Beta
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

চার বছরে একবার যাদের

february29

জগতে এমন লোকও আছে যাদের জন্মদিন পালন করতে অপেক্ষা করতে হয় ৪ বছর। এই যেমন- কমিক চরিত্র সুপার ম্যান। ক্রিপ্টন গ্রহের এই মানুষের জন্ম ১৯৭৭ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি।

কিন্তু সুপারম্যান তো আর ‘সত্যি’ চরিত্র নয়। তবে এমন মানুষ সত্যিই আছে আমাদেরই আশেপাশে, যাদের জন্মদিন পালন করতে হতে হয় তীর্থের কাক। 

বিনোদন জগতেও আছেন এমন কিছু মানুষ, যাদের জন্মদিন লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষে।

মামুনুর রশিদ

বাংলাদেশের নাট্য ব্যক্তিত্ব, পরিচালক এবং অভিনেতা মামুনুর রশীদের জন্ম অধিবর্ষে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন্মদিন পালন করা নিয়ে একবার বলেছিলেন, “এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে। প্রতি বছর জন্মদিন হলে হয়তো এত উত্তেজনা-আনন্দ কাজ করতো না। চার বছর পরপর জন্মদিন আসে বলেই হয়তো উত্তেজনাটা একটু বেশি কাজ করে। অনেক দিন অপেক্ষা করি, কবে আসবে আমার জন্মদিন। আসলে সময়ের তো বিভাজন হয় না। কোথাও রাত, কোথাও দিন। নানান দেশে নানা রকম। তারপরও বিষয়টি দীর্ঘ অপেক্ষার, তাই প্রবল আনন্দেরও।”

এ দেশের মঞ্চ নাটকের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ জন্মেছেন ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। নাট্যদল ‘আরণ্যক’ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। 

শক্তিমান এই অভিনেতা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও পেয়েছেন একুশে পদক। অভিনয়, নাটক পরিচালনা ও নাটক লেখা – এই তিনটিই করে যাচ্ছেন সমানতালে।

আন্তোনিও সাবাতো জুনিয়র 

ইতালিয়ান -আমেরিকান অভিনেতা ও মডেল আন্তোনিও সাবাতো বিশ্বজোড়া পরিচিতি পান আমেরিকান টিভি সিরিয়াল ‘জেনারেল হসপিটাল’ এ অভিনয় করে।

গত শতকের নব্বই দশকের এই সিরিয়ালটিতে তিনি অভিনয় করেন জ্যাগার ক্যাটস চরিত্রে। 

জন্মদিনে সাবাতো পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথেই সময় কাটাতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই সময় বের করাটা তার জন্য দুর্লভও। কেননা, ৪ বছরে মাত্র একবারই তিনি সে সুযোগ পান। তার জন্মদিন যে ১৯৭২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি।

সেই ৯০ দশকে কেলভিন ক্লেইনের অন্তর্বাসের মডেল হওয়া এই অভিনেতা একবার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, জন্মদিন তার জন্য অন্যরকম এক ব্যাপার। কারণ এই দিনের জন্য তার অপেক্ষা করতে চারটি বছর।

জা রুল 

আমেরিকান হিপহপ শিল্পী জা রুল ওরফে জেফরি ব্রুস অ্যাটইকিন্স তার ১০ম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন ২০১৬ সালে। সেবছর তার বয়স হয়েছিল ৩৬। সে হিসেবে ২০২০ সালে তার বয়স হবে ১১ এবং এ বছর ১২। গোলমেলে লাগছে তাইতো?

আসলে লিপ ইয়ারের ফেরে পড়ে জা রুল ৪ বছরে মোটে ১ বার তার জন্মদিন উদযাপন করতে পারেন। জন্ম যার ২৯ ফেব্রুয়ারি তার তো এমন হ্যাপা পোহাতে হবেই!

২০০০ সালে জা রুলের গান ‘Rule 3:36’ এবং ‘পেইন ইজ লাভ’ উঠে আসে ইউএস বিলবোর্ডের টপ চার্টে।  

তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘হল্লা হল্লা’ এবং ‘বিটুইন ইয়ু অ্যান্ড মি’ উল্লেখযোগ্য। 

১৯৭৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি এই শিল্পীর জন্ম।

ক্রিস কনলি

নাম দেখে আমেরিকান রাগবি খেলোয়ার ক্রিস কনলি অথবা লেখক এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ক্রিস কনলির সাথে আবার গুলিয়ে ফেলবেন না যেন।

এই ক্রিস কনলি হলো রক ব্যান্ড ‘সেভস দ্য ডে’-র ফ্রন্টম্যান ক্রিস কনলি। গত শতকের শেষ দিকে পাঙ্ক রকের সোনালি সময়ে আমেরিকান এ ব্যান্ডের উত্থান। রক সংগীতের ঘনিষ্ঠ শ্রোতা মাত্রই এ শিল্পীর কণ্ঠের সঙ্গে পরিচিত। 

এই শিল্পীর জন্ম লিপ ইয়ারে। সাল ১৯৮০।

অ্যালেক্স রোকো

১৯৩৬ সালে জন্ম নেওয়া অ্যালেক্স রকো ‘দ্য গডফাদার’ (১৯৭২)  এ ‘মো গ্রিন’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। লিপ ইয়ারে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা ১৯৯০ সালে জেতেন প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড।

কমেডি সিরিজ ‘দ্য ফেমাস টেডি জেড’ এ জাদুকর আল ফ্লসের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি এ সম্মাননা পান। 

অ্যালেক্সকে সিনে দুনিয়া রাশভারি কণ্ঠের জন্য আলাদা করে চিনত। অসাধারণ এ অভিনেতা ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন বিভিন্ন সময়। ২০১৫ সালে মৃত্যবরণ করা অ্যালেক্স রকোর জন্মদিন পালন করা হতো লিপ ইয়ারে।

মিশেল মরগান

তিনি মিশেল মর্গান। জন্মেছিলেন ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯২০ সালে। বুঝতেই পারছেন, সারাজীবন পাদপ্রদীপের আলোয় থাকা এ তারকা জন্মদিন উদযাপন করতে পারতেন চার বছরে একবার। বিধি যে তার কপালে সেটে দিয়েছিলেন লিপ ইয়ার। 

দাপিয়ে বেড়িয়েছেন একইসঙ্গে ফরাসি এবং হলিউডের চলচ্চিত্র জগত। টানা তিন দশক এই দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই ছিলেন শীর্ষ অভিনেত্রীদের একজন। তাকে বলা হয় বিংশ শতাব্দির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী। 

ফরাসি চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মিশেল মর্গান পেয়েছিলেন সম্মানসূচক সিজার পুরস্কার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist