Beta
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ

ভর্তুকির ৩ হাজার কোটি টাকা জরুরি ভিত্তিতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ

বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন
বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন

রমজানে ও গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তুকির টাকা চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। চলতি মাসের মধ্যেই ভর্তুকির তিন হাজার কোটি টাকা ছাড় করতে অর্থসচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

রমজানের আগে পাঠানো ওই চিঠির পর গত সপ্তাহে কিছু অর্থ ছাড় হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। যদিও চাহিদার বিপরীতে কী পরিমাণ অর্থ ছাড় হয়েছে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একজন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, ভর্তুকির অর্থ বরাদ্দ থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় তা চাহিদামতো ছাড় করে না। ফলে বকেয়ার পরিমাণ বেড়েছে।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি শেষে বকেয়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। এই বকেয়া পরিশোধে জরুরি ভিত্তিতে চলতি অর্থবছরের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা ভর্তুকির অবশিষ্ট ১৭ হাজার ৭০১ কোটি টাকা ছাড় করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

গত ৬ মার্চ অর্থ সচিবকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ ‍বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলেছে, “বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর স্থানীয় ঋণের বিপরীতে ১০ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা বন্ডের মাধ্যমে দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি এবং আদানিসহ ভারত থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়বাবদ মোট অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ ৪২ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।

“এছাড়াও সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি ও দেশীয় আমদানিনির্ভর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানির চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।”

রমজান, সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে অপরিশোধিত বিল পরিশোধে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ভর্তুকির অববিশিষ্ট ১৭ হাজার ৭০১ কোটি টাকা কিস্তিতে ছাড় করতে চিঠিতে একটি প্রস্তাবও দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

চিঠিতে ২০২৪ সালের মার্চে ৪ হাজার কোটি টাকা, এপ্রিলে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, মে মাসে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং জুন মাসে ৪ হাজার ৭০১ কোটি টাকা ছাড় করতে অনুরোধ জানানো হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে চলতি বছরের মার্চের ৪ হাজার কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে ভারতের আদানি পাওয়ারের পাওনা পরিশোধের জন্য ১৫০০ কোটি টাকা এবং দেশীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা অমদানির অপরিশোধিত বিল পরিশোধের জন্য ১৫০০ কোটি টাকা অর্থাৎ দুটো মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকা জরুরিভিত্তিতে ছাড় করার অনুরোধ জানায়। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, এ সপ্তাহে কিছু অর্থ ছাড় হয়েছে।

তবে কী পরিমাণ অর্থ ছাড় হয়েছে বা এ বিষয়ে আর কোনও তথ্য তিনি জানাননি।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভর্তুকির বরাদ্দ থেকে ছাড় হয়েছে ১৭ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা।

এখনও ভর্তুকির ১৭ হাজার ৭০১ কোটি টাকা ছাড় করা বাকি রয়েছে। এ অর্থই ছাড় করতে অনুরোধ করে চিঠি পাঠায় বিদ্যুৎ বিভাগ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist