Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বিদেশি বিমান চট্টগ্রামে আসছে না কেন

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে পূর্ব থেকে পশ্চিমে আকাশপথে যোগাযোগে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দেশের বন্দরনগরীর এই বিমানবন্দর থেকে ২০০০ সালে বিদেশি বিমান সরাসরি চলাচল শুরুর পর যাত্রীর সংখ্যা বার্ষিক ৬ লাখ থেকে বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখে। সক্ষমতার আড়াই গুণ বেশি যাত্রী হলেও সেইভাবে বাড়েনি অবকাঠামো। অতিরিক্ত যাত্রীরসেবা দিতে পারছে না কাউন্টারগুলো, এতে যাত্রীদের পোহোতে হচ্ছে ভোগান্তি। আরও রয়েছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের চাহিদা মতো রাতের শিডিউল পলিসির সংকট। ফলে মার্কেট স্টাডির পরও কোনও কোনও আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থার ফ্লাইট আসছে না, অনেকের চলাচল কমেছে বা গুটিয়ে নিয়েছে। 

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এখন চারটি বিদেশি বিমানসংস্থা যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সবগুলোর গন্তব্যই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে। কোভিড-১৯ অতিমারীর আগে অন্তত ৮টি বিদেশি বিমানসংস্থা বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালাতো। সেই সুবাদে চট্টগ্রামের যাত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ছাড়াও সরাসরি কলকাতা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও নেপাল যেতে পারতেন। এখন মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া বাকি গন্তব্যে সরাসরি যাওয়া যাচ্ছে না।

বিদেশি বিমানসংস্থার ফ্লাইট না থাকায় চট্টগ্রামভিত্তিক যাত্রীদের হয় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে যেতে হচ্ছে। অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা ওমানের মাসকট হয়েই ইউরোপ-আমেরিকা-চীনসহ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ছুটতে হচ্ছে। এতে ভ্রমণ নিরবচ্ছিন্ন হচ্ছে না, বাড়তি সময় লাগছে, খরচ বেশি হচ্ছে; উল্টো পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

ধরুন, চিকিৎসার জন্য অনেকে চট্টগ্রামে থেকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চল ব্যাঙ্গালুরু, চেন্নাই ও মুম্বাই যাচ্ছেন। তাদের কেউই চট্টগ্রাম বিমাবন্দর থেকে সরাসরি যেতে পারছেন না। কারণ চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ভারতভিত্তিক কোনও বিমানসংস্থারই ফ্লাইট চলাচল নেই। বাংলাদেশি ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চট্টগ্রাম থেকে কলকাতায় যাচ্ছে বটে, কিন্তু সেটিও ভারতের সেসব গন্তব্যে যাচ্ছে না। ফলে তাদের সবাইকে ঢাকা বিমানবন্দর হয়েই যেতে হচ্ছে। কিংবা সড়কপথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের আগরতলা হয়ে সরাসরি ফ্লাইটে সেইসব গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে কি আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী নেই? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

সংস্থাটির হিসাবে, সর্বশেষ ২০২৩ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রী চলাচল বেড়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ৯ লাখ ৬৮ হাজার যাত্রী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে গেছেন। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৯৩ হাজার জন। বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম এত বেশি সংখ্যক আন্তর্জাতিক যাত্রী উঠানামা করেছে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের গত দুই বছরের তথ্য ঘেঁটে জানা যায়, বেশ কয়েকটি বিদেশি বিমানসংস্থা তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। আবার বেশ কয়েকটি বিমানসংস্থা নতুন করে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে।

কোভিড-১৯ অতিমারীর পর চট্টগ্রাম থেকে একজন যাত্রী সরাসরি ভারতের কলকাতা যেতে পারতেন ভারতভিত্তিক স্পাইসজেট বিমানে। আর জাজিরা এয়ারলাইনসে যেতে পারতেন কুয়েতে।

গত ১ জানুয়ারি থেকে সেই দুটি বিমান সংস্থাই চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করেছে। আগামী মার্চের পর থেকে ওমানের মাসকটে আর যাত্রী পরিবহন করবে না ওমান এয়ার। এছাড়া কোভিড অতিমারীর আগে চালু থাকা থাই এয়ার, থাই স্মাইল, মালিন্দো এয়ার, রোটানা এয়ার, হিমালয়ান এয়ার, আরএকে এয়ার, টাইগার এয়ারওয়েজ চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট বন্ধ করেছে।

আবার আগামী এপ্রিলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি এয়ারলাইনস। আর মার্চ থেকে আসার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছে কাতার এয়ারলাইনস। দুটিই স্টার এয়ারলাইনস। আবার আসার প্রক্রিয়ায় আছে ইউরোপভিত্তিক কম খরচের বিমান সংস্থা উইজ এয়ার। আসার আগ্রহ দেখিয়েছে টার্কিশ এয়ারলাইনসও।

যাত্রী বাড়ার পরও বিদেশি বিমানসংস্থার ফ্লাইট চলাচল কমা বা গুটিয়ে নেওয়ার মূল কারণ কোম্পানিগুলোর নিজেদের শিডিউল পলিসি। আর মার্কেট স্টাডির পরও অনেক বিমানসংস্থাই নতুন করে আসতে পারছেন না চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের অবকাঠামো সীমাবদ্ধতার কারণে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামে ওমান এয়ারলাইনসে কর্মরত এক শীর্ষ কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আগামী মার্চের পর আমাদের কার্যক্রম চট্টগ্রাম থেকে বন্ধ হবে। কিন্তু আপনি দেখবেন এখন পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লাইট যাচ্ছে গড়ে ৯০ শতাংশ যাত্রী ভর্তি হয়ে। ফলে সেটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অংশ। 

“একইভাবে স্পাইসজেট চালু না হওয়ার কারণ নিজেদের ঋণখেলাপিতে জর্জরিত হওয়া। এখানে চট্টগ্রামে যাত্রী না পাওয়া বা অবকাঠামোগত সমস্যা নেই।”

তবে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ এই চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবকাঠামো সমস্যার কারণে অনেক বিদেশি ও স্টার এয়ারলাইনস আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আসতে পারছেন না। তাদের একটি সৌদি এয়ারলাইনস।

অনেকদিন ধরেই এই স্টার এয়ারলাইনস চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে স্টাডি করেছে, বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছে। এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। কিন্তু সংস্থাটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় রাতে, আর বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ সিভিল এভিয়েশন চাইছে সকালে ফ্লাইট শিডিউল দিতে। এই টানাটানির সমাধান এখনও হয়নি। ফলে এপ্রিলে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত থাকলেও এখনও চূড়ান্ত হয়নি টিকেট বিক্রির বিষয়টি।

সৌদি এয়ারলাইনস বাংলাদেশের এজেন্ট (জিএসএ) হিসেবে কাজ করে গ্যালাক্সি বাংলাদেশ। তাদের কর্ণধার আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে আমাদের যাত্রা প্রায় চূড়ান্ত। কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে, সেগুলো সম্পন্ন হলে উড়াল দেব।” কিন্তু কী সেই প্রক্রিয়া এর বিস্তারিত তিনি বলতে রাজি হননি।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর নিয়ে সর্বশেষ মাস্টারপ্ল্যানটি ১৯৯৮ সালে করে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি বা জাইকা। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় বার্ষিক ৬ লাখ যাত্রী সেবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২০০২ সালে ‘চিটাগাং এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এ চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সম্প্রসারণে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৫ বছর মেয়াদি ছিল প্রকল্পটি। ২০০৭ সাল নাগাদ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়। এরপর ২০০৯ সালে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। 

তবে এর আগেই ২০০০ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক বিমান উঠানামা শুরু হয়। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সনদ- আইসিএও পায় বিমানবন্দরটি।

২০০০ সালে যখন বিদেশি বিমান যাত্রা শুরু করে তখন সর্বোচ্চ ৬ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকেই এই বিমাবন্দরে ১৪ লাখ যাত্রী উঠানামা করছে। একই অবকাঠামোয় ২০২৩ সালে উঠানামা করেছে ১৬ লাখের বেশি যাত্রী। অর্থাৎ বিমানবন্দরের সক্ষমতা অনেক আগেই পূর্ণ হয়েছে। বিমানবন্দরের কাজের পরিধি, যাত্রী ও ফ্লাইট সংখ্যা অনেকগুণ বাড়লেও সেই তুলনায় সক্ষমতা বাড়েনি। বিমাবন্দরের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো সমস্যা হচ্ছে তার প্যাসেঞ্জার বিল্ডিংয়ের সক্ষমতা পূর্ণ হওয়া। ৬ লাখের সক্ষমতা দিয়ে ১৬ লাখ হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে। ফলে অনেক ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এখন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যাত্রিবাহী ফ্লাইট চলাচল করে না। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফ্লাইট চলে। কিন্তু আর্ন্তজাতিক রুটের বেশিরভাগ বিমান সংস্থাই রাতের বেলায় ফ্লাইট চালাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা আগ্রহী হচ্ছে না।

এমিরেটস এয়ারলাইনসে কর্মরত এক শীর্ষ কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যদি শুধু রাতের বেলা ১টা পর্যন্ত ফ্লাইট চালু রাখার সুযোগ দেয় তাহলে অনেক বিদেশি বিমানসংস্থা চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহার করবে। কারণ আমাদের ফ্লাইটের শিডিউল সাজানো হয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যের সংযোগ মাথায় রেখেই।

“আমরা স্টাডি করে দেখেছি চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সব গন্তব্যেই যাত্রী আছে। প্রবাসী কর্মীদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর এবং পর্যটকদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য হয়েই অন্য গন্তব্যে যেতে চায়। সেই সুযোগ নিতে অনেক আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি এই বছরেই চট্টগ্রাম থেকে আমরা যাত্রা শুরু করব।”

কী বলছেন সেবাগ্রহীতারা

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর রানওয়ে দিয়ে এখন বাংলাদেশে আসা সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ‘বোয়িং ৭৭৭’ কিংবা ‘বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ এবং ‘এয়ারবাস এ ৩২০’ নামতে পারে। নিরবচ্ছিন্নভাবে নামার জন্য সম্প্রতি রানওয়েকে শক্তিশালী করা হয়েছে। ফলে রানওয়ের দৈর্ঘ্য কিংবা রানওয়ের স্ট্রেংথ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এখন আগের চেয়ে বেশি অর্থ্যাৎ ১০টি বড় বিমান একসঙ্গে পার্কিং করে রাখা যায়।

বিমানবন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, একসঙ্গে একটি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যখন সাড়ে তিনশ যাত্রী নিয়ে নামে তখন বিমানবন্দরে থাকা দুটি লাগেজ বেল্ট একসঙ্গে কাজে লাগিয়েও যাত্রী সামাল দেওয়া যায় না। বেল্ট কক্ষেই যাত্রীদের জটলা লেগে যায়। প্রতিদিনই এই চিত্র দেখা যায়। আর যাত্রী বেশি হওয়ায় একেকটি লাগেজ পেতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে।

মাসুদ এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী মাসুদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “যতবারই দুবাই থেকে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজে আসি ততবারই লাগেজ পেতে কমপক্ষে দেড়ঘন্টা লাগে। আর লাগেজ নষ্ট হওয়া- সে তো নৈমিত্তিক ব্যাপার। এই অব্যবস্থাপনা বন্ধ হবে কবে, করবেই বা কে?”

এয়ার এরাবিয়ার এক কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বিমানবন্দরে এখন সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট চলাচল করে আমাদের। বিমানবন্দরে একসঙ্গে ৩৫০ যাত্রীর চেক ইন কাউন্টার সুবিধা নেই। আর্ন্তজাতিক রুটের বিমানসংস্থাগুলোর কাউন্টারে যেদিন বোয়িং উড়োজাহাজ থাকে সেদিন ভিড়ে হিমশিম খেতে হয়। পাশে থাকা অন্য কাউন্টারগুলো সার্ভিস দিতে পারে না।

“আর বছরে ১৬ লাখ যাত্রীর জন্য এই ইমিগ্রেশন কাউন্টারও যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, বিমানবন্দরটি এখন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু রাত ১১টার পর তো কাস্টমস সার্ভিসই নেই। ইমিগ্রেশন চালু নেই।”

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে একজন যাত্রী সরাসরি উঠানামার জন্য বোর্ডিং ব্রিজ আছে মাত্র একটি। নতুন আরেকটি চালু হয়েছে সম্প্রতি। কিন্তু সবগুলো বোর্ডিং ব্রিজ চালু রাখা হয় না। আবার তিনটি বিমান একসঙ্গে আসলে একটি বিমানের যাত্রীদের রানওয়ে থেকে হেঁটে আসতে হয়। এছাড়া সিভিল এভিয়েশনের গ্রাউন্ড হান্ডলিং কাজ করে বিমান বাংলাদেশ। তাদের বিরুদ্ধে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আছে বিমান সংস্থাগুলোরই।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কী বলছে

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তসলিম আহমেদ বলেন, “আকাশপথে পূর্ব থেকে পঞ্চিমে যোগাযোগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এই কারণেই সরকার এই বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্প নিয়েছে।

“ফলে আপনি দেখবেন বিদেশি সৌদি এয়ারলাইনস, কাতার এয়ারলাইনসের মতো স্টার এয়ারলাইনস চট্টগ্রামে আসার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। অপূর্ণতা থাকলে তো তারা আসতো না।”

তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে টেক্সিওয়ে শক্তিশালীকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে।

“এর ফলে বিমানবন্দরের বোয়িং ৭৭৭ সহ যেকোনো আকারের বড় উড়োজাহাজ এই বিমানবন্দরে নিরবচ্ছিন্নভাবে নামতে পারছে। একই প্রকল্পের আওতায় এখন লাইটিং সিস্টেম এবং ড্রেনেজ উন্নয়নকাজ চলছে, সেগুলো শেষ হতে ডিসেম্বর নাগাদ সময় লাগবে।” 

“বিমানবন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পরীক্ষামূলকভাবে সচল রাখার অংশ হিসেবে বিদ্যমান দুটি বোর্ডিং ব্রিজের পাশাপাশি যাত্রীর চাপ সামাল দিতে তৈরি করা হচ্ছে আরও একটি নতুন বোর্ডিং ব্রিজ, যার ২৫ শতাংশ কাজ শেষ চলতি জুলাইয়ের মধ্যেই সেটি যুক্ত হবে কাজে।”

“বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ রাখার এয়ার এপ্রোনের সীমানা ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে অ্যাপ্রোন এরিয়া তৈরি করার কারণে আমরা এখন ১৩টি বিমান অনায়াসে রাখতো পারব। সেই কাজ শেষ এখন মার্কিং করার কাজ চলছে। শিগগিরই ঠিকাদার কাজ বুঝিয়ে দেবে,” যোগ করেন তিনি।

তসলিম আহমেদ বলেন, “বিদ্যমান লাগেজ বেল্টকে রাবারের ফ্রেমে স্থানান্তর করেছি, যাতে যাত্রীদের লাগেজের কোনও ক্ষতি না হয়। আর নতুন করে একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণের জন্য জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠান কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়ে কাজ শুরু করেছে, তাদের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।” 

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist