Beta
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

ক্রিকেটের স্বার্থেই বিসিবির ব্যবসায়িক পথে হাঁটা

বিসিবি ২

বিসিবি নিজেদের টেলিভিশন শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে দুই বছর আগেই। কিন্তু সেই টেলিভিশন সম্প্রচার শুরুর অগ্রগতি হচ্ছে এতদিনে। “বিসিবি টেলিভিশন”-এর জন্যই ক্রীড়া ফেডারেশন হয়েও কোম্পানি ফর্ম করছে বিসিবি। এজন্যই ক্রীড়া সংস্থাটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মতো করে নিজেদের গঠনতন্ত্রে সংশোধন এনেছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী।

রোববার ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় বিসিবির বার্ষিক সাধারণ সভা। এ সভাতে বিসিবির দুটি গঠনতন্ত্রে সংশোধনের অনুমোদন হয়। বিসিবির গঠনতন্ত্রের ৬ অনুচ্ছেদের ৬.১৭ উপঅনুচ্ছেদে বলা হয়েছে বিসিবি প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণ নেয়া, এলসি খোলা, ঋণের বিপরীতে যেকোনো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখতে পারবে। এছাড়া যে কোন ধরনের ঝুঁকিহীন বাণিজ্যিক ও সামাজিক কার্যক্রমেও অংশ নিতে বিসিবির আর বাধা থাকবে না।

শুধু তাই নয় এর মাধ্যমে লাভজনক বিনিয়োগ করা, বিভিন্ন উৎস থেকে আসা তহবিলের অর্থ এফডিআর করা এবং ট্রেজারি বন্ড কিনতেও বাধা থাকবে না বিসিবির।

এছাড়া একই অনুচ্ছেদের ৬.২০ উপঅনুচ্ছেদে আরেকটি সংশোধন করে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে সবধরনের সুবিধা উন্নয়নের লক্ষ্যে এক বা একাধিক ট্রাস্ট, কোম্পানি বা ফাউন্ডেশন গঠন করা যাবে। ভবিষ্যতে নিজস্ব টেলিভিশন ও সামাজিক ক্লাব বা ট্রাস্ট খুলতে পারবে বিসিবি। 

এই ধারাগুলো সংশোধনের মাধ্যমে ক্রিকেটীয় স্বার্থ রক্ষা হবে বলে জানিয়েছেন সিইও নিজামউদ্দিন। এতে করে বিসিবি কোম্পানি হিসেবে শেয়ার বাজারে যাবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি, “বিসিবি টিভির জন্য আইন অনুযায়ী আমাদের একটা কোম্পানি হতে হবে। কোম্পানি হলেও এর কার্যক্রম বোর্ডের মধ্যেই থাকবে। এর বাইরে কোন কিছু না। শেয়ার বিক্রি করা বা কেনার কোন পরিকল্পনা বোর্ডের নেই।”

এর সঙ্গে যোগ করে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বলেন, “একটা কোম্পানি গঠনের জন্য যে আইন তা একটা গঠনতন্ত্রে তো লেখা থাকবেই। এটা নিয়ম। এগুলো বিসিবির মধ্যেই থাকবে। বিসিবি শেয়ার বিক্রি করবে, শেয়ার কিনবে! এটা কোন কথা হলো না।”

বিসিবি টিভি ছাড়াও আর কি কারণে গঠনতন্ত্রে সংশোধন আনা হয়েছে এমনটা জানতে চাওয়া হলে সকাল সন্ধ্যাকে সিইও নিজামউদ্দিন জানিয়েছেন, “সংশোধনীটা বিসিবি টিভির পাশাপাশি, গত কিছুদিনে আমাদের টুর্নামেন্ট পরিচালনা বা সিরিজ আয়োজন অথবা ক্রিকেটীয় কারণে যদি কোন সরঞ্জামাদি বিদেশ থেকে আনতে হয় তখন কোম্পানি ছাড়া সরকারি আইন অনুযায়ী কোম্পানি ছাড়া ওগুলো আনা যায় না। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে এবং আমাদের ব্যাংককে বন্ড দিয়ে সরঞ্জামাদিগুলো এনেছিলাম যে আমরা গঠনতন্ত্র সংশোধন করে কোম্পানি হবো।”

নিজামউদ্দিন আরও যোগ করেন, “আমরা এখন থেকে ক্রিকেটের প্রয়োজনে ডলারের উচ্চমূল্যে কিছু বিদেশ থেকে আনতে বাধা থাকছে না। সরাসরি আনতে পারবো বন্ড দিতে হবে না।”

গঠনতন্ত্র সংশোধনে অনেকদিন থেকেই আর্থিক উন্নতি হবে বিসিবির। যেমন এখন থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঋণ নেয়া, তহবিল গঠন, এফডিআর করতে পারবে বিসিবি। সেসব থেকে ক্রিকেটের উন্নতি হলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট লাভবান হবে।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist