Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

কেজরিওয়ালকে তিহার জেলে পাঠানোর নির্দেশ

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সোমবার তিহার জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সোমবার তিহার জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

আবগারি নীতিসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তিহার জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে থাকতে হবে তাকে।  

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সোমবার কেজরিওয়ালকে বিচারক কাবেরী বাওয়েজার আদালতে তোলে।

ইডির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস ভি রাজু। তিনি আম আদমি পার্টি প্রধান কেজরিওয়ালকে ১৫ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নিতে আদালতের কাছে আবেদন করেন। সেখানে তিনি বলেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল জিজ্ঞাসাবাদের সময় সহযোগিতা করেননি। এছাড়া তিনি নিজের আইফোনের পাসওয়ার্ডও ইডিকে জানাননি।

শুনানি শেষে বিচারক বাওয়েজা আইনজীবী এস ভি রাজুর আবেদন মঞ্জুর করে কেজরিওয়ালকে দিল্লির তিহার জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, তিহারের ২ নম্বর জেলে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে রাখা হবে। কেজরিওয়াল ছাড়াও জেলটিতে আম আদমি পার্টির আরও তিন নেতা আছেন। তারা হলেন কেজরিওয়ালের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন ও রাজ্যসভার এমপি সঞ্জয় সিং।

সোমবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল, আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, গোপাল রাই ও অতিশী মারলেনা।

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারকে নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মধ্যকার টানাপোড়েন আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আম আদমি পার্টির কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স

ভারতে ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১ জুন পর্যন্ত ৪৪ দিনের মধ্যে ৭ দফায় (৭ দিন) লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে ৪ জুন।

আম আদমি পার্টির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে দলকে বিপাকে ফেলতে কেজরিওয়ালকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। 

সোমবার আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের কেজরিওয়াল বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যা করছেন, তা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।”

২১ মার্চ গ্রেপ্তারের পর ইডির হেফাজতে ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল।

আবগারি নীতিসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় আম আদমি পার্টির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা ও দিল্লির সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন।

দলটির আরেক নেতা সঞ্জয় সিংও একই মামলায় গত বছরের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন। এছাড়া তেলেঙ্গানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের মেয়ে কে কবিতাকেও সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল ইডির অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। এই মামলায় তাকে ৯ বার সমন পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু আট বারই হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি।

শেষবার পাঠানো সমনে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে ২১ মার্চ ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়। কিন্তু তা না করে কেজরিওয়াল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যান কেজরিওয়াল।

হাইকোর্ট কেজরিওয়ালের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পরই ইডি তৎপরতা শুরু হয়ে যায়।

ইডি কর্মকর্তারা ২১ মার্চ সন্ধ্যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে হাজির হন কেজরিওয়ালের বাসভবনে, তল্লাাশি চালান তার বাড়িতে। জব্দ করেন চারটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭০ হাজার রুপি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist