Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

বস হতে অনীহা কি আপনারও?

করপোরেট দুনিয়ায় পদোন্নতি পেতে চান? চোখে সর্ষে ফুল দেখতে দেখতে খেটেখুটে যান। তবেই মিলবে বড় পদের সঙ্গে মোটা মাইনে।  অধীনস্তদের উপর ছড়ি ঘোরানোর সুযোগও আসবে হাতের মুঠোতে।  

কিন্তু নতুন প্রজন্ম না কি কর্মজীবন এভাবে সাজাতে আর রাজি নয়। ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোডারপ্যাড এর চালানো একটি জরিপ দেখাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টা ফল। ম্যানেজার পদে ৩৬ শতাংশ কর্মী কাজ করতে অনিচ্ছুক বলে উঠে এসেছে।

আর এর কারণ, জেন জেড মানে জেনারেশন জেড ও মিলেনিয়ালস প্রজন্ম চাইছে কাজ ও ব্যক্তি জীবনের মাঝে ছন্দ জাগিয়ে রাখতে। কর্ম ঘণ্টার পরেও কাজের চাপ এবং অধীনস্তদের সামাল দেওয়ার বিনিময়ে নামমাত্র অর্থ প্রাপ্তিতে এই প্রজন্ম সন্তুষ্ট নয় বলে জানাচ্ছে ফোর্বসের প্রতিবেদন।    

বস হওয়ার পুলক যখন মিইয়ে যায়

মহামারীর সময় অফিসে অফিসে ম্যানেজারের ঘাড়ে দায়িত্ব পড়ল সব কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের বন্দোবস্ত করা। শুধু ঘোষণা দিলেই তো আর হলো না! ম্যানেজারকে বসতে হলো হোম অফিস করার নীতিমালা ও প্রক্রিয়া সাজাতে। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর সবার যখন কর্মক্ষেত্রে ফেরার পালা শুরু তখন আবারও নাভিশ্বাস উঠে গেল ম্যানেজারদের। কারো কর্মক্ষেত্রে ফেরা তো কারো তখনও বাসা থেকে কাজ চলছে। কার কোভিড টিকা দেওয়া হয়েছে, কি হয়নি- সবকিছুই তদারকি করছেন ম্যানেজার।

কোভিড পরিস্থিতির চাপে ২০২১ সালে অনেক কর্মী চাকরিতে ইস্তফা দিতে শুরু করে। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস বলছে, ওই বছর ৪৭ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪ কোটি ৭০ লাখ কর্মী চাকরি ছেড়ে দেন। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘দ্য গ্রেট রেজিগনেশন’। কর্মী নিয়োগ এবং ধরে রাখা দুটোই কঠিন হয়ে উঠেছিল প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। অন্যদিকে কাজ করার মতো কর্মীও ছিল না। তখন নজর পড়ল হোয়াইট কলার মানে মোটা মাইনে ভোগী ম্যানেজারদের উপর। প্রযুক্তি খাত থেকে  নিউ ইয়র্ক শহরে ওয়াল স্ট্রিটের পুঁজিবাজার – সবখানেই শুরু হলো ছাঁটাই।

মেটা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ নিজের প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, “আমার তো মনে হয় না আপনি এমন একটা ব্যবস্থাপনা কাঠামো চাইবেন যেখানে একদল ম্যানেজার আরেকদল ম্যানেজার পরিচালনা করে, তারা আরও একদল ম্যানেজার পরিচালনা করে,  তারাও আরও একদল ম্যানেজার পরিচালনা করে, তারপর তারা সেই কর্মীদের পরিচালনা করে যারা মূলত কাজ করে।“

একজন ম্যানেজারের কর্মদক্ষতা প্রতিষ্ঠানের কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব রাখে। যদিও গবেষণার বরাতে এমআইটি স্লোন ম্যানেজমেন্ট রিভিউ বলছে, ম্যানেজারদের জন্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ সুযোগ-সুবিধা এখন পড়তির দিকে।  

২০২২ সালে ফিউচার ফোরাম এক জরিপ চালিয়ে দেখে, কোভিডের পর পর প্রতিষ্ঠানে মাঝামাঝি স্তরের ম্যানেজাররা আর যে কোনো কর্মীর চেয়ে বেশি হাঁপিয়ে উঠেছিল। ৪৫ শতাংশ ম্যানেজার তো নিজে থেকেই জানিয়েছিল, কর্মক্ষেত্রের চাপে তারা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

উপরন্তু বস মানে অফিসে একাকী হয়ে থাকা। অদৃশ্য এক দূরত্ব গড়ে ওঠে কর্মী ও অধীনস্তদের সঙ্গে। ম্যানেজার মানে হলো প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আর অধীনস্ত কর্মীদের মাঝে পড়ে দুই দিকের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া।

ধরা যাক, অফিসে সবাই জটলা করে আছে। ওই আলাপে একাত্ম করে নেওয়া তো দূরের কথা, ম্যানেজারের উপস্থিতি মানেই কর্মীরা সবাই তটস্থ হয়ে মুখ ফিরিয়ে কাজে মন দেন।   

অফিসে বড় কোনো সংকট দেখা দিলে ম্যানেজারের কাজ হচ্ছে আগুনে জল ঢালা। বিবাদ মেটাতে হালকা রাজনীতিও করতে হয়। পরিস্থিতি যেভাবেই শান্ত হোক না কেন, কেউ না কেউ নাখোশ থাকবেই। কেউ না কেউ সব দোষ ম্যানেজারের কাঁধে দেবেই।  

একজন ম্যানেজার মানেই সামনে থাকবে এক স্তুপ চাপ। কাজের মানে ঘাটতি হচ্ছে, কর্মী সংখ্যা অপ্রতুল, কর্মীদের মাঝে পারষ্পারিক সহযোগিতা ও সমঝোতার অভাব, প্রতিষ্ঠানের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যের কোটা পূরণ, কর্মী থেকে ম্যানেজার গড়ে তোলা – সবকিছুই সামলাবেন ম্যানেজার।    

এসব সামাল দিতে গিয়ে ম্যানেজার নিজের পছন্দের কাজের কথাই ভুলে যান। প্রতিষ্ঠান আসলে একজন ম্যানেজারকে তার মতো চলতে না দিয়ে উল্টো দিকে চালনা করে।

ধরা যাক, একজন দুর্দান্ত কোডার কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পেয়ে ম্যানেজারের দায়িত্ব পেয়ে গেলেন। এরপর আর কোডিং করার সুযোগ জুটবে না তার। এর বদলে গড়ে তুলতে হবে ১০ জনের টিম। কর্মক্ষেত্রে ওই দক্ষ সফটওয়ার ডেভেলপার আর কোডিং নয়, কর্মীদের প্রতিদিনের কাজের ফিরিস্তি দেখেই সময় কাটাবেন।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist