Beta
বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
Beta
বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

বিএনপির কৌশল কি কাজে লাগছে

দীর্ঘদিন পর গত ১১ মে ঢাকার নয়া পল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি। ছবি : হারুন-অর-রশীদ।
দীর্ঘদিন পর গত ১১ মে ঢাকার নয়া পল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি। ছবি : হারুন-অর-রশীদ।
Picture of মেরিনা মিতু

মেরিনা মিতু

চলছে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনও বর্জনের ডাক দিয়েছে বিএনপি। নেতারা কেউ প্রার্থী হলে, কোনও প্রার্থীকে কেউ সাহায্য করলে তাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তারপরও স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি নেতারা, প্রার্থীদেরও সহায়তা করছেন। এজন্য ইতোমধ্যে প্রায় দেড়শ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার তাদের মধ্যে প্রথম দফার ভোটে চেয়ারম্যানও হয়েছেন অন্তত ছয়জন। 

বিএনপি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ২১ দিন পর গত ৮ মে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়। ভোটের মাঠে বিএনপির নির্বাচন প্রতিরোধের কোনও চিত্র দেখা যায়নি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচনে প্রতিরোধে অংশ হিসাবে তারা শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগের মাধ্যমে জনগণকে অনুরোধ করছেন ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার। এজন্য কর্মিসভার পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করছেন, বিদ্রোহী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন- তাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। নির্বাচন বর্জনে এসবই তাদের কৌশল।

উপজেলার প্রথম দফা নির্বাচনে এই কৌশল কাজে লেগেছে দাবি বিএনপি নেতাদের। তারা বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও জনগণ বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। ভোট দিতে যায়নি।

তবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ভোটার উপস্থিতি ৪০ শতাংশ না ছাড়ালেও তা বিএনপির বর্জনের কারণে নয়।

প্রথম ধাপের ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ভোটার উপস্থিতি কম থাকার জন্য কারণ দেখিয়েছিলেন বৃষ্টিকে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের আশা ছিল, দুপুরের পর ভোটার বাড়বে। তবে বেলা বাড়ার পর তা তেমন বাড়েনি। প্রথম ধাপে ১৩৯ উপজেলায় ভোটের হার দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ।

২০১৯ সালে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল। এ হিসাবে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তুলনায় ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম ভোট পড়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১৬০ উপজেলায় ২১ মে, তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় ২৯ মে, চতুর্থ ধাপে ৫৬ উপজেলায় ৫ জুন ভোট হবে।

প্রায় সব উপজেলায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ জন করে ২০ জন অর্থাৎ মোট ২৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রথম ধাপের নির্বাচনে দলের ৮০ নেতা অংশ নেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৫ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন ২০ জন। তারা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান হয়েছেন ছয়জন।

উপজেলা নির্বাচনের আরও তিন ধাপ বাকি রয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির আরও অনেক নেতা। এ অবস্থায় ভোট বর্জন ও দলের নেতাদের ঠেকাতে বিএনপি যে পথে হাঁটছে তা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দলটির নেতাদের মধ্যেও।

গত ১৬ এপ্রিল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত জানায়। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এমনকি বিএনপি এবং দলটির সহযোগী সংগঠনের কোনও নেতা ভোটে অংশ নেওয়া বহিষ্কৃতদের কোনোভাবে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় দলটি।

ঢাকার নয়া পল্টনে শুক্রবারের সমাবেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ছবি : হারুন-অর-রশীদ

প্রতিরোধ নয়, অনুরোধের পথে

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বর্জনের ডাক দিয়েছিল বিএনপি। দলটির নীতি নির্ধারকদের দাবি, সেই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঠেকাতে ভোটের মাঠে বিএনপি নেতাদের সক্রিয় না দেখার যুক্তি হিসেবে তারা বলছেন, সংঘাত নয়, শান্তির পথে দাবি আদায় করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিরোধের পরিবর্তে অনুরোধকেই যথার্থ মনে করছেন তারা।

গত ৬ মে বিকালে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা জেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের যৌথ জরুরি সভা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা সকাল সন্ধ্যাকে জানিয়েছেন, সেখানে ভোটের দিন করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের দিন ভোটবিরোধী প্রচার চালানো, নেতা-কর্মীদের কেউ কারও পক্ষে কাজ করলে তাকে চিহ্নিত ও নিবৃত করা। ভোট নিয়ে কারও সঙ্গে সংঘর্ষে না জড়ানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানান এক নেতা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমরা তো নির্বাচন প্রতিরোধ করছি না। আমি বলব- এটা অনুরোধ। আমরা জনগণের কাছাকাছি বসে তাদেরকে চিত্র তুলে ধরছি বাস্তবতার। তারপর অনুরোধ করছি, ভোট বর্জনের। জনগণ সাড়া দিয়েছে।

“আমাদের কথা জনগণ বুঝছে, সেটা আমরা বুঝতে পারছি। জাতীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের যে চিত্র আর আজকে উপজেলা ভোটে ভোটার কম থাকায় সিইসির যে বক্তব্য তারপরও আমরা বলব, আমরা ঠিক পথেই আছি।”

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দিয়ে সরকার আরেকটা ফাঁদ পেতেছে। উদ্দেশ্য বিএনপিকে নির্বাচনে নেওয়া।

“কিন্তু বিএনপি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক আছে এবং থাকবে। যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে না, বাংলাদেশে সেই নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।”

যশোরের কেশবপুরের এই ভোটকেন্দ্রে বুধবার ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল নগন্য।

যা বলছে আওয়ামী লীগ

গত ৮ মে সন্ধ্যায় প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি জানান।

তিনি বলেন, “উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নিন্দুকেরা, বিশেষ করে বিরোধীদল যে বক্তব্য রেখেছে তা হাস্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা ছিল ১৩৯টি উপজেলা নির্বাচন খুনোখুনি, মারামারি, রক্তারক্তি অবস্থায় সমাপ্ত হবে।

“এ নির্বাচনে প্রথম পর্যায়ে কোথাও ক্যাজুয়ালিটি নেই, প্রাণহানির ঘটনা নেই। কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, কিছু আহত হয়েছে, কিন্তু প্রাণহানির ঘটনা নেই। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি। এ পরিস্থিতিতে আমি মনে করি ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক।”

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বিএনপির বর্জন ভোটের মাঠে কোনও প্রভাবই ফেলেনি। তারা নির্বাচনে হারবে, তা বুঝতে পেরেই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ জনগণের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

১৪৩ জনকে বহিষ্কার

বিএনপি নেতারা বলছেন, উপজেলা ভোট বর্জন ও প্রতিরোধে বহিষ্কারই দলটির প্রথম পদক্ষেপ। এর অংশ হিসেবে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টজন মিলিয়ে ১৪৩ জনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

প্রায় দেড়শ’ নেতাকে বহিষ্কার করলেও তাদের প্রায় কাউকেই ভোট থেকে ফেরাতে পারেনি বিএনপি। বহিষ্কৃত হওয়ার পর শুধু মেহেরপুর সদর উপজেলায় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রোমান আহমেদ ভোট থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। পরে বিএনপি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

লিফলেট বিলি

বিএনপি মনে করছে, ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগে ভোট বর্জনের ডাকে সাড়া দিয়েছিল ভোটাররা। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাচনের তফসিলের পর সভা-সমাবেশ, কর্মিসভা, লিফলেট বিতরণ করে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার ডাক দিচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে সারা দেশে পাঁচ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

৭ জানুয়ারির ভোট বর্জনের ডাকে জনগণ সাড়া দিয়েছিল দাবি করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বলে দেয় সব কথা। প্রথম ধাপের উপজেলা ভোটের চিত্র আরও ভয়াবহ। জনগণ ভোটেকেন্দ্রে যায়নি। আমাদের ডাকে জনগণের সাড়া দেওয়া বাড়ছে।”

তিনি জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্র থেকে ৫ লাখ লিফলেট সারাদেশে পাঠানো হয়েছে। আরও পাঠানো হচ্ছে। জেলা বিএনপিকেও লিফলেট ছাপিয়ে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

লিফলেটে কী আছে

‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ ব্যানারে ‘আওয়ামী সরকারের আসন্ন প্রতারণামূলক ডামি উপজেলা এবং সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করুন’ শিরোনামে লিফলেট বিলি করছে বিএনপি।

লিফলেটে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির এক দফার চলমান আন্দোলন অগ্রগামী করতে পিছপা হয়নি বলে বলা হয়েছে।

লিফলেটে বলা হয়েছে, “এখনও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি এবং বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ায় যৌক্তিক কারণে আসন্ন উপজেলাসহ স্থানীয় সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য বিএনপি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।”

এতে আরও বলা হয়েছে, “বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৮ মে থেকে শুরু হওয়া সব ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করতে জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বন জানাচ্ছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এ লড়াই ন্যায়সংগত বলেই এর বিজয় অবশ্যম্ভাবী ও অনিবার্য।”

ঢাকার নয়া পল্টনে শুক্রবার বিএনপির সমাবেশ শেষে মিছিল। ছবি : হারুন-অর-রশীদ

কর্মিসভা

ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক টিম জেলা ও উপজেলায় কর্মিসভা করছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, দলটির লক্ষ্য যতটা সম্ভব কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমানো। এর অংশ হিসেবে সাংগঠনিক জেলাগুলোতে কর্মিসভার মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের আত্মীয়স্বজন যাতে কেন্দ্রে না যান, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট উপজেলার নেতারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব কীভাবে পালন করেন বা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অন্য কোনও প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেন কি না- তা পর্যবেক্ষণ করতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের ওই সেলের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণও এই মনিটরিং সেল পর্যবেক্ষণ করবে।

সাবেক সংসদ-সদস্যসহ যারা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় নেতাদের ভোটের দিন নিজ এলাকায় থাকতে বলা হয়েছে।

কারণ দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, তারা এলাকায় থাকলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ করতে আরও উৎসাহ পাবেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমরা বিভিন্ন জেলায় কর্মিসভা করছি। সভা শেষে ভোট বর্জনের লিফলেট বিতরণও করছি। এতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নেতাকর্মীকে ভোটদানে বিরত থাকার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মতো বিএনপির কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবে না। কারও পক্ষে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কাজ করবে না।

“দলীয় নেতাকর্মীদের মূল কাজ হবে ভোটদানে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করা। বিএনপির কোনও পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এদিন ভোট প্রতিরোধের মতো কর্মকাণ্ডে যাবেন না। এমন নির্দেশনা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় দেওয়া হয়েছে।”

‘কাগজ বিলিয়ে কাজ হবে না’

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়ে বিএনপি যেসব কর্মসূচি পালন করছে তা নিয়ে দলটির নেতাদের একটি অংশের মধ্যে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, লিফটের বিতরণ, কর্মিসভার মতো ‘সফট টেকনিক’ এ কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। তৃণমূল নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ‘হার্ড লাইন’ এ যাওয়া উচিত বিএনপির।

দলটির ভাইস চেয়ারম্যানদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ভোটের হার কম, এটা তো নিঃসন্দেহে এটাই প্রমাণ করে যে ক্ষমতাসীন দল কতটা গণবিরোধী। আবার এটাও সত্যি যে, অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে যুদ্ধ করা যায় না। ক্ষমতার রদবদল করতে হলে, এই কাগজ বিলিয় কাজ হবে না। ভোটের হার যাই থাকুক, কমুক-বাড়ুক, তাদের পারপাস ঠিকই সার্ভ হবে, হচ্ছেও। এর পরিবর্তন ঘটাতে চাইলে স্ট্রেইট লাইনে আগাতে হবে।”

ঢাকা উত্তর বিএনপির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে আন্দোলন চললে, এভাবেই নমস্কার করতে করতে বুড়া হয়ে যেতে হবে। নয় হাবিজাবি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে কাটাতে হবে। কর্মীদের কথা ভেবে অন্তত সিনিয়র নেতাদের উচিত হার্ড লাইনে যাওয়া। অ্যাকশনে যাওয়া। ভোটকেন্দ্রে কেউই যদি না যেত তাতেও আওয়ামী লীগ জিততো। তাই এই ভোট বর্জনের সফট টেকনিক আসলে ফলপ্রসূ না।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত