Beta
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

কৃষকের ৮০ টাকার পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারেই ১২০ টাকা

09-12-23-Onion Market Dhaka-2
Picture of আঞ্চলিক প্রতিবেদক, ফরিদপুর

আঞ্চলিক প্রতিবেদক, ফরিদপুর

অনুকূল আবহাওয়া ও দাম ভালো পাওয়ায় দিন দিন কৃষক পেঁয়াজের আবাদ বাড়াচ্ছেন। তবে মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি ও ব্যবসায়ীরাই লাভ বেশি তুলে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ বরাবরের। আর বাজার মনিটরও সেই অর্থে নেই। স্থানীয় পর্যায়ের কৃষি বিপণন কর্মকর্তারা বলছেন, লোকবল সংকটে তারা বাজার ঠিকমতো মনিটর করতে পারছেন না। ফলে দেশে বেশি উৎপাদনের সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

মাদারীপুরে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও স্থানীয় বাজারেই ক্রেতাদের তা কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়।

জেলার কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মৃধারমোড় এলাকার পেঁয়াজ চাষী মজিবর মহাজন। তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। শীতের শুরু থেকেই পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করছেন। শুরুতে প্রতিকেজি পেঁয়াজ পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই ১০০-১১০ টাকায় কিনে নিয়েছেন। এখন শেষের দিকে এসেও প্রতিকেজি পেঁয়াজ প্রকার ভেদে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি করছেন মজিবর। তিনি জানালেন, ভারতীয় পেঁয়াজ দেশে না আসায় এবার পেঁয়াজের দাম একটু বেশিই পেয়েছেন।

শুধু মজিবরই নয়, তার মতো আরও অনেক চাষীই এবার বলছেন, তারা বেশ ভালো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। এভাবে বাজার থাকলে আগামীতে তারা পেঁয়াজ চাষ করতে আরও আগ্রহী হবেন।

কালকিনির আরেক পেঁয়াজ চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিদেশি পেঁয়াজ এখন দেশে খুব কম পাওয়া যায়। তাই এবার আমি পেঁয়াজের দাম গত কয়েক বছরের চেয়ে বেশি পেয়েছি।

“প্রতিকেজি পেঁয়াজ আমি এখন ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। কিন্তু ক্রেতা পর্যায়ে বাজারে এই পেঁয়াজই ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

আরেক চাষী জাহাঙ্গীর মহাজন বলেন, “প্রতি বছরই আমরা পেঁয়াজে লোকসান গুনি। কিন্তু এবছর একটু দাম ভালো পাইছি।

“কিন্তু আমরা যে দামে বিক্রি করি ক্রেতারা তার চেয়ে অনেক বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে থাকে। এখানে মধ্যখানে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বড় একটা অঙ্ক লাভ করে।”

প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা গত কয়েক বছরের মধ্যে পেঁয়াজের দাম সবচেয়ে বেশি পেলেও এই দামকে পুঁজি করে স্থানীয় বাজারে ক্রেতা পর্যায়ে কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ।  

মাদারীপুর পৌর কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, “আড়ত থেকে মুড়িকাটা পেঁয়াজই পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো কিনে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে কেজিতে ১০-১৫ টাকা লাভ থাকে। মাঝের অন্য পক্ষই বাকি লাভ তুলে নেয়।”  

একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী দিলিপ দাস বলেন, “দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি। আড়ত থেকে যেভাবে আমরা পাই, সেই দাম অনুযায়ী কিছু লাভে বিক্রি করি। দাম আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না।”   

পেঁয়াজের বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তারা।

বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সংকটকেই দায়ী করেন মাদারীপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বাবুল হোসেন। তিনি জানান, তারা সীমিত জনবল, একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী দিয়েই বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

“কোনও অভিযোগ পেলে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে অভিযান পরিচালনা করি। আমরা জেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে পেঁয়াজের দাম ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা চেষ্টা করছি।”

এবছর জেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে জানিয়ে মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সন্তোষ চন্দ্র চন্দ বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় পেঁয়াজ চাষ দিন দিন বাড়ছে।”

তিনি জানান, চলতি বছর মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে পেয়াজের চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১২ মেট্রিক টন ধরে গড়ে ৫৭ হাজার  ৩৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।  

এবার পেঁয়াজের কোথাও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা দামও ভালো পাচ্ছেন বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত