Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

বুয়েটে শিবির কোথায়? জানতে চাইছে আন্দোলনকারীরা

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে বুয়েট শিক্ষার্থীরা।
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

বুয়েটে চলমান আন্দোলনের নেপথ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা।

তারা বলছেন, তারা নির্দিষ্ট কোনও ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়, ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধেই আওয়াজ তুলেছেন। কোনও ছাত্র সংগঠনের তৎপরতাই ক্যাম্পাসে দেখতে চান না তারা।

২০১৯ সালে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীর পিটুনিতে আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ছাত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করে বুয়েট প্রশাসন।

সম্প্রতি গত বুধবার ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন বুয়েটে গেলে তাকে রাজনৈতিক তৎপরতা হিসেবে দেখে শুক্র ও শনিবার বিক্ষোভ হয় প্রকৌশল শিক্ষার প্রতিষ্ঠানটিতে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সাদ্দামদের আমন্ত্রণ জানানো বুয়েটের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইমতিয়াজ হোসেন রাহিমের হলের সিট বাতিল করে প্রশাসন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটিও করে।

প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রলীগ নেতারা অভিযোগ তোলেন, বুয়েটে ইসলামী ছাত্রশিবির, হিযবুত তাহরীরের মদদে এই আন্দোলন চলছে।  

শনিবার নিজেদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী’ দাবি করে পাঁচ বুয়েট শিক্ষার্থীও সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, এই আন্দোলনে ‘অন্ধকার সংগঠনের’ ইন্ধন রয়েছে। বুয়েটে কার্যক্রম চালাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর।

এরমধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে উদ্ধৃত করে একটি খবরও আসে যে বুয়েটে তাদের সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রবিবার একটি বিবৃতি পাঠায়, যা ‘বুয়েট সাংবাদিক সমিতি’ নামের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশিত হয়েছে। সোশাল মিডিয়ার এই পাতায় আন্দোলনকারীদের আগের বক্তব্যগুলোও এসেছিল।

সেই বিবৃতিতে বলা হয়, “যেসব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিবিরের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ আসছে, তাদের ঘটনাটি বুয়েটের বাইরে হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোনও প্রমাণ নেই।

“তবে অভিযোগ আসার সাথে আমরা তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিতভাবে আহ্বান জানাই, আদালতে বর্তমানে এই মামলাটি বিচারাধীন আছে এবং এই বিচার প্রক্রিয়ার রায় সাপেক্ষে যদি এরকম কোনও শিক্ষার্থীর শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, আমরা তাৎক্ষণিক তাদের বহিষ্কারের দাবি জানাব।”

শিবির সভাপতির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে বলা হয়, “যিনি দাবি করেছেন, উনাদের বুয়েটে কার্যক্রম আছে। তিনি যেন প্রমাণসহ বুয়েটে শিবিরে যুক্তদের তালিকা প্রকাশ করে। আমরা সেক্ষেত্রে তাদের তাৎক্ষণিক নিষিদ্ধ করার দাবি জানাব।”

ছাত্রলীগ এই আন্দোলনের লক্ষ্যবস্তু নয় দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, “বুয়েটের আন্দোলনরত বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টরা।

“আমরা আবারও সাফ জানিয়ে দিতে চাই, আমাদের অবস্থান কেবল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নয়। বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় এখানে শিক্ষার্থীরা যে কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মকােণ্ডর বিরোধী।”

ছাত্রদল ২০২১ সালে বুয়েটে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরও বুয়েটে প্রতিবাদত হয়েছিল দাবি করে আন্দোলনকারী বলেন, কিন্তু সেই কমিটির সবাই প্রাক্তন শিক্ষার্থী হওয়ায় কর্তৃপক্ষের তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় ছিল না।

হিযবুত তাহরীর নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “এটি কোনও রাজনৈতিক দল না, বরং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। আমরা হিযবুত তাহরীরের নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ বিপক্ষে এবং এ জাতীয় অপশক্তির উত্থান যেন বুয়েটে না হয়, এজন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

টানা দুদিন বিক্ষোভের পর রবিবার বুয়েটের আন্দোলনকারী কোনও কর্মসূচি পালন করেনি।

তবে এদিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের পর মিছিল নিয়ে বুয়েটে গিয়েছিল।

ছাত্রলীগ বুয়েটের ছাত্র রাজনীতির পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে সংগঠনের নেতা ইমতিয়াজের হলে সিট বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist