Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

অনিয়ম পেলে ভোট বন্ধ, প্রার্থিতা বাতিল : সিইসি

সিইসি
সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল

ভোটের আগের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, অনিয়মের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট বন্ধ করা হবে, প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করা হবে।

ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামর্থ্যের সব দিয়েই চেষ্টা করা হবে জানিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিইসি।   

মতভেদ থেকে সংঘাত ও সহিংসতা কাম্য নয়, সংলাপেই রাজনৈতিক সংকটের নিরসন সম্ভব বলে তিনি মনে করছেন।

ভোট শুরুর ১৩ ঘণ্টা আগে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় এই ভাষণ দেন সিইসি।

ভোট সুষ্ঠু করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘সরকার আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি বারংবার ব্যক্ত করেছে।

‘‘কমিশনও তার আয়ত্বে থাকা সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে এবং সরকার থেকে আবশ্যক সব সহায়তা গ্রহণ করে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার বিষয়ে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি বারংবার ব্যক্ত করেছে।’’

এই নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করেছে। মোট ১৯৭১ জন প্রার্থী ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ও অংশগ্রহণমূলক নয় বলে আখ্যায়িত করা যাবে না বলে মত সিইসি। তিনি বলেন, এখন

কেবল ভোটগ্রহণ শুরুর অপেক্ষা। অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থী ও ভোটার সাধারণকে নির্বাচন বিষয়ক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে।’’  

সবাইকে নির্বাচনী অনিয়ম প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোনও প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট, ভোট কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, অর্থের লেনদেন ও পেশিশক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

‘‘তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা তাৎক্ষণিক বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকার ভোট গ্রহণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’

ভোটের আগের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন প্রশ্নে, রাজনৈতিক নেতৃত্বে মতভেদ রয়েছে। মতভেদ থেকে সংঘাত ও সহিংসতা কাম্য নয়।

‘‘চলমান এহেন পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান ও অবসান প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে। আজকে না হলেও ভবিষ্যতের জন্য।’’

সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় উপনীত হয়ে যেকোনো রাজনৈতিক সংকটের নিরসন সম্ভব বলে মনে করেন সিইসি।

সাংবিধানিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে তিনি সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘‘জনগণকে অনুরোধ করছি আপনারা সবাই উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও অস্বস্তি পরাভূত করে নির্ভয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে অবাধে মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করে মূল্যবান নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন।’’

দেশে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৪২,০০০। মোট ২ লাখ ৬২ হাজার বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে।

৮ লাখ সরকারি কর্মচারী ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। প্রায় ৩ হাজার নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রের পাশাপাশি, সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ লাখের বেশি সদস্য জননিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

গণমাধ্যম ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতা আমরা একান্তভাবে কামনা করছি।  

‘‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রায় ২৩ হাজার দেশি এবং প্রায় ২০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক কাজ করবেন। পর্যাপ্ত সংখ্যক দেশি ও বিদেশি সংবাদকর্মীও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং চিত্র ও তথ্য সংগ্রহে মাঠে অবস্থান করবেন।’’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist