Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

নানা আয়োজনে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন

SS-sheikh-mujibur-rahman-170324

নানা আয়োজনে পালন করা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণের পাশাপাশি এদিনের বেশিরভাগ আয়োজন ছিল শিশুদের ঘিরেই। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজনও করে অনেকে।

ডিএসসিসির আয়োজন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। গেন্ডারিয়ার জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে বঙ্গবন্ধু বারবার কারাবরণ করেছেন কিন্তু পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের ভয়ে তিনি কখনও পালিয়ে যাননি।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, কোনও কিছু ভুল হয়েছে, অন্যায় হয়েছে, পুলিশ আসবে, ধরে নিয়ে যাবে। আমরা প্রথম থেকেই চিন্তা করি কোথায় পালিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কখনো পালাননি। কারণ, উনি মনে করতেন, তিনি অন্যায় করেননি। যা করেছেন দেশ ও জাতির কল্যাণে করেছেন। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য করেছেন।”

অন্যায়ের সঙ্গে আপস করার চাইতে বঙ্গবন্ধু স্বাচ্ছন্দ্যে কারাবরণকে গ্রহণ করতেন জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, “বঙ্গবন্ধু কখনও ভয় পেতেন না। যত রকম অত্যাচার-নির্যাতনই করা হোক না কেন, তিনি সেটা স্বাচ্ছন্দ্য গ্রহণ করতেন। কিন্তু কখিনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতেন না। তিনি অনেকবার কারাবরণ করেছেন কিন্তু একবারও পালাননি। তিনি জানতেন, পুলিশ আসছে, ম্যাজিস্ট্রেট আসছে। ওনাকে ধরে কারাগারে নিয়ে যাবে। তিনি স্ত্রীকে বলতেন- রেনু, আমার কাপড় গুছিয়ে দাও, ওরা আসছে। ওনার এ রকম সাহস ছিল।”

অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় ‘ক (প্রাথমিক শ্রেণি)’ ও ‘খ (মাধ্যমিক শ্রেণি)’ বিভাগে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন মেয়র। 

ডিএনসিসির আয়োজন

নানা আয়োজনে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। দিনটিতে ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের মূল ফটকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। এরপর নগর ভবনের হলরুমে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “পাল, সেন, সুলতান, মোঘল, আফগান, ইংরেজ শাসন যাই বলি না কেন, হাজার বছর পরাধীনতার গ্লানি বয়েছে এ জাতি। স্বাধীনতা ছিল আজন্ম চাওয়া। কেউ স্বাধীনতা দিতে পারেনি। স্বাধীনতা দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।”

এই শহরকে শিশুদের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার আহ্বানও জানান তিনি। মেয়র বলেন, “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই শহর হবে নিরাপদ, তাদের জন্য নিশ্চিত হবে সব ধরনের সুবিধা।”

ঢাবিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন

জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের(ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, “বঙ্গবন্ধু এমন এক মহান নেতা যিনি কোনও সময়ের মধ্যে আবদ্ধ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তিনি কালজয়ী এক অনন্য সাধারণ বিশ্বনেতা। পৃথিবী যতদিন টিকে থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সংগ্রামী জীবন, আদর্শ ও দর্শন টিকে থাকবে।”

উপাচার্য আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালোবাসতেন। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

বিশেষ দিবসটিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা), সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ডিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়া, চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে এদিন সকালে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের ক্যাফেটেরিয়ায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন।

এর আগে রাত ১২টা ১ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে কেক কাটা হয়। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় দোয়া ও মিলাদ মহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া আবাসিক হল ও হোস্টেলের মসজিদ ও উপাসনালয়ে দোয়া, প্রার্থনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিবিতে উদযাপন 

যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারাদেশে বিজিবির অন্যান্য সবগুলো ইউনিটে এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ’ এর ভাষণ, ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) ৩য় ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণ ও ‘অসমাপ্ত মহাকাব্য’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ আলোচনা করা হয়।

পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভায় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধু না জন্মালে ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হতো কিনা তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ আছে। তিনি শুধু স্বাধীনতার বীজ বপনই করেননি, স্বাধীনতাকামী মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধু শিশুদেরকে অনেক ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার যখন ভীষণ মন খারাপ থাকে তখন আমি শিশুদের সঙ্গে মিশে আমার মনটা ভালো করে নেই, কারণ শিশুরা পবিত্র এবং নিষ্পাপ।’ শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর এই অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণেই তার জন্মদিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়। তাই বঙ্গবন্ধুর এই সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু কেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি? কেন জাতির পিতা? তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো প্রয়োজন।”

বিজিবি মহাপরিচালক জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সবাইকে সততা, আনুগত্য, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে সদর দপ্তর বিজিবি, পিলখানার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে সীমিত আকারে আলোকসজ্জা এবং সারাদেশে বিজিবির সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিট ব্যানার, ফেস্টুন এবং পতাকা দিয়ে সাজানো হয়।

জাসদের শ্রদ্ধা নিবেদন

দিনটিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এসময় জাসদের সহ-সভাপতি সফি উদ্দিন মোল্লা, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোহম্মদ সেলিম, দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

বিমান বাংলাদেশের উদযাপন 

নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এদিন বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় এবং ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এদিন বলাকায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিমানের সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ইন ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টে (আইএফই) প্রচার করা হয়।

বলাকায় বঙ্গবন্ধুর গৌরবময় কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং সভাপতিত্ব করেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শফিউল আজিম। আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 

সেনানিবাসের আয়োজন

ঢাকাসহ দেশের সবগুলো সেনানিবাস ও বৈদেশিক মিশনে অবস্থানরত কন্টিনজেন্টগুলোতে উদযাপন করা হয় বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। সেনাবাহিনীর সব স্তরের সামরিক এবং অসামরিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে এদিন নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

দিনটির শুরুতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুস্পস্তবক দেওয়ার সময় সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আন্তঃবাহিনী গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পুস্পস্তবক দেওয়ার সময় ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আন্তঃবাহিনী গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল ষ্টাফ অফিসার ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিনকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সব সেনানিবাসের প্রতিটি প্রবেশ পথ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সুসজ্জিত করা হয়। ঢাকাসহ সবগুলো সেনানিবাস এবং বৈদেশিক মিশনে অবস্থানরত কন্টিনজেন্টগুলোতে বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর আলোচনা, ‘৭ই মার্চের ভাষণ’এবং ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনী পরিচালিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতির পিতার জীবনীর ওপর আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist