Beta
শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

কলাম

বিএনপির ভবিষ্যৎ কিছুটা শেখ হাসিনার হাতেও

মহিউদ্দিন আহমদ। প্রতিকৃতি অঙ্কন: সব্যসাচী মজুমদার

বিএনপি আবারও নির্বাচন বর্জন করল— ২০১৪ এবং ২০২৪। প্রশ্ন হচ্ছে কেন বর্জন করল? প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি কী পেল?

এই দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা একটু পেছন ফিরে তাকাতে পারি। ঘটনাপ্রবাহ দেখলে বোঝা যাচ্ছে আসলে তিনটা নির্বাচনই বিএনপির চোখে একইসূত্রে গাঁথা। ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের পর বিএনপি বিরোধিতা করেছিল। আপত্তি জানিয়েছিল। বিএনপি বলেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে কোনও দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না। সেই যুক্তিতেই তারা ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিল। কিন্তু নির্বাচনটি যেভাবেই হোক করে নিয়ে আওয়মী লীগ সরকার গঠন করে এবং সেই সরকার পাঁচ বছর টিকে ছিল। তারপর ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সরকারের সঙ্গে বিএনপির যে সংলাপ হয় সেখানে তাদের মধ্যে ভেতরে-ভেতরে কী কথা হয়েছিল সেটা আমরা জানি না। কিন্তু তারা বৈঠক করল, সংলাপে অংশ নিল এবং নির্বাচনেও অংশ নিল। দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য, জেতার জন্য। কিন্তু তাদের হাতে ছয়টি আসন ধরিয়ে দেওয়া হলো। আমার ধারণা বিএনপিকে হয়ত ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে, তারা সরকার গঠন না করতে পারলেও সংসদে একটা সম্মানজনক অবস্থানে থাকবে। সেটি হয়নি। সে কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের আক্ষেপ এবং হতাশা ছিল। যে কারণে এবার তারা আগে থেকেই বলে আসছিল যে দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। সেই অবস্থানেই বিএনপি অনঢ় ছিল।

অন্যদিকে, ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে এটা আওয়ামী লীগের কাছে গ্রহণযোগ্য না। এই অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগও নড়েনি। আমার ধারণা যে, আওয়ামী লীগ হয়ত মনে করে যে, তেমন কোনও ব্যবস্থায় নির্বাচন হলে তাদের জেতার সম্ভাবনা নেই। আর বিএনপি মনে করে যে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের জেতার সম্ভাবনা নেই। এভাবে নির্বাচনী রাজনীতি একটা স্টেলমেট বা অচলাবস্থায় চলে যায়। এখানে কার কথা বেশি যুক্তিপূর্ণ সেটা ভিন্ন আলোচনা। আসল কথা হলো কোন ব্যবস্থায় নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে আমরা যেটাকে বলি যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হলো কি না। কিন্তু যেভাবে নির্বাচন হলো সেখানে মন্ত্রিপরিষদ আছে, সংসদ আছে, সংসদ সদস্যরা আছেন, তারা প্রটোকল পাচ্ছেন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা কাজে লাগাচ্ছেন। এই অবস্থায় সরকারের বাইরে থাকা কোনও দলের পক্ষে সুবিধা করতে পারাটা আমাদের দেশের বাস্তবতায় খুবই কঠিন।

এখন জরুরি প্রশ্ন হচ্ছে যে, নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি কী পেল? আমরা দেখছি ২০০৭ সাল থেকে বিএনপি ক্ষমতা-বৃত্তের বাইরে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দেশ চলছে টানা গত পনের বছর ধরে। এই সতের বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর যেমনটা অনুমান করা হয়েছিল যে, একটা মধ্যবিত্ত উঠতি বুর্জোয়াদের দল বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সেটা কিন্তু হয়নি। কারণ ক্ষমতায় থাকার অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে, বিলিবন্টন করে দলকে পরিপুষ্ট করা— আমাদের দেশের ইতিহাস তা’ই বলে। ক্ষমতার বাইরে থাকলেও দলের নেতা-কর্মীদের প্রণোদনা থাকে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসার। এছাড়া রাজনৈতিক দলের আরেকটা বিষয় থাকে, সেটা হলো— আদর্শগত তাগিদ। বিএনপির মধ্যেও গত পনের বছর যাবৎ আমরা এই দুটো বিষয় দেখেছি। তাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিকুল অবস্থাতেও বারবার চাঙা হয়েছে। বিএনপিকে নানাভাবে ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও আমরা দেখলাম ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামে কিছু লোকজনকে ভাগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তারা সুবিধা করতে পারেনি। বিএনপির মূলধারায় কোনও ভাঙন ধরানো যায়নি। এমনকি বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অজস্র মামলা দিয়ে জেল-হাজতে পুরেও সেটা করা যায়নি। অনেকে জেলে আটক, অনেকে জামিন পাচ্ছেন না, অনেকে পলাতক। এরপরও তারা সভা-সমাবেশ করেছে। আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছে। বেশ বড় সমাবেশও করতে পারে তারা। নির্বাচনের আগেও সেটা দেখা গেছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, এই অবস্থাতেও বিএনপি ভেঙে যায়নি। বিএনপি টিকে আছে।

তবে, এবারের নির্বাচন প্রতিহত করার যে ঘোষণা বিএনপি দিয়েছিল, সেটা তারা করতে পারেনি। এখানে তারা ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় বা কোনও প্রতিপক্ষ না থাকায় সংঘাত-সংঘর্ষও হয়নি। টুকটাক বিচ্ছিন্ন যে সংঘাত হয়েছে সেটা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হয়েছে। বিএনপি মাঠেই ছিল না। আর পুরো রাষ্ট্রশক্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিল। আওয়ামী লীগ বনাম স্বতন্ত্র লীগ। এদের মধ্যেই যা হওয়ার হয়েছে। সেদিক থেকে দেখলে বলা যায় এবারের নির্বাচন খু্বই শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এবার একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই সহিংসতায় বহু মানুষ মারা যায়, এবার সে তুলনায় কিছুই হয়নি।

প্রশ্ন করা যেতে পারে নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপি কেন ব্যর্থ হলো? লক্ষ করলে দেখা যাবে, বিগত তিনটা নির্বাচনেই বিএনপি একই কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা সভা-সমাবেশ করে, মাঝে মধ্যে হরতাল দেয় এবং অবরোধ দেয়। এর বাইরে বিএনপির কোনও ইন্সট্রুমেন্ট নেই, কোনও কর্মসূচি নেই। কিন্তু আন্দোলনের এসব কৌশল খুবই গতানুগতিক। প্রথমত, এসবের আর কোনও কার্যকারিতা নেই। জনগণ এসব কর্মসূচি পছন্দ করে না। কারণ এতে জনগণের খুবই ভোগান্তি হয়। দ্বিতীয়ত, সরকারকে যেকোনওভাবে চাপে ফেলতে পারলেই সরকার নেগোশিয়েট করত, আলোচনায় বসত। কিন্তু বিএনপি সেটা পারেনি।

দলীয় সংহতি ও নেতৃত্বের সংকট এবং বিদ্যমান অন্যান্য বাস্তবতায় এখন এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ভবিষ্যতে বিএনপি কোন দিকে যাবে, কী করবে সেটা পুরোপুরি বিএনপির হাতে নেই। বিএনপির ভবিষ্যৎ কিছুটা শেখ হাসিনার হাতেও। তিনি কী রকম বিরোধী দল চান, কী রকম বিএনপি চান সেটাও বিবেচ্য।

অনেকে বলতে পারেন বিএনপির তাহলে কী করার ছিল? আমরা দেখেছি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে আমাদের দেশে সরকার পরিবর্তন হয় দুই ভাবে। এক, প্রচণ্ড গণ-অভ্যুত্থানে; যেমন অভ্যুত্থান আমরা ১৯৬৯ সালে দেখেছি এবং ১৯৯০ সালেও কিছুটা দেখেছি। দুই, সামরিক অভ্যুত্থানে। মনে রাখতে হবে সামরিক অভ্যুত্থানের নেপথ্যেও রাজনৈতিক দল ক্যাটালিস্টের ভূমিকা নিতে পারে। সামরিক অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করে। সেটা আমরা ১৯৭৫-এ দেখেছি, ১৯৮২-তে দেখেছি। এমনকি ২০০৭-এও দেখেছি। যারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তাদের বাইরে বাকিদের বড় অংশই এগুলোকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারেনি। এই দুই ধরনের অভ্যুত্থানের বাইরে ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ থাকে— নির্বাচন। কিন্তু বিএনপি লাগাতার তিনবার নির্বাচন বর্জন করল। তাহলে আজীবন আন্দোলন করে করে বিএনপি কিভাবে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবে?

প্রশ্ন হতে পারে বিএনপির এখন কী করণীয়? এখন বিএনপিকে অবশ্যই তাদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে, তাদের নীতি-আদর্শসহ কর্মপদ্ধতির মূল্যায়ন করতে হবে। এটা বুঝতে হবে যে, যেকোনও গণঅভ্যুত্থানের জন্য একটা রাজনৈতিক আদর্শ ও লক্ষ্য থাকতে হয়। কিন্তু নীতি আদর্শের কথা বললে বলা যায়, এখন বিএনপি আর আওয়ামী লীগ প্রায় মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, সরকার পরিচালনার পদ্ধতি, অর্থনীতি পরিচালনার পদ্ধতি সবকিছুই মোটামুটি একইরকম। শুধু দুই দলের লোগো গুলো আলাদা। তাদের আইকন আলাদা— একদিকে শেখ মুজিব, আরেকদিকে জিয়াউর রহমান। একদিকে শ্লোগান— জয় বাংলা, আরেকদিকে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। এসবই সুপারফ্লুয়াস ব্যাপার। কনটেন্ট ধরে ধরে আলোচনা করলে বলা যায়, বিএনপি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিকল্প হতে পারে কিন্তু আদর্শিক বিকল্প হতে পারে বলে আমি মনে করিনা।

সুতরাং, মানুষ কেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গিয়ে বিএনপির পক্ষে দাঁড়াবে, বুক পেতে দেবে সেটার কোনও কারণ আমি দেখি না। জনগণের মধ্যে সেই স্পৃহা, সেই প্রণোদনা, সেই উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার সেসব করার পরিপ্রেক্ষিত এখন নাই।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকতে হলে বিএনপিকে একদিকে যেমন তাদের নীতি-কৌশল পুননির্ধারণ করতে হবে তেমনি আরেকদিকে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংহতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দলীয় সংহতির ক্ষেত্রে বিএনপির বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আমরা যদি আওয়ামী লীগের দিকে তাকাই তাহলে দেখব সেখানে নেতৃত্বে আছেন শেখ হাসিনা। আনচ্যালেঞ্জড। এবং সবাই তার প্রতি লয়্যাল। কেউ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচারণ করলে তার দলে থাকার কোনো সুযোগই নেই। এক হাতে তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে আওয়ামী লীগে একটা সেন্ট্রালাইজড লিডারশিপ বা কমান্ড যা-ই বলুন সেটা আছে। বিএনপিতে সেটা নেই। বিএনপির মূল নেতা খালেদা জিয়া। তিনি কারাবন্দী। তিনি আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন বলে আমি মনে করি না। যিনি অস্থায়ী প্রধান, তারেক রহমান, তিনি থাকেন বিদেশে। বিদেশে থেকে ফেইসবুকে, সোশাল মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে আর স্ট্যাটাস পোস্ট করে আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার মতো বাস্তবতা নেই। তারেক রহমান তো আর নেলসন ম্যান্ডেলা নন বা খোমেনীও নন। এটা বুঝতে হবে যে তার অবস্থানটা কোথায়? আর এখানে যারা আছেন সিনিয়র নেতারা তাদের মধ্যে কোনও ঐকমত্য নেই। সুতরাং সবার মধ্যেই একটা গা-ছাড়া ভাব আছে। মূল নেতৃত্ব সরে গেলে দেখা যাবে যে, বিএনপি তিন-চার টুকরো হয়ে যেতে পারে। এমন আশঙ্কাও আছে। সুতরাং দলের সংহতির বিষয়ে বিএনপিকে জোর দিতে হবে।

বিএনপিকে পাশাপাশি আন্দোলন এবং নির্বাচনের কৌশল পরিবর্তন নিয়েও ভাবতে হবে। আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ বিগত তিনটা নির্বাচনেই ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি বিগত তিন নির্বাচনেই একই কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে এবং বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকেও রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের সংহত রাখার প্রশ্ন। আওয়ামী লীগ পঁচাত্তরের পর প্রায় একুশ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিরোধী দল হিসেবে যতটা শক্তিশালী বিএনপি কখনোই সেটা না। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল সেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে তারা নিজেদের সঙ্গে টানতে পেরেছিল। সেটা অভূতপূর্ব। তারা বিএনপিকে বাধ্য করতে পেরেছিল আরেকটা নির্বাচন দিতে। কিন্তু বিএনপি সেটা পারছে না। বিরোধী দল হিসেবে আন্দোলন করে দাবি আদায়ের সক্ষমতা বিএনপি অর্জন করতে পারেনি। খেয়াল করতে হবে আওয়ামী লীগ যে একুশ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল তার মধ্যে বেশিরভাগটাই ছিল সামরিক শাসনামল। এরপরও একানব্বইয়ে যদি আওয়ামী লীগ আর বাকশালে ভোট ভাগ না করে তারা একীভূত হয়ে নির্বাচন করত তাহলে হয়ত তারা সেবছরই ক্ষমতায় চলে আসতে পারত। অন্যদিকে, এখন সামরিক শাসনের সেই বাস্তবতা নেই। একানব্বই থেকে ছিয়ানব্বই পর্যন্ত যে পাঁচবছর বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন তারা সরকার হিসেবে নতুন। প্রতিপক্ষকে দাবিয়ে রাখার কিংবা দমন করার সক্ষমতায় তারা অভিজ্ঞ ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন টানা ক্ষমতায় থেকে সেই সক্ষমতা অর্জন করেছে। সুতরাং এখনকার বাস্তবতায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কিভাবে রাজনৈতিক দাবি আদায়ে সক্ষম হতে পারবে সেই কৌশল নিয়ে বিএনপিকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

যেকোনও রাজনৈতিক দলেরই মূল লক্ষ্য থাকে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া। সেজন্য জনগণের কাছে নিজেদের দলের এজেন্ডা তুলে ধরতে হয়। রাজনৈতিক নীতি-আদর্শ-লক্ষ্য তুলে ধরতে হয়। দলের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, জনমত প্রয়োজনীয় শর্ত হলেও আবশ্যিক শর্ত নয়। আবশ্যিক শর্ত হচ্ছে একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করা, একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা, যেখানে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে। বিএনপি সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি।

ভবিষ্যতের কথা যদি বলি, দলীয় সংহতি ও নেতৃত্বের সংকট এবং বিদ্যমান বাস্তবতায় এখন এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ভবিষ্যতে বিএনপি কোন দিকে যাবে, কী করবে সেটা পুরোপুরি বিএনপির হাতে নেই। বিএনপির ভবিষ্যৎ কিছুটা শেখ হাসিনার হাতেও। তিনি কী রকম বিরোধী দল চান, কী রকম বিএনপি চান সেটাও বিবেচ্য। তিনি নিয়মিতিই বলছেন যে, বিএনপি সন্ত্রাসীদের দল, খুনিদের দল। ফলে বিএনপিকে যদি মাঠেই নামতে দেওয়া না হয় তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।

তবে, ক্ষমতায় না থাকলেই যে একটা রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে তা নয়। আমাদের দেশেই সেই উদাহরণও আছে। জামায়াতে ইসলামী কখনোই এককভাবে ক্ষমতায় ছিল না। কিন্তু জামায়াত দল হিসেবে টিকে আছে, তাদের ভোটারও আছে, সারা দেশেই তাদের কিছু না কিছু কাজ আছে। একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত এখনও সংগঠিত ও সংহত আছে। রাজনীতিতে দলীয় সংহতির বিষয়ে একটা আদর্শিক বোধ কাজ করে। বলা যায়, বিএনপি যদি দলের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক আদর্শিক সংহতি তৈরি করতে পারে তাহলে তারাও টিকে থাকবে।

লেখক: লেখক ও গবেষক।

ad

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist