Beta
সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪
বিশেষদের খেলায় অশেষ সাফল্য- ২

সম্মাননা আর সম্মানিতে জীবনের বাঁকবদল

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী অন্তত ৩৪ লাখ, যারা সমাজে অবহেলিত। অথচ তাদের নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশ দুই মাস আগে পেয়েছে স্পেশাল অলিম্পিকস ইন্টারন্যাশনালের ‘শোকেস’ অ্যাওয়ার্ড। এই ‘বিশেষ’দের নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন মাতিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তাদের সাফল্য, সুযোগ-সুবিধা আর কার্যক্রম নিয়ে তিন পর্বের এই আয়োজনের আজ দ্বিতীয় কিস্তি। লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম।
কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সান্নিধ্য পেয়েছিল বাংলাদেশ স্পেশাল ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

খেলার মাঠে সাফল্য আছে আকাশছোঁয়া। তাই বলে এমন সাফল্যে যে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের খুব অর্থযোগ হচ্ছে বা জীবন-ব্যবস্থা বদলে যাচ্ছে, এমন নয়। তবে সম্মান আর সম্মানিতে কিছু তৃপ্তিযোগ তো হচ্ছেই। যেমন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছোঁয়ায় উদ্দীপ্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা। এই ‘বিশেষ’ ক্রীড়াবিদদের সুবাদে গ্রামে-গঞ্জে বিশেষ উন্নতিও হচ্ছে এখন। এটাও কম পাওনা নয়।

ম্যারাডোনার সান্নিধ্য

দিনটা ছিল ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ। পরের বছর স্পেশাল অলিম্পিকস ওয়ার্ল্ড সামার গেমসের মহড়ায় আরব আমিরাতে ডাকা হয় অংশগ্রহণকারী ৩০টি দেশের ইউনিফায়েড ফুটবল দলকে (বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে থাকেন স্বাভাবিক কয়েকজন ফুটবলার)। বাংলাদেশের ফুটবলাররা ছিলেন ফুজাইরায়। তখন আমিরাতের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আল ফুজাইরার কোচ ছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো  ম্যারাডোনা।

আয়োজকদের ডাকে সাড়া দিয়ে ম্যারাডোনা আসেন বাংলাদেশের অনুশীলনে। দলের স্বাভাবিক খেলোয়াড়দের জন্য সেই মাহেন্দ্রক্ষণটা ছিল আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। তবে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ফুটবলাররা বুঝতেই পারছিলেন না আগন্তুক একজনকে নিয়ে মাতামাতির কারণটা কী? তাদের কাছে ম্যারাডোনা যা, প্রতিবেশী আব্দুর রহিমও তাই! তবে ম্যারাডোনার পরিচয় বোঝানো পর এই কিংবদন্তিকে ছাড়তেই চাইছিলেন না আর।

স্পেশাল অলিম্পিকসের সেই দলের চিকিৎসক ছিলেন হাফিজুর রহমান। পাঁচ বছর আগের স্মৃতি হাতড়ে তিনি জানালেন, ‘‘বুদ্ধি প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের হাতে পরম মমতায় চুমু খাচ্ছিলেন ম্যারাডোনা। আমাদের উৎসাহিত করতে বলেছিলেন, ‘টুর্নামেন্টে কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে হবে বাংলাদেশকে’। সত্যিই পরের বছর আমরা চ্যাম্পিয়ন হই বিশ্ব সামার গেমসে।’’

খোঁজ রাখেনি প্রথম গেমসের খেলোয়াড়দের

ওয়ার্ল্ড সামার গেমসে প্রথমবার ১৯৯৫ সালে অংশ নেয় বাংলাদেশ। নিউ হ্যাভেনের সেই গেমসে সফটবল থ্রোতে বাংলাদেশকে প্রথম সোনা এনে দেন লুনা আক্তার। একই ইভেন্টের পুরুষ বিভাগের সোনা বাংলাদেশের সুমন ইসলামের। আর ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতেন লুলু মারজান।

অ্যাথলেটিকসের এই তিনটা ইভেন্টেই সোনা ছিল বাংলাদেশের। ২৮ বছর পরে এসে স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশ আর সফটবলে অংশ নেয় না। তাই লুনা আক্তার ও সুমন ইসলামের খোঁজ নেই স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশে। এমনকি সেবার ২০টি পদক নিয়ে দেশে ফিরলেও বিমানবন্দরে ফুলের মালা নিয়ে যায়নি কেউ। পরে খোঁজও নেয়নি আর।

সফলরা সংবর্ধনা পাচ্ছেন এখন

২৮ বছর আগের লুনা, লুলু, সুমনদের মতো আর অবহেলিত নন স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। বার্লিনের ওয়ার্ল্ড সামার গেমসের সফল খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার পেয়েছেন নিজেদের জেলায়।

গত বছর বার্লিনে ২৪টি সোনাসহ মোট ৩৩ পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। শুধু পাবনার অ্যাথলেটরাই পান ১২টি সোনা ও ৪টি ব্রোঞ্জ। দেশে ফেরার পর তাদের সংবর্ধনা দেয় পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ ও পাবনা পাইওনিয়ার লায়ন্স ক্লাব । উপজেলা পরিষদের সংবর্ধনায় পাবনা সদর আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক প্রিন্স অর্থ পুরস্কার দেন পদকজয়ীদের।

খেলোয়াড়দের এমন সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে পাবনা রিফাত মানবিক বধির সংস্থার। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশের পরিচালক ও পাবনা শাখার (সাব চ্যাপ্টার) সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হোসেন বাদশা, ‘‘রিফাত বধির সংস্থা ভালো কাজ করেছে। আমরাও গেমসের আগে বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলাম। সবার চেষ্টাতেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য আমাদের জেলার।’’

সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে পাবনার খেলোয়াড়দের। ছবি: সংগৃহীত

‘ভোলাস চিলড্রেন স্পেশাল স্কুল বাংলাদেশ’ থেকে পাঁচ জন অংশ নিয়েছিলেন বার্লিন গেমসে। পদক পেয়েছেন সবাই। দেশে ফেরার পর এই পাঁচজনকে সংবর্ধনা দেয় ভোলা জেলা প্রশাসন।

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তারাশির (দক্ষিণ পাড়া) রুপালি খাতুন দুটি পদক জিতেছিলেন সাঁতারে। নড়াইল জেলা পুলিশ সংবর্ধনা দিয়েছে তাকে। 

জামালপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের ১৩ জন অংশ নিয়েছিলেন বার্লিন গেমসে। তাদের সবাইকে সংবর্ধনা দেয় জামালপুর পৌরসভা। এছাড়া একই জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদের রবিউল ইসলাম রবিন সোনা জিতেছিলেন লংজাম্পে। উপজেলা প্রশাসনের সংবর্ধনায় রবিনের হাতে ক্রেস্ট ও অর্থ তুলে দিয়েছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

নেত্রকোণা কামরুন্নেছা আশরাফ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের পাইয়িম মিয়া সোনা জিতেছিলেন সাঁতারে। দেশে ফেরার পর শহরের মোক্তারপাড়া পাবলিক হল মিলনায়তনে সংবর্ধনা দেওয়া হয় পাইয়িম মিয়াকে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু।

এর আগে ২০১৯ আবুধাবি ওয়ার্ল্ড সামার গেমসের পদক জয়ীদের ঢাকায় সংবর্ধনা দিয়েছিল মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। আর্থিক পুরস্কারও পেয়েছিলেন সবাই। বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে এভাবে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়ায় সন্তুষ্ট স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশের জাতীয় পরিচালক ফারুকুল ইসলাম, ‘‘সমাজের গণ্যমান্যরা সংবর্ধনা দিচ্ছেন সমাজেরই অবহেলিত এই খেলোয়াড়দের। ওরা সম্মান পাচ্ছে, অর্থ পাচ্ছে, মূল স্রোতেও ফিরছে অনেকে-এই বাঁকবদলই তো লক্ষ্য আমাদের।’’

খুশি অভিভাবকরা

পাবনা সদর উপজেলার জালালপুর গ্রামের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী সাদিয়া খান সেতু জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। সেতুর ভাই মঞ্জু মিয়া একই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করলে দুর্যোগ নেমে আসে পরিবারটির ওপর। দুই শিশু সন্তানকে ফেলে তাদের বাবা বিয়ে করেন আরেকটি। অনাদর আর অনাগ্রহে বড় হতে থাকা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই ভাই-বোন বার্লিন ওয়ার্ল্ড সামার গেমসে জিতেছেন পদক।

সেতু-মঞ্জুর মা আলেয়া বেগম ভীষণ খুশি দুই সন্তানের সাফল্যে, ‘‘অনেক বড় লোকের ঘরের প্রতিবন্ধী সন্তানও আদর যত্ন পায় না। আমাদের মতো গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা আরও বেশি অবহেলিত। আমার দুই সন্তান ছোট থেকে খেলার মাঠে গেলে ওদের বন্ধুরা ঠাট্টা করতো। ওরাই দেশকে সম্মান এনে দিয়েছে। দেশে ফেরার পর পাবনার সবাই আদর করছে ওদের, টাকা দিচ্ছে, চিকিৎসা করাচ্ছে।’’

মেয়েদের ফুটবলে সোনাজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিল ১৪ বছরের স্বর্ণা আক্তার। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বারুইগ্রামের হতদরিদ্র কৃষক নুরু মিয়ার এই মেয়ে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বার্লিন থেকে গ্রামে ফেরার পর কেউ খোঁজ নেয়নি স্বর্ণার। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তাদের বাড়িতে ফুলের তোড়া নিয়ে যান ময়মনসিংহ-৯ আসনের সাংসদ মো. আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন।

স্বর্ণা হাত দিয়ে ইঙ্গিতে বাড়ির পাশের ৩০০ গজ ব্যবহার অনুপযোগী রাস্তাটা পিচ ঢালাই করার অনুরোধ করেছিলেন সেদিন। তার অনুরোধে রাস্তাটা পিচ ঢালাই করে দিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। মেরামত করে দিয়েছেন স্বর্ণাদের ভাঙা বাড়িও।

বাবা-মায়ের সঙ্গে স্বর্ণা। ছবি: সংগৃহীত

মেয়ের জন্য রাস্তা আর বাড়ির চেহারা বদলে যাওয়ায় খুশি স্বর্ণার মা নাজমা আক্তার, ‘‘বাড়িতে আসার পর মেয়ে ইশারায় বোঝাতে চাইতো বার্লিনে জেতা পদকটা কোথায় রাখবে? কেউ যদি নিয়ে যায়! আমাদের ভাঙা ঘরে তো রাখার ভালো জায়গা নেই। এমপি সাহেব যে বাড়ি আর রাস্তা ঠিক করবেন, কল্পনাও করিনি। এই মেয়েকে নিয়ে কতজন কত টিপ্পনী কেটেছে। এখন তারাই গর্ব করে ওকে নিয়ে।’’

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তারাশি (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামের বর্গাচাষি টুকু মিয়া শেখের মেয়ে রুপালি খাতুন। বার্লিনে ৪ গুণিতক ২৫ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে সাঁতারে সোনা আর ৫০ মিটার বেকস্ট্রোকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। এজন্য সংবর্ধনা আর আর্থিক পুরস্কার পাওয়ায় খুশি তার বাবা টুকু মিয়া, ‘‘নড়াইলে কে চিনতো আমাকে? মেয়ের সাফল্যে এখন সবাই এক নামে চিনে। মেয়েকে স্কুল আর খেলার মাঠে পাঠানোয় প্রশংসা করে। এর চেয়ে বেশি আর কি চাইতে পারি?’’

সরকারি উদ্যোগ

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি ও অবকাঠামোগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন এখন। স্কুলের শিক্ষার্থী আর খেলোয়াড়রাও এর বাইরে নন। ঢাকার খিলগাঁও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা সুলতানা জানালেন, ‘‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে সুবর্ণ কার্ড করতে হয় প্রতিবন্ধীদের। এই কার্ড যাদের আছে তারা একটা সময় প্রতি মাসে পেতেন ৩৫০ টাকা। এখন প্রতি তিন মাস অন্তর দেওয়া হয় ২৫৫০ টাকা। আজীবন তারা টাকাটা পাবেন, সরকারের খুব ভালো উদ্যোগ এটা।’’

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ইনস্টিটিউট অব নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপিসহ অন্য চিকিৎসা প্রদানে ৬৪ জেলায় ১০৩ প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্র স্থাপন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে ঘরে বসে বিভিন্ন সেবাগ্রহণে সরকারের পদক্ষেপসহ সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা থাকলেও এ পর্যন্ত কোনও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী খেলোয়াড় সরকারি চাকরি পাননি। প্রতিবন্ধীরাও যে কোটায় সহজে চাকরি পাচ্ছেন, তাও নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ২০২০ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা পূরণ করে নিয়োগ দিতে রিট করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮৫ প্রতিবন্ধী প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এই রায় ঘোষণার জন্য এ বছরের ১৪ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

মুক্তা পানি উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশেষ শ্রেণির মানুষেরা। ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যোগ্যতা ও কোটা থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হতে প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের হাইকোর্টে রিট করতে হবে কেন?

সরকারি চাকরি ‘সোনার হরিণ’ বলে স্পেশাল অলিম্পিকস বাংলাদেশের  খেলোয়াড়রা খেলা ছাড়ার পর চাকরি করছেন কেএফসি, ফুডপান্ডা, মোবাইল অপারেটর কোম্পানিসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ২০০৭ সাংহাই ওয়ার্ল্ড গেমসের ক্রিকেটে সোনাজয়ী নাইম হোসেন শিশির অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করেছেন দেশ টিভিতে। একই গেমসের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনাজয়ী রাশেদুল ইসলাম রানা এক্সিম ব্যাংকের গুলশান শাখায় চাকরি করেছেন অফিস সহকারী হিসেবে।

সরকারি মুক্তা পানি উৎপাদনেও চাকরি করছেন অনেকে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা হয়ে না থাকায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ জানালেন, ‘‘প্রতিবন্ধীরা আর সমাজের বোঝা না। মুক্তা পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করে, সেই লাভের টাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থ বৃত্তি দেওয়া বিরাট অর্জন সরকারের। সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধীরাও যে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তা শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট ও মৈত্রী শিল্পে কর্মরত ব্যক্তিরা দেখিয়ে দিয়েছেন। মুক্তা পানি উৎপাদন ও সাতটি প্লাস্টিক আইটেমের যুগোপযোগী পণ্য তৈরি করে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে তারা। সাবলম্বীও হচ্ছে। ধীরে ধীরে তাদের সুযোগ সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।’’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist