Beta
শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

ন্যাটোর পাওনা না দিলে রাশিয়ার হামলার পক্ষে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের কনওয়ে শহরে শনিবার এক সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

রাজনীতির মাঠে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বক্তব্য নিয়ে যেমন হাসি-ঠাট্টা হয়, তেমনি অনেকে বিস্মিতও হন।

সম্প্রতি জনসম্মুখে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ন্যাটোর পাওনা প্রসঙ্গে এমন এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা খবরের শিরোনাম হতে বেশি সময় নেয়নি। ট্রাম্প বলেছেন, ন্যাটোভুক্ত যে দেশ বিল পরিশোধ করবে না, তাকে আক্রমণ করতে রাশিয়াকে উৎসাহ দেবেন তিনি।      

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে আয়ওয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নেভাডা ও ভার্জিন আইল্যান্ডে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছেন তিনি।

সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান নেতারা ২৪ ফেব্রুয়ারি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এই অঙ্গরাজ্যেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রচার শুরু করেছেন ৭৭ বছর বয়সী ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে শনিবার সাউথ ক্যারোলিনার কনওয়ে শহরে এক সমাবেশে যোগ দেন তিনি।

সেখানে ট্রাম্প বলেন, একবার এক ন্যাটো নেতাকে তিনি বলেছিলেন, বিল পরিশোধ করা না হলে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে তিনি কাউকে বাঁচাবেন না। বরং রাশিয়াকে ওই দেশের বিরুদ্ধে যেকোনও পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ জোগাবেন।                  

প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ন্যাটোভুক্ত দেশের নেতাদের এক বৈঠকে ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, “আমার কাছে একবার ‘বড় একটি দেশের’ প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছিলেন, যদি ন্যাটোর পাওনা মেটানো না হয়, তাহলে রাশিয়ার হামলা থেকে আমি তাকে রক্ষা করব কি না। জবাবে বলেছিলাম, না, আমি তোমাকে রক্ষা করব না। বরং আমি রাশিয়াকে বলব, তোমার বিরুদ্ধে তারা যেন যা খুশি তাই করে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাহায্যের জন্য তোমাকে অবশ্যই আর্থিক দায় শোধ করতে হবে।” 

বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটোভুক্ত কোনও দেশের ওপর হামলা চালানো হলে সেক্ষেত্রে সামরিক জোটটির সদস্যরাষ্ট্রগুলো আক্রান্ত দেশটির সাহায্যে এগিয়ে আসবে, এটাই নিয়ম। ট্রাম্প তার বক্তব্যে সাহায্যপ্রার্থী দেশের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো হামলাকারী দেশকে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেওয়ার কথা বলেছেন, যা স্বভাবতই হতবাক করেছে হোয়াইট হাউসকে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু বেইটস যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের মন্তব্য সম্পর্কে বলেছেন, “আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের আক্রমণ করতে খুনি সরকারকে উৎসাহ দেওয়া ভয়ঙ্কর। সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ এমন মন্তব্য করতে পারেন না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।”                       

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোয় ৩১টি দেশ আছে। দীর্ঘদিন ধরে এই জোটের সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ৩০টি দেশের নিরাপত্তা রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘাড়ে অত্যধিক আর্থিক বোঝা চাপিয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন ন্যাটোভুক্ত দেশ না হলেও তার পেছনে তখন থেকে টাকা ঢালছে মার্কিন প্রশাসন। তাদের এই পদক্ষেপে নাখোশ ট্রাম্প।

গত বছরের শেষে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার পর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনকে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।     

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সামরিক খাতে ব্যয় কমিয়েছিল। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ ঘোষণা দেওয়ার পর ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ব্যয় কমানো স্থগিতের বিষয়ে সম্মত হয়।

ন্যাটোর দেশগুলো সে বছর সিদ্ধান্ত নেয়, তারা তাদের জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করবে।

২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প পশ্চিমা মিত্রদের সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি নেতৃত্ব পেলে ন্যাটো চুক্তির অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে পারেন। যেসব দেশ তাদের জিডিপির ২ শতাংশের টার্গেট পূরণ করবে, কেবল তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসবেন তিনি।    

২০২২ সালে ন্যাটো জানায়, ৩১টির মধ্যে ৭টি সদস্যরাষ্ট্র তাদের জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে আসছে। ২০১৪ সালে ন্যাটোর ব্যয় মেটানো সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ছিল ৩।

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসন ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশকে বাধ্য করে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াতে।                    

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist