Beta
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

লিফলেটে কোন বার্তা দিচ্ছে বিএনপি

নয়া পল্টনে প্রচারপত্র বিলি হয় রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে।

ভোটের আগে নমনীয় কর্মসূচিতে আসা বিএনপি নতুন যে কর্মসূচি দিয়েছে, তাতে আবারও লিফলেট বিলির মতো গণসংযোগকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

‘লিফলেট বিতরণ করে আর যাই হোক ক্ষমতার রদবদল হয় না’- মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের হতাশার মধ্যে শীর্ষনেতারা বলছেন, তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতেই তাদের এমন কর্মসূচি।

কর্মসূচি একই রকম হলেও নির্বাচনের আগে এবং পরের প্রচারপত্রে এসেছে ভিন্নতা। নির্বাচনের আগে ‘ভোট বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে’ আহ্বান জানিয়ে এলেও এবার তাদের লিফলেটে রয়েছে ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদ’।

এছাড়া ‘অবৈধ ডামি সংসদ বাতিল ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের’দাবিতে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি দুই দিন ‘কালো পতাকা মিছিল’ এবং একই দাবিতে ৩০ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি যেভাবে শুরু

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি মহাসমাবেশ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর তা বাতিলের দাবিতে বিএনপি টানা হরতাল-অবরোধ ডেকে গিয়েছিল।

১২ দফায় ২৪ দিন অবরোধ এবং ৫ দফায় ৬ দিন হরতাল পালনের পর গত ২০ ডিসেম্বর ভোট বর্জন করে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয় দলটি।

সেসময় দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তারা সংঘাত, সহিংসতার রাজনীতি করেন না। আর সেজন্যই তারা শান্তিপুর্ণ কর্মসূচি হিসেবে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণের পথে হাঁটছেন।

এরপর গত ২১ ডিসেম্বর থেকে দলটি ভোট বর্জনের পক্ষে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু করে। সে সময় দুই থেকে তিন দিন করে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে আসছে দলটি।

সর্বশেষ, পঞ্চম ধাপে ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। ভোটের আগের দিন পর্যন্ত সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে এই কর্মসূচি চলে।

এরই মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার হিসেবে আবার ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি মনে করে, তাদের আহ্বানে জনগণ সাড়া দিয়ে ভোট দিতে যায়নি। এটাই তাদের ‘আসল জয়’।

এবার তিন ধাপে পাঁচ দিনের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালনে নেমেছে দলটি।

তার প্রথম দিন হিসেবে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে ফকিরাপুল এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন দলের জেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

দুপুরে পল্লবী থানার ২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং পথচারীদের মাঝে ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব, সদ্য কারামুক্ত আমিনুল হকের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ চলে।

শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে মতিঝিল, দিলকুশায় লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। তাছাড়া গ্রিনরোড ও উত্তরায় লিফলেট বিতরণ করেন ছাত্রদলের ১০-১২ জন নেতাকর্মী।

কী আছে লিফলেটে?

নির্বাচন পূর্ববর্তী ‘ডামি নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের ডাক’ শিরোনামে বিতরণ করা লিফলেটে দলটি গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদের নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছিল।

তাতে বলা ছিল- আওয়ামী লীগ মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। যার ফলে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি হওয়ায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পথে।

৭ জানুয়ারির ‘একতরফা ও পাতানো’ নির্বাচন বর্জনের জন্য জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছিল, একটি দলের মনোনীত, স্বতন্ত্র এবং ডামি প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনের নামে খেলা হচ্ছে নিজেদের মধ্যে।

জনগণের কাছে মোট পাঁচটি আহ্বান জানানো হয়েছিল সেই লিফলেটে।

নতুন লিফলেটে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির দিকটিতে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, “গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে জনগণের ভোট ছাড়াই ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় সরকার ও এক ব্যক্তির শাসন কায়েমের জন্য দেশের স্বার্থ ও সাবভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে বিদেশি প্রভুদের কাছে।”

নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ করার পাশাপাশি পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, “অরক্ষিত সীমান্তে দেশের নাগরিকগণ একের পর এক খুন হচ্ছেন। অথচ নতজানু সরকার কার্যকর কোনও প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ করতে পারে না।”

আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে আহ্বান রাখা হয়েছে জনগণের কাছে।

লিফলেট বিতরণের সংখ্যা ও বাজেট

নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী চলমান কর্মসূচিতে বিএনপি কত সংখ্যক লিফলেট বিতরণ করেছে এবং করবে এবং তার বাজেট কত- জানতে দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “নির্বাচন পূর্ববর্তী কর্মসূচিতে আমরা ১২ কোটি ভোটারের প্রায় সবার কাছেই আমাদের লিফলেট পৌঁছে  দিয়েছি। আর এবার তো কেবল শুরু করেছি। তবে দেশের সর্বস্তরের জনগণের কাছেই যেন আমাদের বার্তা পৌঁছে, সেটাই আমাদের টার্গেট।”

দেশের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশের লোকসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। সেই হিসাবে লিফলেটের সংখ্যাও সেরকমই বলা যায় কি না- এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “তাই হবে। ঠিক জানা নেই।”

শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে লিফলেট তৈরি ও বিলি হচ্ছে না জানিয়ে টিপু বলেন, “আমরা লিফলেটের ডিজাইন করে দল ও অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বশীলদের কাছে পাঠিয়েছি। তারা বিভিন্নভাবে ছাপিয়ে নিচ্ছে। ছাপিয়ে সেগুলো দল বা অঙ্গসংগঠনের ইউনিটগুলোকে দিচ্ছে। ইউনিটের নেতারা এলাকা ভাগ করে তা বিলি করছেন।

“এই প্রতিকূল মুহূর্তে এই কর্মসূচির বাজেট বা সংখ্যাটা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা সম্ভব না।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist