Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নাদির জুনাইদ বাধ্যতামূলক ছুটিতে

অধ্যাপক নাদির জুনাইদের শাস্তি চেয়ে কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

নম্বর কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মুখে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে তিন মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সোমবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তরের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

বিকালে চিঠিটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে পড়ে শুনিয়েছেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ। এর আগে দুপুরে শ্রেণিকক্ষে তালা দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই তিন মাস সব ধরনের একাডমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত থাকবেন নাদির জুনাইদ। সিন্ডিকেটের পরের সভায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত শাস্তির দাবিতে গতকাল রোববার সকালে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাকে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এর আগের দিন ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. মো. মাকসুদুর রহমান বরাবর এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন এক শিক্ষার্থী। পরদিন উপাচার্য বরাবরও অভিযোগ দেন তিনি।

প্রক্টর ড. মাকসুদুর রহমান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “গতকাল ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগপত্র পাওয়ার পর আমাদের উপচার্য মহোদয় সেটি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে, আপাতত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ওই অধ্যাপক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কোনও কিছুতে অংশ নিবেন না, যতদিন না তদন্তের কাজ শেষ হয়।”

যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের একাডেমিক কাজে অংশ নেবেন না বলে সোমবারই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন অধ্যাপক নাদির জুনাইদও। এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে কল ও বার্তা দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমরা প্রাথমিক একটি কমিটি করেছি, যেটাকে বলে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস টিম। আমরা দেখব অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথার্থ প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা। সেটা পাওয়া গেলে আমাদের ট্রাইব্যুনাল কমিটি গঠন হবে। সেখান থেকে অভিযোগ ওঠো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

“অভিযোগ প্রমাণ হলে, বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ যে শাস্তি দিতে পারে সেটি হলো চাকরিচ্যুত করা। আপাতত শিক্ষার্থীদের ভয় ছিল, তাদের অস্বস্তি কাটানোর জন্যই তদন্ত শেষ না হওয়া অব্দি সেই অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে একটা সময়ের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে স্টেপ নিতে পারার এখতিয়ার রাখে আমরা সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিতে পেরেছি।”

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত আক্রোশ ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে একই বিভাগের মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে।

তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে যৌন ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমানের কাছে চার পাতার লিখিত অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগের সঙ্গে কিছু অডিও রেকর্ড ও মেসেজের স্ক্রিনশটও জমা দেন তিনি।

এক সঙ্গে দুই অভিযোগের বিষয়ে এই শিক্ষক দাবি করছেন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদে তার বসা আটকাতেই তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist