Beta
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

বেঞ্চের ফুটবলারদের নিয়েও গর্বিত কোচ

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নারী দলের কোচ সাইফুল বারী। মঙ্গলবার কমলাপুর স্টেডিয়ামে। ছবি: বাফুফে।

এক দিন পরপর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হচ্ছে সব দলকে। টুর্নামেন্টের সূচী এভাবেই করেছে সাফ। বিষয়টা মেনে নিয়েই অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে খেলছে প্রতিটি দল। কিন্তু এভাবে টানা ফুটবল খেলে ক্লান্তি ভর করেছে মেয়েদের।

এই ক্লান্তি থেকে কিছুটা হলেও দলের সেরা ফুটবলারদের মুক্তি দিতে চেয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ সাইফুল বারী টিটু। যে কারণে দুর্বল ভুটানের বিপক্ষে মঙ্গলবার আগের দুই ম্যাচের একাদশের ৯ জনকে বিশ্রাম দেন। কিন্তু বেঞ্চের ফুটবলাররাও কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন।

বেঞ্চের ফুটবলাররাও যে ভালো ফুটবল খেলতে পারে সেটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন মাঠে। ভুটানকে ১ হালি গোল দেওয়া তো সেই সামর্থ্যেরই প্রমাণ। তাইতো ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে কোচ সাইফুল বারী মেয়েদের প্রশংসা করলেন, “এই দলের বেঞ্চের শক্তি আমি আগে থেকেই জানি। তারপরও এটা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। ওরা দুর্দান্ত খেলেছে। আমি বলব যে মানসিকতা ওরা দেখিয়েছে তা এক কথায় অসাধারণ।”

সাইফুল বারী যোগ করেন, “ ওদের নিয়ে আমি খুব গর্বিত।” ম্যাচের আগে কখনও যেন মনোবল না হারায় মেয়েরা সেটাই বলেছিলেন তিনি, “আজ ওদের বলেছি প্রান্তিরা (আফঈদা খন্দকার) যখন তোমাদের সঙ্গে ইলেভেন ভার্সেস ইলেভেন খেলে তখন তোমরা যা করে দেখিয়েছো সেটাই করো। আমি জানি তোমরা এটা পারবে।”

নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখতে বলেছিলেন কোচ, “ তোমাদের নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখো। তোমরা পারবে। ভুটান গোল কম খেতে চাইবে। তোমাদের তাড়াহুড়ার কিছু নেই। আমাদের গোলের জন্য অত সমস্যা নেই। তাগাদা নেই।  শুধু এক দিক থেকে আরেক দিকে খেলা নাও। এমনি এমনি সুযোগ আসবে।”

বল নিয়ে ছুটছেন ঐশী। তাকে সামলাতে ব্যস্ত ভুটানের ডিফেন্ডার কেলজাং শেরিং ওয়াংমো। ছবি: বাফুফে।

ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ঐশী। খেলেছেন ফলস নাইন পজিশনে মুনকির বদলে। ভুটানের বিপক্ষে ঐশী দুটো গোল করেছেন। করিয়েছেন দুটো। ম্যাচ শেষে কোচের মুখে ছিল ঐশীর প্রশংসা, “যে গোলগুলো হয়েছে এগুলো নিয়ে গর্ব করা যায়। কর্ণার থেকে হেড করে গোল দিয়েছে ঐশী। আমার কেন জানি মনে হলো এরা সুযোগ পেলে ভালো ফুটবলার হবে।”

একাদশের ফুটবলারদের বিশ্রাম দিতেই যে বেঞ্চের ফুটবলারদের খেলিয়েছেন সেটাও জানালেন কোচ, “যে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো নিয়মিত দুটো ম্যাচ যারা খেলেছে ওদের শারীরিক অবস্থাটা ঠিক রাখা। ওটারই চেষ্টা করা আর কি। ওরাও বিশ্রাম পেল। আর সাধারণত ম্যাচের ১ দিন আগে যে ট্রেনিং করি সেটা আজ করালাম। কারণ ১ দিন পরপর ম্যাচে কোনো সুযোগ থাকে না অনুশীলনের। দ্রুত রিকভারি করতে হয়। তো ওরা সেই সুযোগটা পেল।”

২০২১ সালে প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ওই টুর্নামেন্টের ফাইনালেও ভারতকে পেয়েছিলেন আফঈদা খন্দকাররা। সেবার ফাইনালে ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ।

এবারও ভারতকে সমীহ করছেন সাইফুল বারী, “ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ। প্রথম ম্যাচটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। ওদের সমীহ করতেই হবে। আসলে ফাইনাল হচ্ছে এমন যে ফাইনালে শরীর চলবে না কিন্তু মন চাইবে ভালো করার। ভারত ক্লান্ত থাকলেও ওভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে আসবে। আমাদেরও ওভাবে যেতে হবে। তবে ফাইনালটা যে কেউ জিততে পারে। আসলে সেরা দলকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হতে হয়।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist