Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

৪৭ বছর ধরে বাড়ির পুকুরে পালা হচ্ছিল কুমির

বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল কুমিরটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল কুমিরটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
Picture of আঞ্চলিক প্রতিবেদক, নোয়াখালী

আঞ্চলিক প্রতিবেদক, নোয়াখালী

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি নোনা পানির কুমির। গত ৪৭ বছর ধরে কুমিরটি ওই পুকুরে রেখে পালা হচ্ছিল।

শনিবার উপজেলার চরহাজারী গ্রামের মো. খুরশিদ আলমের বাড়ির পুকুর থেকে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল কুমিরটি উদ্ধার করে।

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, চরহাজারী গ্রামের মো. খুরশিদ আলম নিজ বাড়ির পুকুরে কুমিরটি পালতেন। তিনি ১৯৭৭ সালে বাগেরহাটের খান জাহান আলী মাজার থেকে দুটি কুমির এনেছিলেন। এরমধ্যে পুরুষ কুমিরটি ২০ বছর আগে মারা যায়। এরপর থেকে নারী কুমিরটি সঙ্গীহীন অবস্থায় ছিল।

৪৭ বছর ধরে বাড়ির পুকুরে পালা হচ্ছিল কুমিরটি। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

তিনি জানান, উদ্ধার করা কুমিরটির বয়স আনুমানিক ৫০ বছরের বেশি। ওজন প্রায় ১০০ কেজি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে কুমিরটিকে চট্টগ্রামের ডুলাহাজরার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে।

চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ জেড. এম. মহিউদ্দিন সোহাগ জানান, গত ৪৭ বছর ধরে উপজেলার চরহাজারী গ্রামের একটি বাড়ির পুকুরে কুমির আছে বলে লোকজন জেনে আসছে। যার কারণে এলাকায় বাড়িটি ‘কুমিরওয়ালা বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে, অনেকে উদ্দেশ্য পূরণে মানত করে কুমিরকে খাবার দিতেন।

কুমিরটি ‘সল্ট ওয়াটার কোকেডাইল’ প্রজাতির বলে জানান বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, সুন্দরবন ও দেশের উপকূলীয় এলাকা এ জাতীয় কুমিরের আবাসস্থল। তবে মিঠা পানিতেও থাকতে পারে এই কুমির।

রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সুবাদে কুমিরটির খবর বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের নজরে আসে। বাড়িতে কুমির রাখা যে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের পরিপন্থী, তা জানা ছিল না খুরশিদ আলমের পরিবারের কারও।

তিনি জানান, খুরশিদ আলম মারা গেছেন ২০ বছর আগে। তার তিন ছেলের কেউই বাড়িতে থাকেন না। আইন জানার পর তার পরিবারের লোকজন স্বেচ্ছায় কুমিরটি হস্তান্তরে রাজি হন। এরপর শনিবার উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী ও অপরাধ দমন ইউনিটের একটি দল কুমিরটি উদ্ধার করে।

শনিবার সন্ধ্যায় জেলা সদরে উপকূলীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কুমিরটি রাখা হয়। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রামের ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের উদ্দেশ্যে এটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় নোয়াখালীর উপকূলীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, বন্যপ্রাণী পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত