Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

জরুরি অবস্থার মধ্যে ইকুয়েডরে টিভি চ্যানেলে হামলা

ইকুয়েডরে টেলিভিশন চ্যানেল টিসিতে বন্ধুকধারীদের হামলার শিকার সংবাদকর্মীরা। ছবি: এপি

ইকুয়েডরের রাষ্ট্রীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলে গতকাল মঙ্গলবার মুখোশ পরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ঢুকে পড়েন। সে সময় তারা চ্যানেলটির সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেন।

বন্দুকধারীরা চ্যানেলটির সংবাদকক্ষে ঢুকে সংবাদকর্মীদের জিম্মি করেন। তাদের মাটিতে বসে পড়তে বাধ্য করেন। এ সময় সংবাদকক্ষ থেকে গুলি ও চিৎকারের শব্দ ভেসে আসে।

টিসি নামের ওই টেলিভিশন চ্যানেল ইকুয়েডরের উপকূলীয় শহর গুয়াকিলে অবস্থিত।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় সংবাদকক্ষ থেকে এক নারীকে বন্দুকধারীদের মিনতি করে বলতে শোনা যায়, “দয়া করে গুলি করো না।”       

বন্দুকধারীদের কয়েকজন ক্যামেরার সামনে চিৎকার করে বলেন, “কোনও পুলিশ নয়।”   

গুয়াকিলের পুলিশ জানিয়েছে, তাদের একটি দল টেলিভিশন চ্যানেলটির ভবন ঘিরে ফেলে। ভেতরে ঢুকে তারা সব সংবাদকর্মীকে মুক্ত করে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

হামলার পর টেলিভিশন চ্যানেলটির ভবন ঘিরে ফেলে পুলিশ। ছবি: এএফপি

গুয়াকিলের এক কারাগার থেকে অ্যাদোলফো মাসিয়াস ভিলামার ওরফে ফিতো নামের কুখ্যাত মাদক কারবারি গত সোমবার পালিয়ে যাওয়ার পর জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেয় ইকুয়েডর সরকার। এই অবস্থা চলবে দুই মাস। জরুরি অবস্থার মধ্যে গত দুই দিনে কমপক্ষে ১০ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

বিবিসি বলছে, টেলিভিশন চ্যানেল টিসিতে মঙ্গলবার যা ঘটেছে, তার সঙ্গে ওই সন্ত্রাসীর লাপাত্তা হওয়ার কোনও যোগাযোগ আছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। 

ঘটনার পর পেরু সরকার সীমান্তে দ্রুত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেয়। প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডরের অস্থিতিশীলতা যাতে সীমানা পেরোতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা।

ইকুয়েডরের টেলিভিশন চ্যানেলে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া ও তার সরকারের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয়’ করছে তারা। সেখানে সহযোগিতা পাঠাতেও প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। 

বিশ্বের অন্যতম কলা রপ্তানিকারক দেশ ইকুয়েডর। কলা ছাড়াও তেল, কফি, কোকোয়া, চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি করে দেশটি।

ইকুয়েডর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে যে পথে কোকেন পাচার হয়, সেই পথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মাদক কারবারিদের মধ্যে প্রায়শই মারমারি বাধে। এরা যে কেবল ইকুয়েডর নাগরিক, তা নয়। এই কারবারে বিদেশিরাও আছে।

ইকুয়েডরের কারাগারের ভেতরে-বাইরে ক্রমবর্ধমান সহিংস ঘটনার সঙ্গে মাদক কারবারিদের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সম্পর্কিত বলে জানায় বিবিসি।           

হামলার ঘটনায় ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া বলেছেন, “দেশ অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘর্ষের মধ্যে পড়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে মোকাবিলার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।”          

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist