Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

কলাম

বাঙালিকে প্রতারক বলা ইংরেজের ব্রিটিশগিরি-৪

ওয়ারেন হেস্টিংসের নামে ব্রিটিশ জাহাজ ‘দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া ম্যান ওয়ারেন হেস্টিংস’। চিত্রকর: থমাস হুইটকম্বে। আলোকচিত্র: উইকিমিডিয়া কমন্স।

বাঙালির কাঁধে কেবল শত শত বছরের উপনিবেশের জোয়ালই চেপে বসেনি কপালেও জুটেছে অপমানজনক বহু তকমা। প্রতারণা আর ঠগবাজি করে যে ইংরেজরা বাংলায় উপনিবেশ গড়েছিল সে ইংরেজই বাঙালিকে বলেছিল প্রতারক। ইংরেজ শাসনের জোয়াল নামাতে দু’শো বছর লেগে গেলেও বাঙালিরা প্রবঞ্চক ব্রিটিশের কথা ভোলেনি আজও। কি গ্রামে কি শহরে, কূটকৌশল করা লোক বোঝাতে আমজনতা এখনও ‘ব্রিটিশ’-ই বলে। দেখে নেওয়া যাক এই বাংলায় ইংরেজদের ব্রিটিশগিরির শুরুর কালটা কেমন ছিল। পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকের আজ পড়ুন চতুর্থ পর্ব।

(তৃতীয় পর্বের পর)

৪.
বাংলা হয়ে একটু একটু করে গোটা ভারতবর্ষ ব্রিটিশের উপনিবেশ হয় ব্রিটিশ পার্লামেন্টেরই হাতে; পার্লামেন্ট একটার পর একটা অ্যাক্ট (আইন করাটাই তার কাজ) করে ১৭৭৩ থেকে ৮৫ বছর চালিয়েছে পেছন থেকে কোম্পানির নামে, উপনিবেশের ভিত পাকা হয়ে এলে ১৮৫৮-তে কোম্পানিকে সরিয়ে নিজেরা সামনে এসে ১৯৪৭ পর্যন্ত ৮৯ বছর সরাসরি চালিয়েছে ব্রিটিশরাজের নামে। ১৭৭৩-এর রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এ বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির শাসনের ভার দেয়া হয় গভর্নর-জেনারেল ও তার চারজন কাউন্সেলর [Counsellor] সমন্বয়ে ‘সুপ্রিম কাউন্সিল’ (আইনের ভাষায় ‘গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল’)-এর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের ওপরে। ‘ভেটো-পাওয়ার’ ছিল না গভর্নর-জেনারেলের, ছিল মোটে বাড়তি একখানা কাস্টিং-ভোট, যদি দুই মতে সমান সমান ভোট হয়ে যায় কখনো কোনো কাউন্সেলরের অনুপস্থিতির কারণে। 

এই অ্যাক্টেই প্রথম নিষিদ্ধ করা হয় ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ সামরিক-বেসামরিক ও কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎকোচ-উপঢৌকন (ঘুষ) ও সাইড-বিজনেসের কারবার (১৭৭৪-এর ১ আগস্ট থেকে; তবে, কাউন্সেলর-অ্যাট-ল, ফিজিসিয়ান, সার্জন ও চ্যাপলেইনদের ছাড় দেয়া হয় এই বিধিনিষেধ থেকে), শাস্তির বিধানের মধ্যে ছিল নিয়ে ফেলা উৎকোচ-উপঢৌকন, ফাঁদানো ব্যবসা বাজেয়াপ্ত করে তার অর্ধেক কোম্পানিকে আর বাকি অর্ধেক সংবাদদাতাকে দেয়া। নিষেধ আর শাস্তির কথা পরবর্তী সবগুলো ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অ্যাক্ট’-এ আর ‘ভারত শাসন আইন’ [গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট]-এ এবং তারপরে প্রত্যেকবারের স্বাধীনে নতুন আইনে লেখা হয়ে আসছে সমানে, সরকারি লোকের ঘুষের আর সাইড-বিজনেসের রমরমাও চলেছে সমানে, সেই আমলে, এই আমলে!      

১৭৭৩-এর এই রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এ শাসনের আর বিচারের ক্ষমতা দুই তরফে ভাগ করে দেয়া ছিল একই ফোর্ট উইলিয়ামে। এক গভর্নর-জেনারেলের সাথে চার কাউন্সেলর জুড়ে শাসনের ক্ষমতা দেয়া হয় ‘সুপ্রিম কাউন্সিল’-এ, আর এক চিফ জাস্টিসের সাথে তিন সহযোগী জাস্টিস [Puisne Justices] জুড়ে বিচারের ক্ষমতা দেয়া হয় ‘সুপ্রিম কোর্ট অব জুডিক্যাচার’-এ। (ব্রিটিশ পার্লামেন্টের করা সেই অ্যাক্ট-এ দেয়া ক্ষমতা খাটিয়ে ১৭৭৪-এর ২৬ মার্চে ব্রিটিশরাজ রাজা ৩য় জর্জ-এর দেয়া চার্টারের [Charter or Letters Pattent] বদৌলতে ১৭৭৪-এর ২২ অক্টোবর কোলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সুপ্রিম কোর্ট অব জুডিক্যাচার’। কাজে হাত দেয় ১৭৭৫-এর শুরুতে, জানুয়ারিতে।) কারো ওপর কারো খবরদারির হাত ছিল না এ-দুই তরফের।

কোলকাতার আলিপুরে নিজ বাগানে ওয়ারেন হেস্টিংস ও তার স্ত্রী ম্যারিয়ান। ক্যানভাসে তেল রঙ, (১৭৮৪-৭), চিত্রকর: জোহান জোফানি। আলোকচিত্র: উইকিমিডিয়া কমন্স।

শাসনওয়ালারা তো স্বাধীন হয়েই থাকে সবার থেকে, বাংলার বিচারওয়ালা সুপ্রিমদেরও শুরুতেই স্বাধীন করে দেয় ব্রিটিশ পার্লমেন্ট। ব্রিটিশের এ-আধুনিক টেকনিক ঠাওর করে উঠতে পারেননি গোড়াতে বাঙালি টেটন নন্দ কুমার!

“মারে কাউন্সিল রাখে জুডিক্যাচার! রাখে কাউন্সিল মারে জুডিক্যাচার! ব্রিটিশের এ এক জবর যন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট অব জুডিক্যাচার!”— বলেছেন খোদ মেকলে সাহেব। পুরাতন শত্রু নন্দ কুমারের কাছে নতুন সুপ্রিম কাউন্সিলে মার খেয়ে হেস্টিংস ছুটে আসেন আরেক নতুন সুপ্রিম জুডিক্যাচারের শরণে। এ-দরগাহে তখন ‘খাজা বাবা’ এলিজা ইমপে!  ব্রিটিশের কী কাম! সুপ্রিম কোর্ট অব জুডিক্যাচারে প্রথম চিফ জাস্টিস আবার প্রথম গভর্নর-জেনারেল হেস্টিংসেরই পুরাতন জিগরি দোস্ত (সেই ওয়েস্ট-মিনস্টিার স্কুলে একসঙ্গে পড়ার সময় থেকে) এলিজা ইমপে! ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দের চার্টারেই ‘Supreme Court of Judicature’-এর Chief Justice হিসেবে Elijah Impey, তার সঙ্গে অপর তিন সহযোগী জাস্টিস [Puisne Justices] হিসেবে Stephen Caesar Le Maistre, John Hyde, Robert Chambers নিয়োগ পান।  

হেস্টিংসের নিয়োগে তার গুরু ক্লাইভের নাকি হাত ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে, ইমপের নিয়োগে ব্রিটিশের রাজ-চার্টারে আবার আর কার হাত ছিল কে জানে! জিগরি দোস্ত না হলেই বা কী? ধান্ধাবাজ আর শাসকের জিকিরই তো শোনে এ-দরগাহে! তাদের মানতই তো কবুল হয় এ-মোক্ষধামে! কেউ ফেরে না তারা খালি হাতে বিচারের এই সুপ্রিম দরগাহে! ধান্ধাবাজ আর শাসকের বদখায়েশ পুরা করার এ এক জবর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে দিনে দিনে এ-পোড়া দেশে সেই থেকে!

বাংলা হয়ে একটু একটু করে গোটা ভারতবর্ষ ব্রিটিশের উপনিবেশ হয় ব্রিটিশ পার্লামেন্টেরই হাতে; পার্লামেন্ট একটার পর একটা অ্যাক্ট (আইন করাটাই তার কাজ) করে ১৭৭৩ থেকে ৮৫ বছর চালিয়েছে পেছন থেকে কোম্পানির নামে, উপনিবেশের ভিত পাকা হয়ে এলে ১৮৫৮-তে কোম্পানিকে সরিয়ে নিজেরা সামনে এসে ১৯৪৭ পর্যন্ত ৮৯ বছর সরাসরি চালিয়েছে ব্রিটিশরাজের নামে।

ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথমবার ভারত আসেন ১৭৫০-এর আগস্টে কোলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামে ‘রাইটার’ [জুনিয়র অফিসার] হয়ে, পদোন্নতি পেয়ে পদস্থ হন কাশিমবাজার কুঠিতে কুঠিয়াল উইলিয়াম ওয়াটসের সহকারী হিসেবে। ১৭৫৬-এর জুনে সিরাজউদ্দৌলার আক্রমণে অনেকের মতো হেস্টিংসও পালিয়েছিলেন ফলতায়। সেখান থেকে ক্লাইভ তাকে ১৭৫৬-এর ডিসেম্বরে উদ্ধার করে এনে পরে শিখণ্ডী নবাব মীর জাফরের দরবারে ব্রিটিশ রেসিডেন্ট [আবাসিক প্রতিনিধি] হিসেবে বসিয়ে যান। সেখান থেকে কোম্পানি তাকে ১৭৬১-তে উঠিয়ে এনে বসায় কোলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামে গভর্নরের কাউন্সিল সদস্য করে। এর আগে ১৭৬০-এর অক্টোবরে মীর জাফরকে সরিয়ে তার জামাতা মীর কাশিমকে বসানোর ব্যাপারে ফোর্ট উইলিয়ামের পদক্ষেপে হেস্টিংস আপত্তি জানান, মীর জাফরের সাথে ব্রিটিশরা প্রীতিবন্ধনাবদ্ধ বলে মনে করতেন তিনি। তার অভিমত পাত্তা পায়নি। ব্রিটিশ পতাকার আড়ালে অননুমোদিতভাবে ভারত এসে স্থানীয় কাস্টমসের লোকেরা ভয়ে চুপ থাকবে বুঝে, লাগামহীন প্রতারণা আর অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে ইউরোপীয়দের এবং সেই সাথে ব্রিটিশপুষ্ট স্থানীয়দের ব্যক্তিগতভাবে পরিপুষ্ট হওয়ার ব্যাপারে হেস্টিংস খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন।

বাঙালিকে প্রতারক বলা ইংরেজের ব্রিটিশগিরি-৩

ব্রিটিশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি এগুলো বন্ধ করতে কাউন্সিলকে পদক্ষেপ নিতে বলেন। কিন্তু, তীব্র সমালোচনা শেষে তার প্রস্তাব প্রত্যখ্যাত হয় কারণ, কাউন্সেলরদের অনেকেই এসব কারবারের লাভভোগী ছিলেন। তিনি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে ব্রিটেন ফিরে যাবার কথা ভাবতে শুরু করেন। এরমধ্যে কোম্পানির বিরুদ্ধে মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠতে থাকা মীর কাশিমকে দমনের ঝামেলা লেগে যায়। ১৭৬৪-এর অক্টোবরের যুদ্ধে হেরে মীর কাশিম দিল্লী ভেগে যাবার পরে (কপদর্কহীন অবস্থায় ১৭৭৭-এ সেখানে তার মৃত্যু হয়) হেস্টিংস ১৭৬৪-এর ডিসেম্বরে কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দিয়ে পরের মাসে পাততাড়ি গুটিয়ে ব্রিটেনে পাড়ি দেন।

ব্রিটেনে নবাবী ঠাটে চলতে গিয়ে (লন্ডনীরা সেকালে ভারতে কোম্পানির চাকরি শেষে ব্রিটেন ফিরে আসাদের ঠাট্টা করে ‘নবব’ বলত) ফতুর হয়ে হেস্টিংস পয়সা কামাতে আবার ভারতে চাকরির ফিকিরে কোম্পানিতে দরখাস্ত করেন ১৭৬৮-এর দিকে। এর মধ্যেই তার আবার রাজনৈতিক শত্রুও কিছু গজিয়ে যায়, তাদেরই একজন প্রভাবশালী ডিরেক্টর লরেন্স সুলিভানের বিরোধিতায় তার দরখাস্ত নাকোচ হয়ে যায় প্রথম চোটে। ভাগ্যগুণে আপিলটা হেস্টিংসের গুরু লর্ড ক্লাইভের কাছে যাওয়ায় মাদ্রাজের ডেপুটি গভর্নরের চাকরিটা পান হেস্টিংস।

লর্ড রবার্ট ক্লাইভ তখন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় দফা গভর্নরগিরিতে ইস্তফা দিয়ে ১৭৬৭-এর ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটেনে এসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি। পার্লামেন্টে ঢুকেছিলেন ১৭৬০-এর জানুয়ারিতে প্রথম দফা গভর্নরগিরিতে ইস্তফা দিয়ে এসে নিজ এলাকা কাউন্টি ক্লেয়ারে তার জমিদারির নাম ‘পলাশী’ রেখে, পলাশীর যুদ্ধ জিতে ও প্রথম দফা গভর্নরগিরিতে বসে কামানো অর্থ দিয়ে ১ম ব্যারোন খেতাব কিনে, ১৭৬১-এর ভোটভেলকিতে টোরি দলের প্রার্থী হয়ে জিতে (১৭৫৭-এর পলাশীর যুদ্ধের পরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একচতুর্থাংশ এমপি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শেয়ার-হোল্ডার ছিলেন)। তারও আগে তিনি বছরখানেকের জন্য এমপি হয়েছিলেন ১৭৫৪-৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, কোম্পানির চাকরি ছেড়ে ১৭৫৩-এর ফেব্রুয়ারিতে মাদ্রাজ থেকে ফিরে গিয়ে। 

ওয়ারেন হেস্টিংস এতটাই বিবাদে লিপ্ত ছিলেন যে তার ডুয়েলের ছবিও আঁকা হয়েছে।
ফিলিপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ওয়ারেন হেস্টিংসের ডুয়েল লড়ার দৃশ্য। ইলাস্ট্রেশন: উইকিমিডিয়া কমন্স।

ডেপুটি গভর্নর হয়ে হেস্টিংস মাদ্রাজে আসেন ১৭৬৯-এর এপ্রিলের দিকে। এরপরে ভাগ্য তাকে তিন বছরের মাথায় প্রথমে বানায় বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির শেষ গভর্নর, কোলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামে এসে বসেন ১৭৭২-এর ১৩ এপ্রিলে; তার পরেরবারে দেড় বছরের মাথায় ১৭৭৩-এর ২০ অক্টোবর তাকেই বানায় বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির প্রথম গভর্নর-জেনারেল।

ওই যে বলছিলাম, কেউ ফেরে না তারা খালি হাতে বিচারের এই সুপ্রিম দরগাহে! হেস্টিংসকেও ফেরায়নি খালি হাতে। তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নেয়া সারা হতে না হতেই হেস্টিংস নন্দকে আরো দুজনের সঙ্গে বাঁধেন ঘুষের কারবারগুলো সুপ্রিম কাউন্সিলে তুলে তারা হেস্টিংসকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগে; গ্রেপ্তার করে জেলে পুরে তোলেন সুপ্রিম কোর্ট অব জুডিক্যাচারে (১৭৭৩-এর রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এ গভর্নর জেনারেলকেও ‘জাস্টিস অব দ্য পিস’ করা হয়েছিল )।

এ-মামলায় নন্দের কিছু করা হলে নিশ্চিত দোষ উঠবে হেস্টিংসের নিজেরই নামে, পরক্ষণেই সেটা টের পেয়ে বাঙালি নন্দ কুমারের বিরুদ্ধে শত্রু খুঁজে এনে (শত্রুর শত্রু পরম মিত্র যেহেতু) খাড়া করান আরেক বাঙালি মোহন প্রসাদকে, এ-জুডিক্যাচারের জন্মের বছর দশেক আগের একখানা একরারনামার [Acknowledgement Bond] প্রতারণা-জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে।

(শেষ অংশ পরবর্তী পর্বে)

লেখক: প্রবন্ধকার ও গ্রন্থকার; অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ও দুদকের সাবেক মহাপরিচালক।
ইমেইল: moyeedislam@yahoo.com

মঈদুল ইসলাম। প্রতিকৃতি অঙ্কন: সব্যসাচী মজুমদার
ad

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist