Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

ঈদের ছুটি দুই দিন বাড়লে কী সুবিধা

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন।

রোজার ঈদের ছুটি দুই দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। যাতায়াতে দুর্ভোগ, যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এমন দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি তোলেন। ছুটি দুদিন বাড়ালে কী কী সুবিধা হবে, তাও তুলে ধরেন তিনি।

এবারের ঈদে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করবে বলে ধারণা যাত্রী কল্যাণ সমিতির। তাদের হিসাব, ঈদের আগের চার দিনে বাস-মিনিবাসে ৩০ লাখ, ট্রেনে ৪ লাখ, প্রাইভেটকার, জিপ ও মাইক্রোবাসে ৩৫ লাখ, মোটরসাইকেলে ১২ লাখ, লঞ্চে ৬০ লাখ, উড়োজাহাজে প্রায় ১ লাখ যাত্রী যাতায়াত করবে।

এছাড়া গণপরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে বাস-ট্রেনের ছাদে এবং খোলা ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহনে ১৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে বলে ধারণা করছে সংগঠনটি। এছাড়া ঢাকার বাইরে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি যাত্রী যাতায়াত করবে বলে তাদের ধারণা।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ঈদ বাজার, গ্রামের বাড়ি যাতায়াতসহ নানা কারণে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির পরিববহনে যুক্ত হবে বাড়তি প্রায় ৬০ কোটি ট্রিপ।

রোজা ৩০টি হলে ১১ এপ্রিল ঈদ হতে পারে। ফলে ঈদের ছুটি থাকবে ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল। ঈদের আগে ১০ এপ্রিল মাত্র ১ দিন ছুটি থাকছে। ঈদের পরে ১৩ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার। পরদিন ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের ছুটি। ফলে ঈদের পর ৫ দিন ছুটি থাকছে। তবে ঈদের পরপরই পহেলা বৈশাখ হওয়ায় এবার ঈদযাত্রায় মুসলমানদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বীরাও বৈশাখ উদযাপনে বাড়ি গেলে বাড়বে যাত্রী সংখ্যা।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির ধারণা, ৯-১০ এপ্রিল প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ রাজধানী ছাড়বে। অথচ গণপরিবহনগুলোর সক্ষমতা ২২-২৫ লাখের মতো।

মোজাম্মেল বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ৮ ও ৯ এপ্রিল দুদিন ছুটি বাড়ালে ৫ এপ্রিল থেকে মানুষ ধাপে ধাপে বাড়ি যেতে পারবে। ফলে গণপরিবহন সংকট ও যাত্রী ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার হারও কমে আসবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব বলছে, ২০২৩ সালে ঈদুল ফিতরে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৮ নিহত ৫৬৫ জন আহত হয়েছে। এবার ঈদে ছুটি ব্যবস্থাপনা করা না গেলে যাত্রীর চাপ দ্বিগুণ থাকায় সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তে পারে।

এছাড়া সমিতির পক্ষ থেকে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর প্রতিটি সড়কের ফুটপাত হকার ও অবৈধ পার্কিং মুক্ত করার দাবি জানানো হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাস্তার মোড় পরিষ্কার রাখা এবং ছোট যানবাহন বিশেষ করে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক প্রধান সড়কে চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

মোজাম্মেল বলেন, “কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পরিবহন নেতাদের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন টোল পয়েন্টের কারণে জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট হয়।”

অতিরিক্ত যাত্রী ও বেশি ভাড়া আদায়ে প্রতিবছর সড়ক ও নৌ পথে ফিটনেসবিহীন-পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন করা হয়।  নৌ পথে পর্যাপ্ত বয়া-বাতি ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম থাকে না। এছাড়া একজন চালককে বিশ্রামহীনভাবে ১০-১২ ঘন্টা বিরামহীনভাবে যান চালাতে বাধ্য করায় এবং অদক্ষ চালক দিয়ে যানবাহন চালানোর কারণে সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রতি বছর ঈদে অনেক প্রাণহানি হয়।

অনলাইনে রেলের শতভাগ টিকেট বিক্রির কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়বে বলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি। তাদের আশঙ্কা, এসব টিকেট কালোবাজারিদের হাতে চলে যাবে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ নানা কারণে এবারের ঈদযাত্রার পথে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, টানাপার্টিসহ টার্মিনালে নানা প্রতারক চক্রের তৎপরতা বাড়বে বলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির শঙ্কা। তাই প্রতিটি বাস, লঞ্চ ও রেল স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist