Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

নিশামরা পারেন লিটনরা পারেন না

দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি লিগে ২৫ জানুয়ারি সবশেষ ম্যাচ খেলেছিলেন জিমি নিশাম। মাঝে কিছুদিন বিরতির পর রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএল খেলতে নেমেই ব্যাটে-বলে পারফর্ম করে হলেন ম্যাচসেরা। প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে নিশামের সময় লেগেছে ৫ থেকে ১০ বল। অথচ পুরো বছর দেশের কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা থেকেও লিটন দাসরা রান করতে পারেন না! 

বিপিএলের সিলেট পর্বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের কন্ডিশন বুঝে খেলার মানসিকতা তৈরি হয়নি। তাই মিরপুরের উইকেটে এখনও লিটন দাস-নাজমুল হাসান শান্তদের কাছে দুর্বোধ্য। এত বছর এ উইকেটে খেলেও মিরপুরে খেলার ধরন পড়তে পারেননি তারা। শুধু মিরপুর নয়, সিলেট-চট্টগ্রামেও তারা ধারাবাহিক হতে পারেন না।

অথচ মিরপুরে প্রথম ম্যাচ শেষে নিশাম জানিয়েছেন, শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পিচ বুঝে উঠতে তার ৫ থেকে ১০ বল লেগেছে, “আধুনিক ক্রিকেটটা এখন এমনই। এখন আমরা যে পরিমাণ ভ্রমণ করি তাতে কোনও ভেন্যুই অপরিচিত নয়। ব্যাপারটা হলো আগের অভিজ্ঞতাটা বর্তমানে টেনে আনা। এরপর শুরু থেকেই রান করার চিন্তায় না থেকে উইকেটে সেট হতে ৫ থেকে ১০ বল সময় নিলে সব সহজ হয়ে যায়।”

ভুল বলেননি নিশাম। শনিবার ইনিংসের ১৩তম ওভারে উইকেটে আসেন এই নিউজিল্যান্ড ব্যাটার। প্রথম ১০ বলে করেছেন ৯ রান। এর মধ্যে ছিল একটি চার। আর পরের ১৬ বলে করেছেন ৪২। প্রথম ম্যাচেই ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ ও ৩২ রানে ২ উইকেট। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে দলের ৫৩ রানের জয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন।

নিশাম ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার রিজা হেনড্রিকসও বিপিএলে শনিবার প্রথম ম্যাচ খেলেছেন। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ বলে ৫৮ রান তার। নিশাম-হেনড্রিকসদের দ্যুতিতে এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ ৩ উইকেটে ২১১ রান করেছে রংপুর। জবাবে চট্টগ্রাম নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে মাত্র ১৫৮ রান করে। ৪৫ বলে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন সৈকত আলী। 

গত সপ্তাহে নতুন কোচদের সাক্ষাৎকার শেষে সাবেক অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয় বলছিলেন, দেশি ক্রিকেটাররা সমস্যা সমাধানের জন্য কোচদের কাছে নিজে থেকে যান না। নিজের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য কোনও বাড়তি কাজ করেন না। শনিবার রংপুরের জয়ের নায়ক নিশাম যেন কথাটা আরেকটু ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের হয়ে খুব ভালো সময় কাটেনি নিশামের। কিন্তু ঢাকা এসে একদিনেই কম্পিউটার অ্যানালিস্টের সঙ্গে কাজ করে নিজে থেকে ফর্মে ফেরার পথ বের করেছেন।

শনিবার ম্যাচ শেষে এই অলরাউন্ডার বলেছেন, “একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার দায়িত্বটা নিজের। কোচ, অধিনায়ক বা অন্য কেউ কিন্তু এটা বলে দিবে না। এখন প্রযুক্তির সর্বোচ্চটা আমাদের পাশেই আছে। যেকোনও সময় পিচ, বিপক্ষ বোলারদের নিয়ে কাজ করা যায়। অনেক ক্রিকেটারদের তো আগে থেকেই চেনা থাকে। তাই সেসব বিশ্লেষণ করে ভালো করার পথ আছে, সেই দায়িত্বটা নিজেদেরই নিতে হয়।”

নিশামরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের ব্যাপারটা বোঝেন। তাই এক ম্যাচ-সিরিজ-টুর্নামেন্ট খারাপ করলে পরেরটায় তা কাটিয়ে ওঠার পথ খোঁজেন। কিন্তু লিটন-শান্ত কিংবা জয়-জাকিরদের মতো তরুণদের এই খিদেটা কতটুকু সেই প্রশ্ন তোলে তাদের পারফরমেন্স।

গত ম্যাচে ৪৫ রান করা লিটন পরের ম্যাচে করলেন ৮। ধারাবাহিকতা আনার যে চেষ্টা, মারকুটে ব্যাটিং করতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন। অথবা উইকেটে সেট হলেও ম্যাচ শেষ করার চিন্তাটা তাদের খুব একটা দেখা যায় না। অথচ নিশামরা উইকেটে সেট হয়ে পরে হাত খুলে মারেন, বোলারের বাজে বল কাজে লাগান। তারা পারেন, কিন্তু বাংলাদেশি ব্যাটাররা এই দিকে পিছিয়েই আছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত