Beta
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪

তরুণদের আন্দোলনে নামানো যায়নি, উপলব্ধি ফখরুলের

ফখরুল
রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

সরকার পতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির আন্দোলনে তরুণদের সঠিকভাবে সম্পৃক্ত করা যায়নি বলে মনে করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে দলটির মহাসমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে বুধবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনায় একথা বললেন তিনি। ওই সমাবেশকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিল দলটি।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হলেও শেষ পর্যন্ত মহাসমাবেশ সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পারেনি দলটি। ঢাকার অন্তত ছয়টি স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশে পুলিশ, আনসার সদস্য এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।

সেদিনর মহাসমাবেশের কথা তুলে ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে দেশের তরুণ সমাজকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “চলমান আন্দোলনে এত ত্যাগের পরেও আমার কাছে মনে হয় তরুণদেরকে আরও শক্ত হয়ে জেগে উঠতে হবে, যুবকদের জেগে উঠতে হবে। ২৮ তারিখের ঘটনার পরে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমরা তরুণদের বোধহয় সেভাবে নামাতে পারিনি।”

দেশের মানুষকে জাগিয়ে তোলা এখন দলের প্রধান কাজ বলেও মনে করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “মানুষকে আবারও সংগঠিত করতে হবে, জনগণকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, নিজের অধিকারের জন্য, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে।”

এসময় দলকে শক্তিশালী করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

তিনি বলেন, “বর্তমান বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে, বিশ্বপ্রেক্ষিতকে সামনে নিয়ে, সামগ্রিক অবস্থাকে সামনে নিয়ে আমাদের রাজনীতি, আমাদের কৌশল আবারো সেভাবে এগিয়ে নিতে হবে। যেভাবে গত দিনগুলোয় এগিয়েছি।”

বিএনপির স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটি আয়োজিত ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উদযাপনের আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।

সংগ্রাম বা আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম বা আন্দোলনেরও কোনও বিকল্প নেই।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনকে শক্তিশালী করে সংগ্রাম জোরদার করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের জমি দখল, ব্যবসা-বাণিজ্য দখলসহ নেতাকর্মীদের সন্তানদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে; এমন অভিযোগও করেন বিএনপি মহাসচিব।

একে বর্ণবাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “দেশটাকে তারা দুইটি ভাগ করে ফেলেছে। একটা ভাগ হচ্ছে আওয়ামী লীগ, আরেকটা হলো বিরোধী দল। এই অবস্থা তৈরি করে তারা এই দেশে নিজেরাই সাম্প্রদায়িক একটা অবস্থা তৈরি করেছে।

“তারা আবার দাবি করে কালকেও বলেছে যে, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে তাদের নাকি এই জেহাদ সব সময় অব্যাহত থাকবে। যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে, যারা নিজেরা গোষ্ঠি তৈরি করেছে, বর্ণবাদ সৃষ্টি করছে তাদের মুখে একথা শোভা পায় না। শুধু কথা বলে, মানুষের সম্পদ লুট করে, মানুষকে সর্বশান্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না।”

নিজের বক্তব্যে শিক্ষা ব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।”

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ফজলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist