Beta
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

‘আসামি এলাকায়, বাদী এলাকা ছাড়া’

কক্সবাজার প্রেসক্লাবে নিহত মোক্তার আহমদের ছেলে মামলার বাদী নুরুল মোস্তফা ও মেয়ে রুমানা বেগম। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
কক্সবাজার প্রেসক্লাবে নিহত মোক্তার আহমদের ছেলে মামলার বাদী নুরুল মোস্তফা ও মেয়ে রুমানা বেগম। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

কক্সবাজারের টেকনাফে সবজি বিক্রেতা মোক্তার আহমদ হত্যা মামলার আসামি আজিজুর রহমান বাদশা বাদীকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত মোক্তার আহমদের ছেলে মামলার বাদী নুরুল মোস্তফা বৃহস্পতিবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এসে এ অভিযোগ করেন। নুরুল মোস্তফার বোন রুমানা বেগমও আসেন প্রেসক্লাবে।

বিচারে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তারা বলেন, আজিজুর রহমান বাদশা প্রকাশে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। অথচ তার হুমকি-হয়রানির কারণে এলাকায়ও থাকা যাচ্ছে না।

তাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাদশার মোবাইল ফোনে কল করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, মামলাটি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে নানা চেষ্টাও চলছে।

নিহত সবজি বিক্রেতা মোক্তার আহমদ (৫০) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং এলাকার প্রয়াত কাদির হোছনের ছেলে।

অভিযোগ আছে, বাকিতে সবজি না দেওয়ায় গত ১৬ মার্চ মোক্তার আহমদকে প্রকাশ্যে মারধর করেন একই এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে আজিজুর রহমান বাদশা। পরদিন ১৭ মার্চ ভোরেই মারা যান তিনি। সেদিনই তার ছেলে নুরুল মোস্তফা বাদী হয়ে বাদশাকে একমাত্র আসামি করে টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা করেন।

নিহত মোক্তার আহমদ। ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আসেন নিহত মোক্তার আহমদের ছেলে মামলার বাদি নুরুল মোস্তফা ও মেয়ে রুমানা বেগম।

নুরুল মোস্তফা বলেন, “আমার পিতা উনচিপ্রাং এলাকায় সবজি বিক্রি আসছেন দীর্ঘদিন। কিছুদিন আগে বাদশা আমার বাবার সবজির দোকান থেকে সবজি কিনে নিয়ে যায়। এ বাবদ ১৫০ টাকা পেতেন বাবা। গত ১৬ মার্চ আবারও বাকিতে সবজি কিনতে আসেন বাদশা।

“এসময় আগের টাকা চাওয়ায় আমার বাবাকে মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারান আমার বাবা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন। ১৭ মার্চ ভোরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে বাবা মারা যান।”

নুরুল মোস্তফার অভিযোগ, তার পিতার মৃত্যুর পরপরই ময়নাতদন্ত না করার, পুলিশকে না জানানোর জন্য বাদশা তাদের পরিবারের সদস্যদের নানা ধরনের চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রলোভন দেওয়া শুরু করেন।

নুরুল মোস্তফা বলেন, “বাদশা আমাদের ৭ লাখ টাকা দিয়ে চুপ রাখার চেষ্টা করেন দফায় দফায়। পিতার হত্যাকারীর সাথে আপস না করে পুলিশকে অবহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। ময়নাতদন্ত হয়েছে, মামলাও করেছি। এখন প্রতিদিন নানাভাবে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি আমার পিতা এবং আমাদের নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

নিহতের মেয়ে রুমানা বলেন, “মামলায় একমাত্র আসামি হওয়ার পরও প্রকাশ্যে ঘুরছে বাদশা, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে, টাকা দিয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তাদের পক্ষে নেবে। পুলিশকে টাকা দিয়ে চুপ রাখবে। আমাদের নানা মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠাবে। ফলে এলাকায় থাকাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য প্রেসক্লাবে এসেছি।”

তাদের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা হিসেবে পুলিশ বিশেষ বিবেচনায় নিয়েছে।

“একজনকে আসামি করে এই হত্যা মামলাটি। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। যারাই হুমকি দেবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist