Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

ঈদের চাপ নেই ট্রেন বাস লঞ্চে

gabtoli
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

শুরু হয়ে গেছে ঈদে বাড়ি ফেরার পালা। ধীরে ধীরে কাজকর্ম গুছিয়ে ঢাকাবাসী ধরতে শুরু করেছে বাড়ির পথ। তবে সরকারি ছুটি শুরু হতে এখনও কয়েকদিন বাকি। তাই সড়ক, রেল ও নৌপথে এখনও যাত্রীর চাপ নেই বলা চলে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ছিল অনেকটা ফাঁকা। বাস কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতারা বলছেন, সড়ক পথে এখনও যাত্রীর চাপ বাড়েনি, যানজটও নেই। যাত্রীরা তাই খুব সহজেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। আগামীকাল শুক্রবার থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে ৮ এপ্রিল।

অন্যদিকে কমলাপুর রেল স্টেশন ও সদরঘাটেও গিয়েও দেখা যায় একই দৃশ্য। যাত্রী চাপ নেই। ট্রেনগুলো চলছে শিডিউল অনুযায়ী। ফলে খুব সহজে ডাকা ছাড়তে পারছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

গাবতলী বাস টার্মিনালে হানিফ পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা কাউসার আহমেদ বলেন, “গাবতলীতে উত্তরাঞ্চলের যাত্রী সবচেয়ে বেশি। তাই টিকেটের চাহিদাও বেশি। এছাড়া আমাদের কাউন্টার থেকে বরিশাল, ঝালকাঠি, মাগুরা, যশোর, সাতক্ষীরা বেনাপোলের বাস ছাড়ছে। সব এলাকার সব বাসেরই টিকেট আছে। কাউন্টারে আসা যাত্রীরা টিকেট পাচ্ছেন। আজ পর্যন্ত যাত্রীর তেমন চাপ নেই। তবে ২/১ দিনের মধ্যে বাড়বে আশা করি।”

গাবতলীর ভিআইপি পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা মো. আল আমিন জানান, এখন মূলত ঢাকা ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা। ২/১ দিন পর থেকে কর্মজীবীরা ঢাকা ছাড়তে শুরু করবেন। তখন একটু চাপ বাড়তে পারে।

কল্যাণপুরের শ্যামলী পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা মো. এরশাদ জানান, শুধু আগামী ৮ এপ্রিলের সব অগ্রীম টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। তাছাড়া সব দিনেরই টিকেট পাওয়া যাচ্ছে।

একই কথা বলছিলেন শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক সেকেন্দার আলী। পথের হালহকিকত তার ভালোই জানা। তিনি বলেন, “বর্তমানে কাউন্টারে যেমন যাত্রীর চাপ নেই, মহাসড়কগুলোতেও গাড়ির চাপ পড়েনি। যানজট ছাড়াই যাত্রীরা চলাচল করতে পারছে।”

জয়পুরহাট যাওয়ার উদ্দেশে দুপুরে কল্যাণপুরে এসেছিলেন লালমাটিয়া গার্লস কলেজের শিক্ষার্থী ইসমু আক্তার। তার কলেজ ছুটি হয়েছে আগেই। কিন্তু ঈদের কেনাকাটাসহ কিছু ব্যক্তিগত কাজ থাকায় বাড়ি যাওয়া হয়নি। অগ্রীম টিকেটও কাটা ছিল না। ইসমু বলেন, “বাস কাউন্টারে আসার আগে খুব চিন্তায় ছিলাম, টিকেট পাব কিনা। আসার পর খুব সহজেই পেয়ে গেছি।”

রংপুরগামী মশিউর রহমানও বলছিলেন একই কথা। কাউন্টারে এসে টিকেট পেতে কোনও সমস্যা হয়নি। বাসও এসে গেছে সময়মতো। এখন পথে যানজট না হলেই হয়।

মহাখালী বাস টার্মিনালেও একই চিত্র ছিল বৃহস্পতিবার। কাউন্টারের সামনে ভিড় নেই, বিশ্রামাগারে বসে আছেন হাতেগোনা কয়েকজন। এনা পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা কান্ত জানান, আজ যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। এখনও ঈদের আগের যেকোনও দিনেরই অগ্রীম টিকেট মিলছে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকেও খুব সহজেই যাত্রীরা নিজের গন্তব্যে যেতে পারছেন। সায়েদাবাদ থেকে মোংলা রুটে চলাচলকারী ইমাদ পরিবহনের কাউন্টারম্যান আবেদ আলী বলেন, “আমাদের এখানে এখনও পর্যাপ্ত টিকেট আছে, কিন্তু যাত্রীর চাপ নেই বললেই চলে।”

যানজট না থাকায় যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে বলে জানান ইমাদ পরিবহনের চালক হাফিজুল ইসলাম।

তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বিআরটিএ, পুলিশ বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং পরিবহন মালিক শ্রমিক ইউনিয়নের ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। বাস টার্মিনালগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া র‌্যাব ও ট্রাফিক পুলিশের আলাদা কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। টার্মিনালে সার্বক্ষণিক মাইকিং করে যাত্রীদের সাবধান করে দেওয়া হচ্ছে।

গাবতলী পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা খালিদ বলেন, “এবারের ঈদ যাত্রায় এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গাবতলী বাস টার্মিনালে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি  সাদা পোশাকেও পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরা নিরাপদ করতে আমরা ২৪ ঘণ্টাই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।”

মহাখালী বাস টার্মিনালের র‌্যাব-২ এর কন্ট্রোল রুমের সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সুমন বলেন, “টার্মিনাল এলাকায় কোনও যাত্রী যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে তৎপর আছি আমরা। টার্মিনাল এলাকায় ছিনতাই ও টিকেটের মূল্য বেশি রাখা প্রতিরোধেও কাজ করছি আমরা।”

বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আবদুল করিম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “টার্মিনালগুলোতে এখনও যাত্রীর চাপ নেই। তবে দু’একদিনের মধ্যেই চাপ বাড়বে। সবাই যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

চাপ নেই ট্রেনেও

ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট কাটার ‘যুদ্ধ’শেষে যাত্রা শুরু হচ্ছে ভোগান্তিহীনভাবেই। অন্যান্য বারেরমতো এবার এখনও স্টেশনে নেই উপচে পড়া ভিড়। সিডিউল বিপর্যয় না থাকায় কমলাপুর থেকে নির্ধারিত সময়েই ছাড়ছে সব ট্রেন।

স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, শনিবারের পর থেকে ভিড় অনেক বাড়বে। সেই চাপ মোকাবিলায় স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস রাখা হয়েছে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার ৪২ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন এবং লোকাল-কমিউটার মিলে ২৫টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছাড়ে।

অচেনা সদরঘাট

ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই ভিড় লেগে থাকত রাজধানীর সদরঘাটে। পুরাতন ঢাকার জনসন রোড ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকেই ভিড় থাকত চোখে পড়ার মতো। তবে সব যেন এখন স্মৃতি। পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে দেশের দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সঙ্গে সড়ক পথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ঢাকার নৌবন্দর সদরঘাটসহ লঞ্চ মালিকদের ব্যবসায়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রায়সাহেব বাজার এলাকা থেকেই দেখা যায়, সদরঘাটমুখী যাত্রী চাপ নেই বললেই চলে। সদরঘাট পল্টুনে নেই তেমন ভিড়। সবই কেমন যেন ফাঁকাফাঁকা। অনেক লঞ্চে প্রবেশ করতেই ‘কেবিন লাগবে কেবিন’ বলে হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে লঞ্চ শ্রমিকদের।

যাত্রীর চাপ না থাকায় এ বছর ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লঞ্চ চলাচলের অনুমতি নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি মালিক পক্ষের।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার  লঞ্চ মালিকগুলোর বিশেষ যাত্রার অনুমতি নেওয়ার শেষ দিন ছিল। তবে আজ শেষদিন পর্যন্ত মাত্র দুটি লঞ্চ মালিকের পক্ষ থেকে এমন আবেদন পেয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।”

আজই তো সময় শেষ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “ঈদের ছুটির তো দু-একদিন সময় আছে এর মধ্যেই হয়তো তারা আবেদন করবে।”

লঞ্চমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার সহ সভাপতি আবুল কালাম খান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গতনুগতিক যে কথা বলে সেগুলোই বলছে। এক বছরের সময়ের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭ থেকে ১৮টি  লঞ্চ স্কার্প (কেটে ফেলা)  হইছে। আগামী কোরবানি ঈদের পর আরো ২০টি লঞ্চ কেটে ফেলা হবে।”

বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু ব্যবসা করতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কত লোকসান করব- এই প্রশ্ন তুলে আবুল কালাম বলেন, “যাত্রীর চাপ নাই। আগে সবাই লঞ্চের টিকেট না পাইলে বিকল্প চিন্তা করতো। এখন গাড়ির টিকেট না পাইলে লঞ্চের টিকেটের কথা চিন্তা করে।”

লঞ্চে ভাড়া আগের চেয়ে কম দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা যদি তেলের দাম হিসাবে ভাড়া নেই, তাইলে বরিশালে সুলভ শ্রেণীতে ভাড়া হবে ৪০০ টাকা। ওহনে তিনশ টাকা নেই। সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার টাকা। ডাবল কেবিন দুই হাজার টাকা। যাত্রীদেরকে সদরঘাটমুখী রাখতে চেষ্টা করতেছি। যেন তারা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে।”

পরিবার-পরিজন নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে লঞ্চ যাতায়াতই আনন্দদায়ক বলে মনে করছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মনিরুল ইসলাম। বরিশালের বানরীপাড়া যেতে পরিবার নিয়ে লঞ্চে উঠেছেন তিনি। সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ঈদে বাড়ি যাচ্ছি ভালো লাগছে। নিজের গাও- গ্রামের মাটি। মাটির টানে তো যেতেই হয় বাড়িতে।”

বরিশাল অঞ্চলের দূরপাল্লার বাসগুলো ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করে তাই স্বাচ্ছ্যন্দের জন্য বেশি সময় লাগলেও লঞ্চই আরামদায়কই মনে করছেন এম এ ফারুক। প্রায়ই আড়াই মাস পর শহর ছেড়ে নিজ বাড়িতে ফিরছেন। সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “ফ্যামিলির সবাই লঞ্চে যাইতে পছন্দ করে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত