Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

ধীর কিংবা দ্রুত লয়, কোনও সঙ্গীত চলবে না চেচনিয়ায়

চেচনিয়ার রাজধানী গ্রজনিতে লোকসঙ্গীতের সঙ্গে নাচছেন দেশটির প্রধান রমজান কাদিরভ। ছবি: রয়টার্স
চেচনিয়ার রাজধানী গ্রজনিতে লোকসঙ্গীতের সঙ্গে নাচছেন দেশটির প্রধান রমজান কাদিরভ। ছবি: রয়টার্স
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সঙ্গীতের ওপর খড়গহস্ত হয়েছে চেচনিয়া সরকার। তারা বলছে, যেসব সঙ্গীতের লয় খুব বেশি দ্রুত বা ধীর, সেসব গাওয়া যাবে না। বাজানো যাবে না। এ ধরনের সঙ্গীতের সঙ্গে নাচাও যাবে না। 

চেচনিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বৈঠক শেষে এসব নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, চেচনিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সব ধরনের গানের লয় মিনিটে ৮০ থেকে ১১৬ বিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

সঙ্গীতের লয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চেচনিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী মুসা দাদায়েভ বলেছেন, “চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভের সঙ্গে আলোচনা করে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছি। এখন থেকে কণ্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীতের পাশাপাশি নৃত্যের  ক্ষেত্রে লয় প্রতি মিনিটে অতি অবশ্যই ৮০ থেকে ১১৬ বিট হতে হবে।”                    

সংস্কৃতিমন্ত্রী দাদায়েভ আরও বলেন, “কাদিরভ চাইছেন, আমাদের সঙ্গীত এবং নৃত্য যেন চেচেন মানসিকতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সৃষ্টি করা হয়।”

চেচনিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশটির মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া কাদিরভের লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী দাদায়েভ।     

সঙ্গীতের লয়ের ওপর চেচনিয়া সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ, পপ, টেকনোসহ অন্য ঘরানার সঙ্গীত চেচনিয়ায় আর শোনা যাবে না।      

কাস্পিয়ান সাগর ও কৃষ্ণ সাগরের মাঝে উত্তর ককেশাস অঞ্চলে চেচনিয়ার অবস্থান। এর প্রায় শতভাগ মানুষ মুসলমান।       

চেচনিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় শুক্রবার নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। ছবি: সিএনএন

২০০৭ সাল থেকে রাশিয়ার প্রজাতন্ত্র চেচনিয়া শাসন করে আসছেন কাদিরভ। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে ‍বিভিন্ন সময়ে তাকে ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর অসহিষ্ণু আচরণ করতে দেখা গেছে। তার আমলে সমকামীদের ওপর নির্যাতন নিয়েও পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়।       

২০১৭ সালের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা চেচনিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, সমকামীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ যেন তদন্ত করে দেখা হয়।

এর দুই বছর পর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের ওপর ফের নির্যাতন ঘিরে বেশ সমালোচনা মুখে পড়ে চেচনিয়া সরকার।

সে সময় অধিকারকর্মীদের অভিযোগ ছিল, এলজিবিটি সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে আটকের নির্দেশ দেয় চেচেন কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে কমপক্ষে দুজন পুলিশ হেফাজতে মারা যান।  

অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় চেচনিয়ার প্রধান কাদিরভ বলেছিলেন, তার প্রজাতন্ত্রে কোনও সমকামী নেই। আর থাকলেও তাদেরকে চেচনিয়া থেকে বের করে দেওয়া হবে।       

রাশিয়া থেকে স্বাধীন হওয়ার লক্ষ্যে প্রায় দুই দশক ধরে লড়াই করছে চেচেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। চেচনিয়ার রুশপন্থি নেতা কাদিরভ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াই দমনে অনেকখানি সফল।  

২০২০ সালের জুলাইয়ে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনে জড়িত’ থাকার অভিযোগে কাদিরভের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।       

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত