মিনহাজের খোঁজে ঢামেকে

আমিনের ডান হাত ধরা তার মা, বাম হাত ধরে ছিলেন অরণ্য। সাদা পাঞ্জাবি পড়া আমিন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এলেন ক্যাম্পাসের বড় ভাই রাজুর কাছে। রাজু বসা ছিলেন মেডিক‍্যালের পাশেই একটি চা দোকানে। কথা বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আমিন।

তিনি বলেন, “জানালা দিয়ে ৬০-৭০ জনকে বের হতে দেখি। ভেবেছিলাম মিনহাজ ভাইও বের হতে পেরেছে। আহত হয়েও ভাইকে দেখতে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম ভাই মেডিক‍্যালে আমার মতো আহত হয়ে ভর্তি আছেন। কিন্তু এখন জানতে পারলাম তিনি আর নেই। আর কোনও দিন আসবেও না।”

বেঁচে ফেরা অপর প্রত্যক্ষদর্শী মিনহাজের ক্যাম্পাসের বড় ভাই অরণ্য। তার সঙ্গেও কথা হয় সকাল সন্ধ্যার।

তিনি বলেন, “আগুন লাগার কিছু আগেই ওই ভবন থেকে বের হয়ে আসি আমি আর মেহেদি হাসান। এর কিছু পরেই আগুনের ঘটনা ঘটে। দ্রুত ভবনে ওঠার চেষ্টা করি। কিন্তু ধোঁয়ার কারণে ব্যর্থ হই। কারণ দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মিনহাজ আর নাজমুলের খোঁজে সারারাত আমি ও আমাদের ছোট ভাই বন্ধুরা হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করি। কিন্তু কোথাও পাইনি।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist