Beta
শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪
Beta
শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

পাতাসহ চীনা কমলা নজর কাড়ছে ক্রেতার

ss-orange-10-2-24
Picture of আসিফ সিদ্দিকী

আসিফ সিদ্দিকী

মাল্টা বা অন্য কমলার ভিড়ে ফলের দোকানে এখন জ্বলজ্বল করছে পাতাসহ সাজানো উজ্বল রঙের কিছু কমলা। হাতে নিলে মনে হবে – বুঝি দেশের কোনও গাছ থেকে ছিঁড়ে আনা হয়েছে। তাতে একবার হলেও আটকাচ্ছে পথচারীর চোখ। উৎসুক অনেকেই চলতি পথে একটু থেমে জানতে চাইছেন, এগুলো দেশি কমলা? দাম কতো?

বিক্রেতাদের কাছ থেকে জানা যাচ্ছে, এগুলো চীনা কমলা, কেজিপ্রতি দাম ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা।

তারপরও এত তাজা! খোঁজ নিয়ে জানা গেল, চীন থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে জাহাজে করে কমলাগুলো এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে।

আমদানিকারকদের একজন চট্টগ্রাম বিআরটিসি ফলমন্ডির জিএস ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম উদ্দিন। সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “আমরা এতদিন চীনা কমলা আনতাম প্লাস্টিক নেটের পলিথিন মুড়িয়ে। আবার কিছু কমলা আসতো কার্টনে কোনও প্যাকেট ছাড়াই। এই প্রথম চীনা একটি প্রতিষ্ঠান আমাকে অফার করলো পাতাসহ কমলা সরবরাহ করার।

“ছবি দেখেই ভালো লাগলো। দাম বেশি তারপরও দুই কন্টেইনার আমদানি করলাম। বেশ সাড়া পাওয়ায় আরও অনেকে আনা শুরু করেছেন এই কমলা।”

এখন বাজারে প্রচুর বিক্রি হচ্ছে এই কমলা। তিনি বলেন, “কমলাগুলো এমনভাবে গাছ থেকে পাড়া হয়েছে যেন প্রতিটি কমলায় দুটি সবুজ পাতা থাকে। ফলে সেগুলো ক্রেতা টানছে অনায়াসে।

“চীনের দুটি বন্দর সিকো এবং নিমবো থেকে কমলা দিয়ে কন্টেইনার বোঝাই করা হচ্ছে। সেই দুই বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দুরত্ব প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই কন্টেইনার জাহাজে করে চট্টগ্রাম  বন্দরে পৌঁছতে সময় লাগছে ১২ থেকে ১৪ দিন। আর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নেমে একদিনেই সেটি আড়তে চলে যাচ্ছে বিক্রির জন্য। ফলে কমলায় থাকা পাতা একেবারেই সবুজ থাকছে।”

চীন থেকে এই কমলাগুলো আসছে ১৫ কেজির কার্টনে। কার্টনের ভিতর সবুজ পাতা মোড়ানো অবস্থায় সেগুলো রাখা আছে। কন্টেইনারে তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকায় কমলা গাছ থেকে পাড়ার মতোই অবিকল তাজা রয়ে গেছে।

জানতে চাইলে বিআরটিসি ফলমন্ডির আরেক আড়তদার নাসির উদ্দিন মাহমুদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে এই চীনা কমলা। প্রতি ১৫ কেজির কার্টন আমরা বিক্রি করছি ২২শ টাকায়। আগে সেগুলো বিক্রি হয়েছিল ১৭শ টাকায়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। কেজিতেও দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। তবে সরবরাহ বাড়লে আবারও দাম কমে যাবে।”

নগরীর হালিশহর ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে প্রতি কেজি ২৮০ টাকা দরে কমলা কিনেন সাবেক সরকারী কর্মকর্তা শফিউল আজম। তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “দোকানির কথায় আমি বিশ্বাস করতে পারিনি এটি চীনা কমলা। পরে কার্টন এবং প্যাকেজিং দেখিয়ে সে আমায় বিশ্বাস করালো। কী আশ্চর্য! হাজার মাইল দূর থেকে কতটা অক্ষত অবস্থায় তরতাজা কমলা আমাদের দুয়ারে এলো। এ কমলা দেখতে যেমন লোভনীয়, স্বাদেও তেমনি।”

কাজীর দেউড়ীর খুচরা দোকানি আবদুল মালেক বলেন, “এই কমলা আসার পর বাজারে থাকা অন্য কমলার বিক্রিও কমেছে। দাম বেশি হলেও চীনা কমলা কিনছেন ক্রেতারা। তবে বেশি পরিমাণ কিনছেন না। বেশিরভাগ ক্রেতা নিচ্ছেন আধা কেজি। দুই কেজির বেশি কেউই কিনতে সাহস পাচ্ছেন না।”

কমলাগুলোর প্যাকেজিং এবং রপ্তানি কৌশল অসাধারণ উল্লেখ করে জিএস ট্রেডিংয়ের মালিক নাজিম উদ্দিন বলছেন, “এই সময়ে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কমলা আনতাম। এখন চীন সেই জায়গাটা দখল করেছে। ভবিষ্যতে আমরা চীন থেকেই আনবো। কারণ চীন থেকে আসতে সময় অনেক কম লাগে।”

শুধু প্যাকেজিংয়ের কারণেই চীনের এই বিশেষ কমলা ক্রেতা টানছে বেশি। ফল রপ্তানিকারক ইসমাইল চৌধুরী হানিফ মনে করেন, “পণ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরিবহনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় না থাকায় আমরা অনেক পণ্য রপ্তানি তো দূরে থাক এক জেলা থেকে আরেক জেলাতেই নিতে পারছি না, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চীনের এই কমলা রপ্তানি থেকে আমাদের শেখার আছে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত