Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বাইসাইকেলের আশা এখন নিরাশায় ডুবছে

বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় জার্মানিতে।

বাংলাদেশের রপ্তানির নতুন পণ্য হিসেবে বেশ ভালো আশাই জাগিয়েছিল বাইসাইকেল। পরিবেশবান্ধব দুই চাকার এই বাহন রপ্তানি করে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৬ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার এসেছিল।

বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১১০ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা, যা ছিল এই পণ্য রপ্তানিতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

এই হিসাব দেখে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে বলে আশায় বুক বেঁধেছিলেন দেশের বাইসাইকেল নির্মাতারা; বিনিয়োগও বাড়িয়েছিলেন। সরকারও প্রণোদনার পাশাপাশি নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছিল।

কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা সেই আশার গুঁড়ে ফেলেছে বালি। হিসাব-নিকাশ উল্টে বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে আয় তলানিতে নেমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে মাত্র ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ৪৫ শতাংশ।

২০২২-২৩ অর্থবছরের এই সাত মাসে সাইকেল রপ্তানি থেকে ৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার আয় হয়েছিল। পুরো অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্য ছিল ১৫ কোটি ডলার।

সবচেয়ে বেশি বাইসাইকেল রপ্তানি করে মেঘনা গ্রুপ।

গত অর্থবছরে লক্ষমাত্রা বাড়িয়ে ধরা হয় ২০ কোটি ডলার। আয় হয় ১৪ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছিল প্রায় ২৯ শতাংশ।

অথচ ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এই খাত থেকে ১৬ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছিল, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছিল ২৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।

তার আগের বছরগুলোতেও এই খাতের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছরই রপ্তানি বাড়ছিল। কিন্তু এখন সামনে অন্ধকার দেখে চিন্তায় আছেন রপ্তানিকারকরা।

বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান বাইসাইকেল রপ্তানি করে। একটি হচ্ছে- মেঘনা গ্রুপ। আরেকটি প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

দুটি প্রতিষ্ঠানই গত কয়েক বছরে বাইসাইকেল রপ্তানি বাড়াতে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে; বাড়িয়েছে বিনিয়োগ।

মোট রপ্তানির ৬০ শতাংশই রপ্তানি করে মেঘনা গ্রুপ। এই গ্রুপের পরিচালক লুৎফুল বারী সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বেশ ভালোই চলছিল। প্রতি বছরই রপ্তানি বাড়ছিল; আমরা বিনিয়োগ বাড়াচ্ছিলাম। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সব তছনছ করে দিচ্ছে।

“আমাদের সাইকেলের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপের দেশগুলো। যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপীয় অর্থনীতি এখনও সংকটে থাকায় বাইসাইকেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমেছে।”

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সামনে আশাও দেখছেন না লুৎফুল বারী।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ মূলত জার্মানিতে বাইসাইকেল রপ্তানি করে। দেশটির অর্থনীতি এখনও চাপে আছে, তাই বাইসাইকেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

“করোনা মহামারির পরে বাইসাইকেল রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং বেশি চাহিদা মেটাতে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এই শিল্পকে নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আর এই পরিস্থিতির কবে উন্নতি হবে তা কেউ জানে না।”

গত অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আদেশ ২০ শতাংশ কমেছে বলে তথ্য দেন তিনি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপও বাইসাইকেল রপ্তানি করছে।

অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা বলতে গিয়ে লুৎফুল বারী গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বাইসাইকেল তৈরির খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন।

“আরেকটি বিষয় আমাদের রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করছে। ক্রেতারা এখন ইলেট্রনিক বাইক বেশি ব্যবহার করছে। আমরা ইলেট্রনিক বাইক উৎপাদন করি না। তাই আমারা পিছিয়ে পড়ছি।”

একই কথা বলেছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন বিভাগের পরিচালক কামরুজ্জামান কামালও।

সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “বেশ ভালোই চলছিল। প্রতি বছরই রপ্তানি বাড়ছিল। এমনকি করোনা মহামারির মধ্যেও বেশ ভালো রপ্তানি করেছিলাম আমরা। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সব শেষ করে দিয়েছে। বায়াররা এখন কম অর্ডার দিচ্ছে। সে কারণে সাইকেল রপ্তানি কমে গেছে।”

রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের বছরে ৯ লাখ বাইসাইকেল তৈরির সক্ষমতা আছে। যার এক-তৃতীয়াংশ ইউরোপে রপ্তানি করা হয়। বাকিটা দেশের বাজারে বিক্রি হয়।

“বর্তমান পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজার খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি,” বলেন কামরুজ্জামান কামাল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যানবিষয়ক সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৃতীয় ও বিশ্বের অষ্টম বাইসাইকেল রপ্তানিকারক দেশ।

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া বাইসাইকেলের ৮০ শতাংশই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। বাকিটা যায় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে।

শুরু থেকে এখন

২৬ বছর আগে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে তাইওয়ানের কোম্পানি আলিতা বাংলাদেশ লিমিটেড স্বল্প পরিসরে বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু করে। পরে এই ধারায় যুক্ত হয় মেঘনা গ্রুপ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রথম দিকে এ খাত থেকে তেমন আয় না হলেও ২০০৮ সাল থেকে বাড়তে শুরু করে রপ্তানি।

রপ্তানিকারকরা জানান, বর্তমানে ফ্রিস্টাইল, মাউন্টেন ট্রেকিং, ফ্লোডিং, চপার, রোড রেসিং, টেন্ডমেড (দুজনে চালাতে হয়) ধরনের বাইসাইকেল রপ্তানি হচ্ছে।

এসব সাইকেল তৈরির জন্য কিছু যন্ত্রাংশ বাংলাদেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হলেও বেশির ভাগ যন্ত্রাংশই দেশে তৈরি হচ্ছে। বিশেষত চাকা, টিউব, হুইল, প্যাডেল, হাতল, বিয়ারিং, আসন তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

১৯৯৬ সালে তেজগাঁওয়ে সরকারি বাইসাইকেল তৈরির প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেয় মেঘনা গ্রুপ। এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে রপ্তানি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে রেড, ফেরাল ও ইনিগো- এই তিন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ইউরোপ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার কঙ্গো, গ্যাবন ও আইভরি কোস্টে সাইকেল রপ্তানি করছে তারা।

১০০ থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার মূল্যের সাইকেল রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। গাজীপুরে অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের বাইসাইকেল কারখানার বিভিন্ন বিভাগে আট হাজারের মতো কর্মী কাজ করে।

সাইকেলের রপ্তানি ও স্থানীয় বাজারকে সামনে রেখে ১০০ কোটি টাকার বড় বিনিয়োগ করেছে রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হবিগঞ্জ ইন্ড্রাস্টিয়াল পার্কে অবস্থিত এই কারখানাটিতে ২০১৫ সালে উৎপাদন শুরু হয়েছে। বছরে প্রায় ৯ লাখ উৎপাদন ক্ষমতার এই কারখানায় উৎপাদিত বাইসাইকেল রপ্তানি করা হয়। সেইসঙ্গে দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৩ সালে ৬ লাখটি সাইকেল রপ্তানি করেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কামরুজ্জামান কামাল।

তিনি বলেন, “আমরা ইউরোপের বাজার নানান দিক দিয়ে সার্ভে করে দেখেছি সেখানে বাইসাইকেলের বিরাট বাজার আছে। সেই সুযোগটিই আমরা কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের বড় ধাক্কা দিয়েছে।”

ইউরোপের বাজার

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সালে যেখানে ইউরোপের বাজারে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল নবম, সেখানে ২০১০ সালে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে উঠে আসে। এখন তৃতীয় স্থানে।

২০০৮ ও ২০০৯ সালে বাংলাদেশ যথাক্রমে তিন লাখ ৭১ হাজার ও চার লাখ ১৯ হাজারটি বাইসাইকেল রপ্তানি করে। ২০০৭ সালে যে সংখ্যাটি ছিল ৩ লাখ ৫৫ হাজার।

২০১০ সালে রপ্তানি বেড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ২০১১ ও ২০১২ দুই বছরেই সাড়ে পাঁচ লাখের মতো সাইকেল রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশগুলোতে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে রপ্তানি ছাড়িয়ে যায় ছয় লাখ।

২০২১-২২ অর্থবছরে দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ১৬ লাখ পিচ বাইসাইকেল রপ্তানি করে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে। তবে কতো পিচ রপ্তানি হয়েছে সে তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউরোপের বাজারে রপ্তানির শীর্ষে আছে তাইওয়ান। পরের অবস্থানে আছে থাইল্যান্ড।

‘হাল ছাড়লে চলবে না’

রপ্তানি কমলেও সাহস নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এত দূর এসে হাল ছাড়লে চলবে না। সব সময় ভালো যাবে—এটা ভাবলে চলবে না। এক সময় ভালো গেছে। এখন এক-দুই বছর মন্দ যাচ্ছে। আবার ভালো সময় আসবে।”

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

পরিস্থিতি বদলানোর আশা দেখিয়ে তিনি বলেন, “অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। অনেক দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আবার ওই সব দেশের মানুষ কেনাকাটা বাড়িয়ে দেবে। তখন সাইকেলের চাহিদাও বাড়বে। আমাদের রপ্তানি বাড়বে।

“একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আমরা কিন্তু একটি বড় বাজার দখল করতে চলেছিলাম। অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছিলাম। আমাদের এখানে শ্রমের মজুরি কম। আমরা যে দামে সাইকেল রপ্তানি করতে পারব, তা কেউ পারবে না। মানের দিকটি মাথায় রেখে এই সুযোগটিই আমাদের কাজে লাগাতে হবে।”

বর্তমানে যে সমস্যা চলছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার এবং উদ্যোক্তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন ফরাসউদ্দিন।

“যদি রপ্তানিকারকদের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, সরকারকে সেটা দিয়ে সাইকেল রপ্তানির বাজারটা ধরে রাখতে হবে। আমরা কিন্তু তৈরি পোশাকের বাইরে কোনো খাতকেই এগিয়ে নিতে পারছি না। সাইকেলের একটা ভালো সম্ভবনা দেখা দিয়েছিল। সেটা যেন অব্যাহত থাকে।”

থেমে নেই আমদানি

রপ্তানি করলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে থেমে নেই সাইকেল আমদানি। এখনও দেশের চাহিদার ৬০ শতাংশ পূরণ করে বিদেশি সাইকেল। এজন্য আগের প্রবণতাকে দায়ী করেছেন উৎপাদকরা।

মেঘনা গ্রুপের পরিচালক লুৎফুল বারী বলেন, “আমদানি করা সাইকেলের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সেগুলোর চাহিদা বেশি। এছাড়া আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমদানি করা সাইকেল বিক্রি করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”

বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ও রাস্তাঘাটের কথা বিবেচনা করে রপ্তানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের জন্যও মেঘনা গ্রুপ সাইকেল তৈরি করছে বলে জানান তিনি।

মূলত পুরান ঢাকার বংশালের ব্যবসায়ীরা দেশের বাইরের থেকে বাইসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে তা সংযোজন করে বিক্রি করেন। বংশাল থেকেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আমদানি করা সাইকেল।

কেন আমদানি করা সাইকেল বিক্রি করেন জানতে চাইলে বংশালের সলিমুল্লাহ সাইকেল স্টোরের বিক্রয় প্রতিনিধি তবিরুল ইসলাম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমরা তো পুরো সাইকেল আমদানি করি না। সাইকেলের বিভিন্ন অংশ (টায়ার, টিউবসহ অন্যান্য সরঞ্জাম) আমদানি করে করে সেগুলো সংযোজন করে সাইকেল তৈরি করে বিক্রি করি।

“এ সব সাইকেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সেগুলোই বেশি বিক্রি হয়। চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা এগুলো বেশি বিক্রি করি। সত্যি কথা বলতে কি এগুলো বিক্রি করলে আমাদের লাভও একটু বেশি হয়। দেশে তৈরি সাইকেল বিক্রি তেমন লাভ হয় না।”

বর্তমানে মূলত চীন ও ভারত থেকেই সাইকেল আমদানি হয়ে থাকে।

দেশের বাজারের কথা চিন্তা করে উদ্যোক্তারা যদি কম মূল্যের টেকসই সাইকেল তৈরি করেন, তাহলে আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে মনে করেন বলেন তবিরুল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist