Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

এন্ড্রু কিশোর, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ পাচ্ছেন একুশে পদক

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে একুশে পদক-২০২৪ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আইরীন ফারজানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। শিল্পকলার বিভিন্ন শ্রেণিতে ১১ জন পাচ্ছেন এই পদক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন চার লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।

এ বছর ভাষা আন্দোলন ক্যাটাগরিতে মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন ২ জন। তারা হলেন- মৌ. আশরাফুদ্দীন আহমদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া।

সংগীতে পাচ্ছেন জালাল উদ্দীন খাঁ (মরণোত্তর), বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, বিদিত লাল দাস (মরণোত্তর), এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর) ও শুভ্র দেব। অভিনয়ে পাচ্ছেন ডলি জহুর ও এমএ আলমগীর, আবৃতিতে খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (শিমুল মুস্তাফা) ও রূপা চক্রবর্তী। নৃত্যকলায় পাচ্ছেন শিবলী মোহাম্মদ এবং চিত্রকলায় শাহজাহান আহমেদ বিকাশ।

এবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিংয়ে একুশে পদক পাচ্ছেন কাওসার চৌধুরী, সমাজসেবায় মো. জিয়াউল হক ও আলহাজ রফিক আহামদ।

এছাড়া ভাষা ও সাহিত্যে এবার একুশে পদক পাচ্ছেন চার জন। তারা হলেন- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (মরণোত্তর), মুহাম্মদ সামাদ, লুৎফর রহমান রিটন ও মিনার মনসুর। শিক্ষায় প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু রয়েছেন এ তালিকায়।

তবে এবছর সাংবাদিকতায় কাউকে একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে না। গত বছর সাংবাদিকতায় এ পদক পেয়েছিলেন মো. শাহ আলমগীর (মরণোত্তর)।

একুশে পদককে বিবেচনা করা হয় বাংলাদেশের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে। আজীবন কৃতিত্ব ও অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

যেভাবে শুরু একুশে পদক

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক দেওয়া শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। প্রথম এই সম্মাননা পেয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। একই বছর কবি জসীম উদ্দিন ও বেগম সুফিয়া কামাল এই সম্মাননা পেয়েছিলেন। সে বছর শুধু সাহিত্য, শিক্ষা ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

পরের বছর তালিকায় যুক্ত হয় সঙ্গীত ও চারুকলা। এরপরে ধীরে ধীরে অন্যান্য নানা ক্ষেত্র যুক্ত হয়। বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ মোট ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রথম দুই দশকের কিছু বেশি সময় এই সম্মাননা দেওয়া হতো শুধু ব্যক্তিদের, তাদের কৃতিত্ব বা অবদানের জন্য। এখন গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকেও একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে।

পদকপ্রাপ্ত নির্বাচনের প্রক্রিয়া

২০১৯ সালের শেষ দিকে একুশে পদক সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরি হয়। নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি সাব-কমিটি রয়েছে।

সাব কমিটিতে থাকেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী, একই মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন, যাকে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদা সম্পন্ন বা তার উপরে হতে হয়।

এই কমিটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা, সব মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকদের কাছে নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এর আগে স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কেউও নাম প্রস্তাব করতে পারেন।

নাম প্রস্তাব করতে হলে ব্যক্তি সম্পর্কে ৩৫০ শব্দের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত দিতে হয়। এরপর জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বাছাই কমিটি, উভয়ে মিলে নাম চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠায়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist