Beta
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

আমরা সংগ্রাম আরও বেগবান করব : মির্জা ফখরুল

ss-bnp-fakhrul-5-4-24
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন কখনও শেষ হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা সংগ্রাম আরও বেগবান করব”।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে ইফতার অনুষ্ঠানের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব একথা বলেন।

তিনি বলেন, “আজ শুধু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি নয়, শুধু পেশাজীবী নয় সমস্ত জাতি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ছে, এক সাবেক প্রধান বিচারপতি তার একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে বইতে লিখেছেন, একজন মনস্টার সব কিছু দখল করে নিচ্ছে… সব কিছু তছনছ করে দিচ্ছে।

“সত্যি বলতে আজ ব্যাপারটা সেটাই হয়েছে। একজন ভয়াবহ দৈত্য সমস্ত আক্রোশ নিয়ে পুরো বাংলাদেশ তছনছ করে ফেলছে। এই ১৫ বছরের মধ্যে যখন আমরা গণতন্ত্র হারিয়েছি, তখন থেকে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।”

দেশের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বিরোধী দলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যাওয়ার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একদফায় বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বাম রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে সংগ্রাম শুরু করেছি। ২৮ অক্টোবর পুলিশ নির্লজ্জভাবে ঢুকে আমাদের সমাবেশ পণ্ড করে দিয়েছে… অনেকে ভাবতে পারে বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে গেছে, বিরোধীদলের আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে।”

“কিন্তু মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন কখনও শেষ হয় না। বরং প্রতিটি আন্দোলনের পরে এই শক্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ইটের ওপর ইট বিছিয়ে যেমন একটি স্তম্ভ গড়ে উঠে। আমরাও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে সক্ষম হবো। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা সংগ্রাম আরও বেগবান করব।”

এজন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার’ আহ্বানও জানান তিনি। গণমাধ্যমের ওপর সরকারের দমননীতির অভিযোগ তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “আমরা যাদের ওপর বিশ্বাস করি, আস্থা রাখি সেই গণমাধ্যমের ওপরে সবচেয়ে আগে আঘাত করা হয়েছে…অনেক পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। যারা সত্য লিখেন, ‍লিখতে চান, লিখতে পারেন তাদেরকে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট থেকে শুরু করে ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তার করা হয়, তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এমনকি নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়।”

জার্মানীর হিটলারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি শুধু বলতে চাই, ফ্যাসিবাদ যখন শক্তিশালী হয় তখন কেউই রেহাই পায় না। আজ বাংলাদেশের সেই অবস্থা চলছে। এটা আর রাষ্ট্র আছে বলে মনে হয় না, মনে হয় না এটা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র। আমার মনে হয়, একটা পুরোপুরি আধিপত্যবাদ, নির্মম ফ্যাসিবাদ আমাদের ওপর চেপে বসেছে।”

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ইফতার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক-চিকিৎসক-প্রকৌশলী-আইনজীবীসহ পেশাজীবীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত